ঢাকা ০৩:০৭ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২৫ অগাস্ট ২০২৬, ১০ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম ::

কর্মী হত্যাকাণ্ডের বিচার চেয়ে রাস্তায় নেমেছে স্বতন্ত্র প্রার্থীর সমর্থকরা

  • প্রতিনিধির নাম
  • আপডেট সময় : ১১:৫৯:৫৯ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ১৯ জানুয়ারী ২০২৬
  • ২১০ বার পড়া হয়েছে

কর্মী হত্যাকাণ্ডের বিচার চেয়ে রাস্তায় নেমেছে স্বতন্ত্র প্রার্থীর সমর্থকরা

ময়মনসিংহের ধোবাউড়ায় নির্বাচনী প্রচারকে কেন্দ্র করে নজরুল ইসলামকে হত্যার বিচারের দাবিতে ফুঁসে উঠেছেন স্বতন্ত্র প্রার্থীর কর্মী-সমর্থকরা। গতকাল রোববার বিকেলে হত্যাকাণ্ডে জড়িতদের বিচারের দাবিতে মানববন্ধন করেছেন তারা।

হালুয়াঘাট বাসস্ট্যান্ড-সংলগ্ন সড়কে আয়োজিত মানববন্ধনে মানুষের উপস্থিতি ছিল নজরকাড়া। বেলা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে লোকসমাগম বাড়তে থাকে এবং একপর্যায়ে ৫ কিলোমিটার এলাকা লোকে লোকারণ্য হয়ে যায়। মানববন্ধনটি ব্র্যাক অফিস-সংলগ্ন ট্রাকস্ট্যান্ড থেকে উত্তর বাজার পর্যন্ত ছাড়িয়ে যায়। মানববন্ধনে অংশ নেন প্রায় ২০-২৫ হাজার মানুষ।

মানববন্ধনে বক্তব্য দেন ময়মনসিংহ-১ (হালুয়াঘাট ধোবাউড়া) আসনের স্বতন্ত্র প্রার্থী ও বিএনপি নেতা সালমান ওমর রুবেল। বিএনপির প্রার্থীর বিরুদ্ধে অভিযোগ তুলে তিনি বলেন, ‘আমাকে হত্যার উদ্দেশ্যেই এমরান সালেহ প্রিন্সের লোকজন সেদিন হামলা করেছিল। টার্গেট ছিলাম আমি নিজেই। যেখানে নজরুলকে হত্যা করা হয়েছে, সেখানে আমারও থাকার কথা ছিল। শুধু ব্যক্তিগত কারণে আমি সময়মতো পৌঁছাতে পারিনি। তারা আমাকে পেলে সেখানেই মেরে ফেলত।’ তিনি আরও যোগ করেন, ‘আমি প্রার্থী হওয়ার পর থেকেই এমরান সালেহ প্রিন্সের লোকজন আমাকে হত্যার হুমকি দিয়ে আসছে। আমি বিষয়টি শুরু থেকেই প্রশাসনকে জানিয়ে আসছি। বিএনপির প্রার্থীর মূল উদ্দেশ্য ছিল আমাকে হত্যা করে নির্বাচন থেকে সরিয়ে দেওয়া।’

কমিশনের প্রতি জোরালো অনুরোধ জানিয়ে এই স্বতন্ত্র প্রার্থী বলেন, প্রশাসন বারবার আশ্বস্ত করেছে যে তারা একটি সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ নির্বাচন উপহার দেবে। তাঁর চাওয়া দ্রুততম সময়ের মধ্যে এই হত্যাকাণ্ডের বিচার নিশ্চিত করা হোক।

NEW21
NEW21

তবে বিএনপি প্রার্থী সৈয়দ এমরান সালেহ প্রিন্স বলেন, ‘সালমান ওমর রুবেল দিশেহারা হয়ে এমন বক্তব্য দিয়েছেন। এমরান সালেহ প্রিন্স কখনও নেতিবাচক রাজনীতি করেন না। সেখানে কোনো রাজনৈতিক প্রোগ্রাম হবে কিনা এটা আমার জানা ছিল না, ঘটনার পরে আমি বিস্তারিত শুনেছি। এই কথাগুলো রাস্তায় বলে সস্তা সিমপ্যাথি (সহানুভূতি) আদায় করার চেষ্টা করা হচ্ছে।’

অতিরিক্ত পুলিশ সুপার আশরাফুল করিম জানিয়েছেন, শনিবার দুপুরে নিহত নজরুল ইসলামের ছেলে সোলায়মান ধোবাউড়া থানায় ৩৮ জনের নাম উল্লেখ করে এবং অজ্ঞাতপরিচয় ২৫ জনকে আসামি করে মামলা করেছেন।

এলাকায় শান্তিশৃঙ্খলা বজায় রাখতে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে। ঘটনায় জড়িত সন্দেহে ৩ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। মামলার প্রধান আসামিদের ধরতে অভিযান অব্যাহত রয়েছে।

উল্লেখ্য, গত ১৬ জানুয়ারি সন্ধ্যায় ঘোষগাঁও ইউনিয়নের এরশাদ বাজারে সালমান ওমর রুবেলের একটি নির্বাচনী অফিস উদ্বোধন নিয়ে নজরুল ইসলামকে হত্যা করা হয়। অভিযোগ রয়েছে, বিএনপির প্রার্থী প্রিন্সের সমর্থকরা নজরুলের ওপর হামলা করেন। চাকুর আঘাতে ঘটনাস্থলেই প্রাণ হারান নজরুল।

ট্যাগস :

এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি, অডিও, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার বেআইনি।

লিবিয়ার তদ্রু থেকে সমুদ্রযাত্রা, ৩৮ দিনেও সন্ধান নেই সোহেল রানার

কর্মী হত্যাকাণ্ডের বিচার চেয়ে রাস্তায় নেমেছে স্বতন্ত্র প্রার্থীর সমর্থকরা

আপডেট সময় : ১১:৫৯:৫৯ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ১৯ জানুয়ারী ২০২৬

ময়মনসিংহের ধোবাউড়ায় নির্বাচনী প্রচারকে কেন্দ্র করে নজরুল ইসলামকে হত্যার বিচারের দাবিতে ফুঁসে উঠেছেন স্বতন্ত্র প্রার্থীর কর্মী-সমর্থকরা। গতকাল রোববার বিকেলে হত্যাকাণ্ডে জড়িতদের বিচারের দাবিতে মানববন্ধন করেছেন তারা।

হালুয়াঘাট বাসস্ট্যান্ড-সংলগ্ন সড়কে আয়োজিত মানববন্ধনে মানুষের উপস্থিতি ছিল নজরকাড়া। বেলা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে লোকসমাগম বাড়তে থাকে এবং একপর্যায়ে ৫ কিলোমিটার এলাকা লোকে লোকারণ্য হয়ে যায়। মানববন্ধনটি ব্র্যাক অফিস-সংলগ্ন ট্রাকস্ট্যান্ড থেকে উত্তর বাজার পর্যন্ত ছাড়িয়ে যায়। মানববন্ধনে অংশ নেন প্রায় ২০-২৫ হাজার মানুষ।

মানববন্ধনে বক্তব্য দেন ময়মনসিংহ-১ (হালুয়াঘাট ধোবাউড়া) আসনের স্বতন্ত্র প্রার্থী ও বিএনপি নেতা সালমান ওমর রুবেল। বিএনপির প্রার্থীর বিরুদ্ধে অভিযোগ তুলে তিনি বলেন, ‘আমাকে হত্যার উদ্দেশ্যেই এমরান সালেহ প্রিন্সের লোকজন সেদিন হামলা করেছিল। টার্গেট ছিলাম আমি নিজেই। যেখানে নজরুলকে হত্যা করা হয়েছে, সেখানে আমারও থাকার কথা ছিল। শুধু ব্যক্তিগত কারণে আমি সময়মতো পৌঁছাতে পারিনি। তারা আমাকে পেলে সেখানেই মেরে ফেলত।’ তিনি আরও যোগ করেন, ‘আমি প্রার্থী হওয়ার পর থেকেই এমরান সালেহ প্রিন্সের লোকজন আমাকে হত্যার হুমকি দিয়ে আসছে। আমি বিষয়টি শুরু থেকেই প্রশাসনকে জানিয়ে আসছি। বিএনপির প্রার্থীর মূল উদ্দেশ্য ছিল আমাকে হত্যা করে নির্বাচন থেকে সরিয়ে দেওয়া।’

কমিশনের প্রতি জোরালো অনুরোধ জানিয়ে এই স্বতন্ত্র প্রার্থী বলেন, প্রশাসন বারবার আশ্বস্ত করেছে যে তারা একটি সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ নির্বাচন উপহার দেবে। তাঁর চাওয়া দ্রুততম সময়ের মধ্যে এই হত্যাকাণ্ডের বিচার নিশ্চিত করা হোক।

NEW21
NEW21

তবে বিএনপি প্রার্থী সৈয়দ এমরান সালেহ প্রিন্স বলেন, ‘সালমান ওমর রুবেল দিশেহারা হয়ে এমন বক্তব্য দিয়েছেন। এমরান সালেহ প্রিন্স কখনও নেতিবাচক রাজনীতি করেন না। সেখানে কোনো রাজনৈতিক প্রোগ্রাম হবে কিনা এটা আমার জানা ছিল না, ঘটনার পরে আমি বিস্তারিত শুনেছি। এই কথাগুলো রাস্তায় বলে সস্তা সিমপ্যাথি (সহানুভূতি) আদায় করার চেষ্টা করা হচ্ছে।’

অতিরিক্ত পুলিশ সুপার আশরাফুল করিম জানিয়েছেন, শনিবার দুপুরে নিহত নজরুল ইসলামের ছেলে সোলায়মান ধোবাউড়া থানায় ৩৮ জনের নাম উল্লেখ করে এবং অজ্ঞাতপরিচয় ২৫ জনকে আসামি করে মামলা করেছেন।

এলাকায় শান্তিশৃঙ্খলা বজায় রাখতে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে। ঘটনায় জড়িত সন্দেহে ৩ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। মামলার প্রধান আসামিদের ধরতে অভিযান অব্যাহত রয়েছে।

উল্লেখ্য, গত ১৬ জানুয়ারি সন্ধ্যায় ঘোষগাঁও ইউনিয়নের এরশাদ বাজারে সালমান ওমর রুবেলের একটি নির্বাচনী অফিস উদ্বোধন নিয়ে নজরুল ইসলামকে হত্যা করা হয়। অভিযোগ রয়েছে, বিএনপির প্রার্থী প্রিন্সের সমর্থকরা নজরুলের ওপর হামলা করেন। চাকুর আঘাতে ঘটনাস্থলেই প্রাণ হারান নজরুল।