ঢাকা ১২:৫৪ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ১৩ অক্টোবর ২০২৬, ২৮ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম ::
বাংলাদেশ সনাতন আইনজীবী পরিষদের আহ্বায়ক তরুন, সদস্য সচিব সফল দাশ গণমাধ্যমের স্বাধীনতার পাশাপাশি জনগণের অধিকার সুরক্ষাও জরুরি : তথ্য প্রতিমন্ত্রী ৭৭ বছরের ভারতীয়ের চ্যাটজিপিটিকে ‘স্যার’ ডেকে ভাইরাল হওয়ার কাহিনি টঙ্গীতে ১৫ হাজার পিস ইয়াবাসহ নারী মাদক কারবারি আটক টেনেসিতে মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের পরও বেঁচে আছেন ক্রিস্টা পাইক নেত্রকোনায় ব্যবসায়ীর শরীরে পেট্রোল ঢেলে আগুন দেওয়ার অভিযোগ হইচইয়ের নতুন সিরিজ ‘শলাকা রহস্য’ প্রকাশ্যে, তৃণা সাহার পোস্টার উন্মোচন জামালপুরে রাষ্ট্রীয় মর্যাদা ছাড়াই বীর মুক্তিযোদ্ধার দাফন সম্পন্ন মতলবে ট্রাক্টরের ধাক্কায় তরুণের মৃত্যু সালমান মুক্তাদিরের শ্বশুর শেখ নূর ইসলামের ব্যাংক লেনদেন নিয়ে তদন্ত শুরু

গণপূর্তের জমিতে কোরালরীফ-এর অবৈধ স্থাপনা করে কোটি টাকার বাণিজ্য

কক্সবাজার শহরের কলাতলী হোটেল-মোটেল জোনের সুগন্ধা এলাকায় সরকারি জমি দখল করে গড়ে উঠেছে কোটি টাকার অবৈধ ব্যবসা। গণপূর্ত অধিদফতরের মালিকানাধীন সবুজায়নের জন্য সংরক্ষিত জমি দখল করে স্থাপনা নির্মাণ করে বাণিজ্য চালিয়ে যাচ্ছেন হোটেল কোরালরীফ প্লাজার মালিক এনামুল হক নামের এক প্রভাবশালী ব্যবসায়ী।

সরেজমিনে গিয়ে দেখা গেছে, হোটেল-মোটেল জোনে গণপূর্ত অধিদফতর থেকে বরাদ্দ পাওয়া প্রায় পাঁচ কাটা জমিতে প্রথমে ভবন নির্মাণ করে গড়ে তোলা হয় ‘হোটেল কোরালরীফ’। পরে চট্টগ্রামের লোহাগাড়া উপজেলার বড় হাতিয়া এলাকার বাসিন্দা এনামুল হক জমিসহ পুরো ভবনটি কিনে নেন।

এরপর ভবনের পাশে অবস্থিত গণপূর্ত অধিদফতরের আওতাধীন সবুজায়নের জন্য সংরক্ষিত সরকারি জমি দখল করে সেখানে স্থায়ী স্থাপনা নির্মাণ শুরু করেন তিনি। এক সময়ের সবুজ বাগান এখন কংক্রিটের দখলে। অভিযোগ রয়েছে, ওই জায়গার একাংশে তিনি ১০ লক্ষ টাকা সালামি নিয়ে মাসে ১৫ হাজার টাকায় একটি ওষুধের দোকান ভাড়া দিয়েছেন।

আর অন্য পাশে সরকারি জমি দখল করে স্থাপনা তৈরি করে ‘ধানসিঁড়ি রেস্টুরেন্ট’ নামের একটি প্রতিষ্ঠানকে এক কোটি বিশ লক্ষ টাকা সালামি ও মাসিক এক লক্ষ পঞ্চাশ হাজার টাকা ভাড়ায় ভাড়া দিয়েছেন দখলদার এনামুল হক। দখল করা জায়গার অবশিষ্ট অংশ এখন হোটেলটির গাড়ি পার্কিং হিসেবে ব্যবহার করা হচ্ছে।

স্থানীয়দের অভিযোগ, সরকারি জায়গা দখল করে ব্যবসা পরিচালনা করলেও প্রশাসনের কোনো তৎপরতা দেখা যাচ্ছে না।
হোটেল-মোটেল জোনের একাধিক ব্যবসায়ী নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, গণপূর্তের কর্মকর্তাদের ম্যানেজ করেই এনামুল হক সবুজায়নের সরকারি জমি দখল করে স্থাপনা তৈরি করেছেন। এখন কোটি টাকার ভাড়ার ব্যবসা চলছে প্রকাশ্যে।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে হোটেল কোরালরীফের মালিক এনামুল হক জানান, তিনি এই বিষয়গুলো দেখেন না, জৈনক আব্দুর রহমান নামের একজন ব্যক্তি সব পরিচালনা করেন, বলে তিনি ফোন কেটে দেন।

অন্যদিকে গণপূর্ত অধিদফতর কক্সবাজারের নির্বাহী প্রকৌশলী মোহাম্মদ শাহাজাহান বলেন, বিষয়টি আমার জানা নেই। তবে খোঁজ নিয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

এদিকে স্থানীয়দের মধ্যে ক্ষোভ ও বিরূপ প্রতিক্রিয়া দেখা দিয়েছে। তারা বলছেন, সরকারি সম্পত্তি দখল করে কিছু প্রভাবশালী ব্যক্তি অবৈধ স্থাপনা তৈরি করে বাণিজ্য চালিয়ে গেলেও প্রশাসন রহস্যজনকভাবে নীরব।

এমনকি হোটেল-মোটেল জোনের মালিক সমিতির এক নেতা অভিযোগ করে বলেন, এভাবে একের পর এক সৌন্দর্যের জন্য সবুজায়ন করার জমি দখল করে ব্যবসা চালালে হোটেল-মোটেল জোনের সৌন্দর্য নষ্ট হয়ে যাবে। প্রশাসনের উচিত দ্রুত অবৈধ স্থাপনাগুলো উচ্ছেদ করা।

স্থানীয় পর্যটন পর্যবেক্ষক মহল মনে করছে, এভাবে যদি সরকারি সংরক্ষিত সবুজায়ানের জন্য বরাদ্ধ জমি একে একে দখল হয়ে যায়, তাহলে পর্যটন নগরী কক্সবাজারের প্রাকৃতিক পরিবেশ ও সৌন্দর্য মারাত্মক হুমকির মুখে পড়বে।

ট্যাগস :

এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি, অডিও, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার বেআইনি।

জনপ্রিয় সংবাদ

বাংলাদেশ সনাতন আইনজীবী পরিষদের আহ্বায়ক তরুন, সদস্য সচিব সফল দাশ

গণপূর্তের জমিতে কোরালরীফ-এর অবৈধ স্থাপনা করে কোটি টাকার বাণিজ্য

আপডেট সময় : ০৭:৫৭:৩৮ অপরাহ্ন, সোমবার, ২৭ অক্টোবর ২০২৫

কক্সবাজার শহরের কলাতলী হোটেল-মোটেল জোনের সুগন্ধা এলাকায় সরকারি জমি দখল করে গড়ে উঠেছে কোটি টাকার অবৈধ ব্যবসা। গণপূর্ত অধিদফতরের মালিকানাধীন সবুজায়নের জন্য সংরক্ষিত জমি দখল করে স্থাপনা নির্মাণ করে বাণিজ্য চালিয়ে যাচ্ছেন হোটেল কোরালরীফ প্লাজার মালিক এনামুল হক নামের এক প্রভাবশালী ব্যবসায়ী।

সরেজমিনে গিয়ে দেখা গেছে, হোটেল-মোটেল জোনে গণপূর্ত অধিদফতর থেকে বরাদ্দ পাওয়া প্রায় পাঁচ কাটা জমিতে প্রথমে ভবন নির্মাণ করে গড়ে তোলা হয় ‘হোটেল কোরালরীফ’। পরে চট্টগ্রামের লোহাগাড়া উপজেলার বড় হাতিয়া এলাকার বাসিন্দা এনামুল হক জমিসহ পুরো ভবনটি কিনে নেন।

এরপর ভবনের পাশে অবস্থিত গণপূর্ত অধিদফতরের আওতাধীন সবুজায়নের জন্য সংরক্ষিত সরকারি জমি দখল করে সেখানে স্থায়ী স্থাপনা নির্মাণ শুরু করেন তিনি। এক সময়ের সবুজ বাগান এখন কংক্রিটের দখলে। অভিযোগ রয়েছে, ওই জায়গার একাংশে তিনি ১০ লক্ষ টাকা সালামি নিয়ে মাসে ১৫ হাজার টাকায় একটি ওষুধের দোকান ভাড়া দিয়েছেন।

আর অন্য পাশে সরকারি জমি দখল করে স্থাপনা তৈরি করে ‘ধানসিঁড়ি রেস্টুরেন্ট’ নামের একটি প্রতিষ্ঠানকে এক কোটি বিশ লক্ষ টাকা সালামি ও মাসিক এক লক্ষ পঞ্চাশ হাজার টাকা ভাড়ায় ভাড়া দিয়েছেন দখলদার এনামুল হক। দখল করা জায়গার অবশিষ্ট অংশ এখন হোটেলটির গাড়ি পার্কিং হিসেবে ব্যবহার করা হচ্ছে।

স্থানীয়দের অভিযোগ, সরকারি জায়গা দখল করে ব্যবসা পরিচালনা করলেও প্রশাসনের কোনো তৎপরতা দেখা যাচ্ছে না।
হোটেল-মোটেল জোনের একাধিক ব্যবসায়ী নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, গণপূর্তের কর্মকর্তাদের ম্যানেজ করেই এনামুল হক সবুজায়নের সরকারি জমি দখল করে স্থাপনা তৈরি করেছেন। এখন কোটি টাকার ভাড়ার ব্যবসা চলছে প্রকাশ্যে।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে হোটেল কোরালরীফের মালিক এনামুল হক জানান, তিনি এই বিষয়গুলো দেখেন না, জৈনক আব্দুর রহমান নামের একজন ব্যক্তি সব পরিচালনা করেন, বলে তিনি ফোন কেটে দেন।

অন্যদিকে গণপূর্ত অধিদফতর কক্সবাজারের নির্বাহী প্রকৌশলী মোহাম্মদ শাহাজাহান বলেন, বিষয়টি আমার জানা নেই। তবে খোঁজ নিয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

এদিকে স্থানীয়দের মধ্যে ক্ষোভ ও বিরূপ প্রতিক্রিয়া দেখা দিয়েছে। তারা বলছেন, সরকারি সম্পত্তি দখল করে কিছু প্রভাবশালী ব্যক্তি অবৈধ স্থাপনা তৈরি করে বাণিজ্য চালিয়ে গেলেও প্রশাসন রহস্যজনকভাবে নীরব।

এমনকি হোটেল-মোটেল জোনের মালিক সমিতির এক নেতা অভিযোগ করে বলেন, এভাবে একের পর এক সৌন্দর্যের জন্য সবুজায়ন করার জমি দখল করে ব্যবসা চালালে হোটেল-মোটেল জোনের সৌন্দর্য নষ্ট হয়ে যাবে। প্রশাসনের উচিত দ্রুত অবৈধ স্থাপনাগুলো উচ্ছেদ করা।

স্থানীয় পর্যটন পর্যবেক্ষক মহল মনে করছে, এভাবে যদি সরকারি সংরক্ষিত সবুজায়ানের জন্য বরাদ্ধ জমি একে একে দখল হয়ে যায়, তাহলে পর্যটন নগরী কক্সবাজারের প্রাকৃতিক পরিবেশ ও সৌন্দর্য মারাত্মক হুমকির মুখে পড়বে।