ঢাকা ০৪:১৩ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ২০ এপ্রিল ২০২৬, ৬ বৈশাখ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম ::
অতিরিক্ত কাজকে স্বাভাবিক ভাবা—এই প্রবণতা বন্ধ করা এখন জরুরি মমতার দলের সাবেক সাংসদ দীনেশ ত্রিবেদী হচ্ছেন বাংলাদেশে ভারতের নতুন রাষ্ট্রদূত শিবিরের সাবেক নেতাদের এনসিপিতে ফেরার হিড়িক সেন্ট যোসেফ ইন্টারন্যাশনাল স্কুল’ SIIS Literary Club’ -এর উদ্যোগে অনুষ্ঠিত হলো চার দিনব্যাপী National Literature Festival 2026 বগুড়ায় নীরব ভোট, শেরপুর-৩ এ জামায়াতের বর্জন—নির্বাচনে ছায়া উত্তেজনা কুমিল্লা বাসস্ট্যান্ডে ভয়াবহ আগুনে ৩ বাস ভস্মীভূত চিকিৎসার জন্য দেশের বাইরে যাচ্ছেন সোহেল রানা অধ্যাদেশ ইস্যুতে উত্তাপ, ড. ইউনূসকে রাস্তায় নামতে বললেন নাহিদ নববর্ষে পরিবর্তন, ‘মঙ্গল’–‘আনন্দ’ ছেঁটে ‘বৈশাখী শোভাযাত্রা’ ঘোষণা ঘোড়া বিক্রি নিয়ে বিভ্রান্তিকর সংবাদ: ওসি খন্দকার নাসির উদ্দিনের প্রতিবাদ

যেমন ছিল পূর্ববর্তী নবীদের রোজা

  • MEGHLA
  • আপডেট সময় : ০১:৫৫:২৯ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৬ মার্চ ২০২৫
  • ৭০ বার পড়া হয়েছে

হিজরি বর্ষের নবম মাস রমজান। রমজান সব মাসের শ্রেষ্ঠ। ইসলামের অন্যতম বিধান রোজা এ মাসে পালিত হয়। রোজার বিধান শুধু নবী মুহাম্মদ (সা.)-এর ওপরই ফরজ হয়নি, বরং এর সূচনা হয় পূর্ববর্তী নবীদের সময় থেকে।

কোরআনে ইরশাদ হয়েছে, ‘হে মুমিনরা, তোমাদের ওপর রোজা ফরজ করা হয়েছে, যেমনটি তোমাদের পূর্ববর্তী উম্মতের ওপর ফরজ করা হয়েছিল।’
(সুরা : বাকারাহ, আয়াত : ১৮৩)

তবে রোজার বিধান এক হলেও ধরনে ছিল ভিন্নতা। নিম্নে পূর্ববর্তী নবীদের রোজার ধরন তুলে ধরা হলো-

১. আদম (আ.)-এর রোজা : আদম (আ.) পৃথিবীর প্রথম মানব ও প্রথম নবী। তিনিই প্রথম রোজা পালন করেন। তাঁর রোজা কেমন ছিল সে ব্যাপারে কোরআন, হাদিস ও ইতিহাস থেকে সুস্পষ্ট ধারণা পাওয়া যায় না। তবে তিনি যে রোজা রেখেছিলেন তা জানা যায়। আল্লাহ তাআলা আদম (আ.)-কে একটি নিষিদ্ধ গাছের ফল খেতে নিষেধ করেন। কিন্তু তিনি সেই গাছের ফল আহার করে ফেলেন।

পরক্ষণেই আল্লাহ তাঁকে সতর্ক করেন এবং পৃথিবীতে নামিয়ে দেন। এদিকে নিষিদ্ধ গাছের ফল দেহের রং পাল্টে দেয়; দেহ কৃষ্ণবর্ণ ধারণ করে। বিষয়টি আদম (আ.)-কে বিচলিত করে। তখন আল্লাহ তাআলা জিবরাইল (আ.)-কে প্রেরণ করেন। জিবরাইল (আ.) বললেন, আপনি কি চান আপনার দেহ শুভ্রতা ফিরে পাক? তিনি বললেন, হ্যাঁ। জিবরাইল (আ.) বললেন, তাহলে প্রতি মাসের ১৩, ১৪ ও ১৫ তারিখে রোজা রাখুন। তিনি রোজা রাখা শুরু করলে প্রথম দিনে শরীরের এক-তৃতীয়াংশ শুভ্র হয়ে যায়, দ্বিতীয় ও তৃতীয় দিন একই পরিমাণ শুভ্রতা ফিরে পায়। তখন থেকেই তিনি এ রোজা রাখতে শুরু করেন। এ রোজার নাম রাখা হয় ‘আইয়ামে বিজ’। (ফতহুল বারি : ৪/১২৩)

২. নুহ (আ.)-এর রোজা : তিনি ছিলেন প্রথম রাসুল তথা শরিয়তপ্রাপ্ত প্রথম নবী। তাঁর নামেই কোরআনে অবতীর্ণ হয়েছে সুরা নুহ। নুহ (আ.)-এর ব্যাপারে হাদিসে পাওয়া যায়, তিনি ঈদুল ফিতর ও ঈদুল আজহার দিন ছাড়া সারা বছরই রোজা রাখতেন। (সুনানে ইবনে মাজাহ, হাদিস : ১৭১৪)।

৩. ইবরাহিম (আ.)-এর রোজা : শেষ নবী মুহাম্মদ (সা.)-এর পূর্বপুরুষ হলেন ইবরাহিম (আ.)। যার বংশ থেকে অসংখ্য নবী-রাসুল এসেছেন। ইতিহাস থেকে জানা যায়, ইবরাহিম (আ.)-ও প্রতি মাসে তিনটি রোজা রাখতেন। এ ব্যাপারে তিনি আদম (আ.)-এর অনুসরণ করতেন। (সুনানে ইবনে মাজাহ)।

৪. দাউদ (আ.)-এর রোজা : দাউদ (আ.) ছিলেন একজন নবী ও ন্যায়পরায়ণ শাসক। কোরআনে যাকে আল্লাহর প্রতিনিধি বলা হয়েছে। তাঁর ওপর অবতীর্ণ হয়েছিল আসমানি কিতাব জাবুর। তাঁর রোজার প্রশংসা করে নবীজি (সা.) বলেন, ‘আল্লাহ তাআলার নিকট অধিকতর প্রিয় রোজা হচ্ছে দাউদ (আ.)-এর রোজা। তিনি এক দিন রোজা রাখতেন এবং এক দিন রোজা রাখতেন না।’ (সহিহ বুখারি, হাদিস : ৩৪২০)।

৫. সুলাইমান (আ.)-এর রোজা : নবী সুলাইমান (আ.) প্রতি মাসে ৯টি করে রোজা রাখতেন। মাসের প্রথম দশকে তিনটি, মাঝের দশকে তিনটি ও শেষ দশকে তিনটি। (কানজুল উম্মাল, হাদিস : ২৪৬২৪)।

৬. ঈসা (আ.)-এর রোজা : আল্লাহ তাআলা তাঁকে অনেক মুজিজা প্রদান করেছেন। তিনি নিজে বিভিন্ন জিনিস আহার করা থেকে বিরত থাকতেন। যেমন- মাছ ব্যতীত পাখি, গোশত ও প্রাণ আছে এমন সব প্রাণী। আর এটাই ছিল তাঁর রোজা। (তাফসিরে তাবারি : ৩/৪১১)।

ট্যাগস :

এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি, অডিও, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার বেআইনি।

জনপ্রিয় সংবাদ

অতিরিক্ত কাজকে স্বাভাবিক ভাবা—এই প্রবণতা বন্ধ করা এখন জরুরি

যেমন ছিল পূর্ববর্তী নবীদের রোজা

আপডেট সময় : ০১:৫৫:২৯ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৬ মার্চ ২০২৫

হিজরি বর্ষের নবম মাস রমজান। রমজান সব মাসের শ্রেষ্ঠ। ইসলামের অন্যতম বিধান রোজা এ মাসে পালিত হয়। রোজার বিধান শুধু নবী মুহাম্মদ (সা.)-এর ওপরই ফরজ হয়নি, বরং এর সূচনা হয় পূর্ববর্তী নবীদের সময় থেকে।

কোরআনে ইরশাদ হয়েছে, ‘হে মুমিনরা, তোমাদের ওপর রোজা ফরজ করা হয়েছে, যেমনটি তোমাদের পূর্ববর্তী উম্মতের ওপর ফরজ করা হয়েছিল।’
(সুরা : বাকারাহ, আয়াত : ১৮৩)

তবে রোজার বিধান এক হলেও ধরনে ছিল ভিন্নতা। নিম্নে পূর্ববর্তী নবীদের রোজার ধরন তুলে ধরা হলো-

১. আদম (আ.)-এর রোজা : আদম (আ.) পৃথিবীর প্রথম মানব ও প্রথম নবী। তিনিই প্রথম রোজা পালন করেন। তাঁর রোজা কেমন ছিল সে ব্যাপারে কোরআন, হাদিস ও ইতিহাস থেকে সুস্পষ্ট ধারণা পাওয়া যায় না। তবে তিনি যে রোজা রেখেছিলেন তা জানা যায়। আল্লাহ তাআলা আদম (আ.)-কে একটি নিষিদ্ধ গাছের ফল খেতে নিষেধ করেন। কিন্তু তিনি সেই গাছের ফল আহার করে ফেলেন।

পরক্ষণেই আল্লাহ তাঁকে সতর্ক করেন এবং পৃথিবীতে নামিয়ে দেন। এদিকে নিষিদ্ধ গাছের ফল দেহের রং পাল্টে দেয়; দেহ কৃষ্ণবর্ণ ধারণ করে। বিষয়টি আদম (আ.)-কে বিচলিত করে। তখন আল্লাহ তাআলা জিবরাইল (আ.)-কে প্রেরণ করেন। জিবরাইল (আ.) বললেন, আপনি কি চান আপনার দেহ শুভ্রতা ফিরে পাক? তিনি বললেন, হ্যাঁ। জিবরাইল (আ.) বললেন, তাহলে প্রতি মাসের ১৩, ১৪ ও ১৫ তারিখে রোজা রাখুন। তিনি রোজা রাখা শুরু করলে প্রথম দিনে শরীরের এক-তৃতীয়াংশ শুভ্র হয়ে যায়, দ্বিতীয় ও তৃতীয় দিন একই পরিমাণ শুভ্রতা ফিরে পায়। তখন থেকেই তিনি এ রোজা রাখতে শুরু করেন। এ রোজার নাম রাখা হয় ‘আইয়ামে বিজ’। (ফতহুল বারি : ৪/১২৩)

২. নুহ (আ.)-এর রোজা : তিনি ছিলেন প্রথম রাসুল তথা শরিয়তপ্রাপ্ত প্রথম নবী। তাঁর নামেই কোরআনে অবতীর্ণ হয়েছে সুরা নুহ। নুহ (আ.)-এর ব্যাপারে হাদিসে পাওয়া যায়, তিনি ঈদুল ফিতর ও ঈদুল আজহার দিন ছাড়া সারা বছরই রোজা রাখতেন। (সুনানে ইবনে মাজাহ, হাদিস : ১৭১৪)।

৩. ইবরাহিম (আ.)-এর রোজা : শেষ নবী মুহাম্মদ (সা.)-এর পূর্বপুরুষ হলেন ইবরাহিম (আ.)। যার বংশ থেকে অসংখ্য নবী-রাসুল এসেছেন। ইতিহাস থেকে জানা যায়, ইবরাহিম (আ.)-ও প্রতি মাসে তিনটি রোজা রাখতেন। এ ব্যাপারে তিনি আদম (আ.)-এর অনুসরণ করতেন। (সুনানে ইবনে মাজাহ)।

৪. দাউদ (আ.)-এর রোজা : দাউদ (আ.) ছিলেন একজন নবী ও ন্যায়পরায়ণ শাসক। কোরআনে যাকে আল্লাহর প্রতিনিধি বলা হয়েছে। তাঁর ওপর অবতীর্ণ হয়েছিল আসমানি কিতাব জাবুর। তাঁর রোজার প্রশংসা করে নবীজি (সা.) বলেন, ‘আল্লাহ তাআলার নিকট অধিকতর প্রিয় রোজা হচ্ছে দাউদ (আ.)-এর রোজা। তিনি এক দিন রোজা রাখতেন এবং এক দিন রোজা রাখতেন না।’ (সহিহ বুখারি, হাদিস : ৩৪২০)।

৫. সুলাইমান (আ.)-এর রোজা : নবী সুলাইমান (আ.) প্রতি মাসে ৯টি করে রোজা রাখতেন। মাসের প্রথম দশকে তিনটি, মাঝের দশকে তিনটি ও শেষ দশকে তিনটি। (কানজুল উম্মাল, হাদিস : ২৪৬২৪)।

৬. ঈসা (আ.)-এর রোজা : আল্লাহ তাআলা তাঁকে অনেক মুজিজা প্রদান করেছেন। তিনি নিজে বিভিন্ন জিনিস আহার করা থেকে বিরত থাকতেন। যেমন- মাছ ব্যতীত পাখি, গোশত ও প্রাণ আছে এমন সব প্রাণী। আর এটাই ছিল তাঁর রোজা। (তাফসিরে তাবারি : ৩/৪১১)।