ঢাকা ০২:৩৬ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ২০ এপ্রিল ২০২৬, ৬ বৈশাখ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম ::
অতিরিক্ত কাজকে স্বাভাবিক ভাবা—এই প্রবণতা বন্ধ করা এখন জরুরি মমতার দলের সাবেক সাংসদ দীনেশ ত্রিবেদী হচ্ছেন বাংলাদেশে ভারতের নতুন রাষ্ট্রদূত শিবিরের সাবেক নেতাদের এনসিপিতে ফেরার হিড়িক সেন্ট যোসেফ ইন্টারন্যাশনাল স্কুল’ SIIS Literary Club’ -এর উদ্যোগে অনুষ্ঠিত হলো চার দিনব্যাপী National Literature Festival 2026 বগুড়ায় নীরব ভোট, শেরপুর-৩ এ জামায়াতের বর্জন—নির্বাচনে ছায়া উত্তেজনা কুমিল্লা বাসস্ট্যান্ডে ভয়াবহ আগুনে ৩ বাস ভস্মীভূত চিকিৎসার জন্য দেশের বাইরে যাচ্ছেন সোহেল রানা অধ্যাদেশ ইস্যুতে উত্তাপ, ড. ইউনূসকে রাস্তায় নামতে বললেন নাহিদ নববর্ষে পরিবর্তন, ‘মঙ্গল’–‘আনন্দ’ ছেঁটে ‘বৈশাখী শোভাযাত্রা’ ঘোষণা ঘোড়া বিক্রি নিয়ে বিভ্রান্তিকর সংবাদ: ওসি খন্দকার নাসির উদ্দিনের প্রতিবাদ

দাসী থেকে বিখ্যাত হস্তলিপিশিল্পী

  • MEGHLA
  • আপডেট সময় : ০৩:৫২:০৪ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৭ ফেব্রুয়ারী ২০২৫
  • ৬৯ বার পড়া হয়েছে

আব্বাসীয় আমলের বিখ্যাত কবি, গীতিকার, সংগীতশিল্পী ও হস্তলিপিশিল্পী ছিলেন উরাইব মামুনিয়্যা। খলিফা মামুনের সঙ্গে সম্পৃক্ত করে তাকে মামুনিয়্যা বলা হয়। শৈশবে তিনি দুর্বিষহ জীবন যাপন করলেও শেষ জীবনে তিনি রাজপ্রাসাদের আভিজাত্য ভোগ করেন। তার পূর্ণ নাম উরাইব বিনতে জাফর বিন ইয়াহইয়া বারমাকি।

তিনি ৭৯৭ খ্রিস্টাব্দে বাগদাদে জন্মগ্রহণ করেন। বারমাকিদের পতন ঘটলে ১০ বছর বয়সে উরাইবকে চুরি করে এনে বিক্রি করে দেওয়া হয়। একাধিকবার হাতবদলের পর তিনি বাগদাদে আব্বাসীয় রাজপ্রাসাদে আসেন। সেখানে খলিফা আমিন, মামুন ও মুতাসিম বিল্লাহর আনুকূল্য লাভ করেন।

খলিফা মুতাসিম বিল্লাহ তাকে মুক্তি দান করেন। অবশ্যই উরাইব একাধিকবার তার অন্যায় দাসত্বের প্রতিবাদ করেন।

উরাইব বিনতে জাফর ছিলেন একজন স্বভাব কবি ও গীতিকার। তিনি সুমিষ্ট কণ্ঠের অধিকারী ছিলেন এবং তার হাতের লেখাও ছিল চমৎকার।

তবে তিনি একজন কবি ও গীতিকার হিসেবেই অধিক পরিচিত। আবুল ফারাজ ইস্পাহানি উরাইব সম্পর্কে লেখেন, তিনি তার সমসাময়িক ছিলেন। কবিতা, রচনা, সংগীতে তার বিশেষ দক্ষতা ছিল। এ ছাড়া তিনি ক্যালিগ্রাফিতেও পারদর্শী ছিলেন। ইসলামের প্রাথমিক যুগে কবিতা ও সংগীতে তিনি ছিলেন অদ্বিতীয় একজন নারী।
ইবনু মুতিজের মতে, তার রচিত গীতি কবিতার সংখ্যা সহস্রাধিক। মেধা ও প্রতিভার কারণে তার প্রতি খলিফা মামুনের বিশেষ অনুরাগ ছিল। খলিফা মামুনের প্রিয়ভাজন হিসেবেই তিনি খ্যাতি অর্জন করেন।

ইবনে ওয়াকি বলেন, ‘আমি তার চেয়ে চমৎকার, দক্ষ, সুন্দরী, উত্তম আচরণ ও সুন্দর ভাষা, উত্তর প্রদানে ক্ষিপ্রগতির অধিকারী এবং সুন্দর হস্তলিপির কোনো নারীকে দেখিনি।’

উরাইবের বহু কবিতা এখনো আরবি সাহিত্যের ভাণ্ডারে সংরক্ষিত আছে। যা থেকে বোঝা যায়, তিনি শুধু একজন দক্ষ কবিই ছিলেন না, বরং রাজদরবার, অভিজাতমহলে তার বিশেষ মূল্যায়ন ছিল। কবিতা, সংগীত ও ক্যালিগ্রাফিকে তিনি জীবিকা অর্জনের মাধ্যমে হিসেবে গ্রহণ করেছিলেন এবং বিপুল পরিমাণ ভূ-সম্পত্তির মালিক হয়েছিলেন। কবিতা ও সংগীত নিয়ে সমকালীনদের সঙ্গে তার নীরব প্রতিযোগিতাও ছিল। এ বিষয়ে তার ভেতর ঈর্ষা ও হতাশাও কাজ করত। তার একটি বিখ্যাত কবিতা হলো,

সেই পবিত্র সত্তার কৃতজ্ঞতা, যিনি আপনাকে অসুস্থতা থেকে সুস্থ করেছেন।

অসুস্থতা ও ব্যথা থেকে আপনার সুস্থতা দীর্ঘায়িত হোক।

আপনার সুস্থতা নির্মল আনন্দের দিন ফিরিয়ে এনেছে।

কেননা এখন দানশীল ও অনুগ্রহের অঙ্কুর আন্দোলিত হয়েছে।

ধর্মের পথে আজকের পর কোনো বাদশাহ পথ চলবে না।

কেননা আপনার চেয়ে অধিক ক্ষমাকারী, দোষ মার্জনাকারী নেই।

আল্লাহ আমাদের মাঝে জাফরকে চিরজীবী করেছেন

কিন্তু তার জ্যোতি ও সুদিন কেড়ে নিয়ে আমাদেরকে অন্ধকারে আচ্ছন্ন করেছেন।

উরাইব মামুনিয়্যা ৮৯০ খ্রিস্টাব্দে মধ্য ইরাকের সামারাতে ইন্তেকাল করেন।

সূত্র : মুজামু শুআরাইল আরব, পৃষ্ঠা-৭০৫; আল আলাম : ৪/২২৭; মুখতাসার তারিখে দামেশক : ২০/১৮১

ট্যাগস :

এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি, অডিও, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার বেআইনি।

জনপ্রিয় সংবাদ

অতিরিক্ত কাজকে স্বাভাবিক ভাবা—এই প্রবণতা বন্ধ করা এখন জরুরি

দাসী থেকে বিখ্যাত হস্তলিপিশিল্পী

আপডেট সময় : ০৩:৫২:০৪ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৭ ফেব্রুয়ারী ২০২৫

আব্বাসীয় আমলের বিখ্যাত কবি, গীতিকার, সংগীতশিল্পী ও হস্তলিপিশিল্পী ছিলেন উরাইব মামুনিয়্যা। খলিফা মামুনের সঙ্গে সম্পৃক্ত করে তাকে মামুনিয়্যা বলা হয়। শৈশবে তিনি দুর্বিষহ জীবন যাপন করলেও শেষ জীবনে তিনি রাজপ্রাসাদের আভিজাত্য ভোগ করেন। তার পূর্ণ নাম উরাইব বিনতে জাফর বিন ইয়াহইয়া বারমাকি।

তিনি ৭৯৭ খ্রিস্টাব্দে বাগদাদে জন্মগ্রহণ করেন। বারমাকিদের পতন ঘটলে ১০ বছর বয়সে উরাইবকে চুরি করে এনে বিক্রি করে দেওয়া হয়। একাধিকবার হাতবদলের পর তিনি বাগদাদে আব্বাসীয় রাজপ্রাসাদে আসেন। সেখানে খলিফা আমিন, মামুন ও মুতাসিম বিল্লাহর আনুকূল্য লাভ করেন।

খলিফা মুতাসিম বিল্লাহ তাকে মুক্তি দান করেন। অবশ্যই উরাইব একাধিকবার তার অন্যায় দাসত্বের প্রতিবাদ করেন।

উরাইব বিনতে জাফর ছিলেন একজন স্বভাব কবি ও গীতিকার। তিনি সুমিষ্ট কণ্ঠের অধিকারী ছিলেন এবং তার হাতের লেখাও ছিল চমৎকার।

তবে তিনি একজন কবি ও গীতিকার হিসেবেই অধিক পরিচিত। আবুল ফারাজ ইস্পাহানি উরাইব সম্পর্কে লেখেন, তিনি তার সমসাময়িক ছিলেন। কবিতা, রচনা, সংগীতে তার বিশেষ দক্ষতা ছিল। এ ছাড়া তিনি ক্যালিগ্রাফিতেও পারদর্শী ছিলেন। ইসলামের প্রাথমিক যুগে কবিতা ও সংগীতে তিনি ছিলেন অদ্বিতীয় একজন নারী।
ইবনু মুতিজের মতে, তার রচিত গীতি কবিতার সংখ্যা সহস্রাধিক। মেধা ও প্রতিভার কারণে তার প্রতি খলিফা মামুনের বিশেষ অনুরাগ ছিল। খলিফা মামুনের প্রিয়ভাজন হিসেবেই তিনি খ্যাতি অর্জন করেন।

ইবনে ওয়াকি বলেন, ‘আমি তার চেয়ে চমৎকার, দক্ষ, সুন্দরী, উত্তম আচরণ ও সুন্দর ভাষা, উত্তর প্রদানে ক্ষিপ্রগতির অধিকারী এবং সুন্দর হস্তলিপির কোনো নারীকে দেখিনি।’

উরাইবের বহু কবিতা এখনো আরবি সাহিত্যের ভাণ্ডারে সংরক্ষিত আছে। যা থেকে বোঝা যায়, তিনি শুধু একজন দক্ষ কবিই ছিলেন না, বরং রাজদরবার, অভিজাতমহলে তার বিশেষ মূল্যায়ন ছিল। কবিতা, সংগীত ও ক্যালিগ্রাফিকে তিনি জীবিকা অর্জনের মাধ্যমে হিসেবে গ্রহণ করেছিলেন এবং বিপুল পরিমাণ ভূ-সম্পত্তির মালিক হয়েছিলেন। কবিতা ও সংগীত নিয়ে সমকালীনদের সঙ্গে তার নীরব প্রতিযোগিতাও ছিল। এ বিষয়ে তার ভেতর ঈর্ষা ও হতাশাও কাজ করত। তার একটি বিখ্যাত কবিতা হলো,

সেই পবিত্র সত্তার কৃতজ্ঞতা, যিনি আপনাকে অসুস্থতা থেকে সুস্থ করেছেন।

অসুস্থতা ও ব্যথা থেকে আপনার সুস্থতা দীর্ঘায়িত হোক।

আপনার সুস্থতা নির্মল আনন্দের দিন ফিরিয়ে এনেছে।

কেননা এখন দানশীল ও অনুগ্রহের অঙ্কুর আন্দোলিত হয়েছে।

ধর্মের পথে আজকের পর কোনো বাদশাহ পথ চলবে না।

কেননা আপনার চেয়ে অধিক ক্ষমাকারী, দোষ মার্জনাকারী নেই।

আল্লাহ আমাদের মাঝে জাফরকে চিরজীবী করেছেন

কিন্তু তার জ্যোতি ও সুদিন কেড়ে নিয়ে আমাদেরকে অন্ধকারে আচ্ছন্ন করেছেন।

উরাইব মামুনিয়্যা ৮৯০ খ্রিস্টাব্দে মধ্য ইরাকের সামারাতে ইন্তেকাল করেন।

সূত্র : মুজামু শুআরাইল আরব, পৃষ্ঠা-৭০৫; আল আলাম : ৪/২২৭; মুখতাসার তারিখে দামেশক : ২০/১৮১