ঢাকা ০২:৪৪ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ২০ এপ্রিল ২০২৬, ৬ বৈশাখ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম ::
অতিরিক্ত কাজকে স্বাভাবিক ভাবা—এই প্রবণতা বন্ধ করা এখন জরুরি মমতার দলের সাবেক সাংসদ দীনেশ ত্রিবেদী হচ্ছেন বাংলাদেশে ভারতের নতুন রাষ্ট্রদূত শিবিরের সাবেক নেতাদের এনসিপিতে ফেরার হিড়িক সেন্ট যোসেফ ইন্টারন্যাশনাল স্কুল’ SIIS Literary Club’ -এর উদ্যোগে অনুষ্ঠিত হলো চার দিনব্যাপী National Literature Festival 2026 বগুড়ায় নীরব ভোট, শেরপুর-৩ এ জামায়াতের বর্জন—নির্বাচনে ছায়া উত্তেজনা কুমিল্লা বাসস্ট্যান্ডে ভয়াবহ আগুনে ৩ বাস ভস্মীভূত চিকিৎসার জন্য দেশের বাইরে যাচ্ছেন সোহেল রানা অধ্যাদেশ ইস্যুতে উত্তাপ, ড. ইউনূসকে রাস্তায় নামতে বললেন নাহিদ নববর্ষে পরিবর্তন, ‘মঙ্গল’–‘আনন্দ’ ছেঁটে ‘বৈশাখী শোভাযাত্রা’ ঘোষণা ঘোড়া বিক্রি নিয়ে বিভ্রান্তিকর সংবাদ: ওসি খন্দকার নাসির উদ্দিনের প্রতিবাদ

বদনজরের নেতিবাচক প্রভাব

  • NUSRAT JAHAN
  • আপডেট সময় : ১০:১১:০৬ অপরাহ্ন, শনিবার, ২২ ফেব্রুয়ারী ২০২৫
  • ৬০ বার পড়া হয়েছে

যেসব জিনিস মানুষের সবচেয়ে বড় শত্রু, তার মধ্যে একটি হলো বদনজর। বদনজর সত্যিই মানুষের জীবনে নেতিবাচক প্রভাব ফেলে। নবীজি (সা.) তাঁর উম্মতদের বদনজরের ব্যাপারে সতর্ক করেছেন। আয়েশা (রা.) থেকে বর্ণিত, রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, ‘তোমরা আল্লাহর কাছে আশ্রয় প্রার্থনা করো। কেননা বদনজর সত্য বা বাস্তব ব্যাপার।’ (ইবনে মাজাহ, হাদিস : ৩৫০৮)

বদনজর এতটাই মারাত্মক ক্ষতিকারক যে নবীজি (সা.) বলেছেন, ‘কোনো জিনিস যদি ভাগ্যকে অতিক্রম করতে পারত, তাহলে বদনজরই তা অতিক্রম করতে পারত।’ (তিরমিজি, হাদিস : ২০৫৯)

এ জন্য আমাদের উচিত বদনজর থেকে নিরাপদে থাকতে সর্বদা মহান আল্লাহর কাছে সাহায্য চাওয়া। নিজের ও সন্তানদের ওপর যাতে কারো বদনজর না পড়ে সে ব্যাপারে সতর্ক থাকা এবং অন্য কারো সম্পদে যাতে নিজের বদনজর না পড়ে, সেদিকেও সতর্ক থাকা।

কারো কোনো অর্জন দেখলে তাতে হিংসা না করে তার জন্য বরকতের দোয়া করা। কারণ নবীজি (সা.) অন্যের অর্জন, সৌন্দর্য ও সম্পদে বদনজর দেওয়াকে তাকে হত্যা করার সঙ্গে তুলনা করেছেন। কেউ এ রকম করলে তিনি খুব রাগান্বিত হতেন।

আবু উমামা ইবনে সাহল (রা.) থেকে বর্ণিত, আমির ইবনে রবিআ সাহল ইবনে হানিফকে গোসল করতে দেখে বলেন, ‘আজ আমি যে-ই সুন্দর মানুষ দেখলাম, এ রকম কাউকেও দেখিনি, এমনকি সুন্দরী যুবতীও এত সুন্দর দেহবিশিষ্ট নয়।’ এ কথা বলার সঙ্গে সঙ্গে সাহল সেখানে লুটিয়ে পড়লেন।

এক ব্যক্তি রাসুল (সা.)-এর খিদমতে হাজির হয়ে আরজ করল, ‘ইয়া রাসুলাল্লাহ! আপনি সাহল ইবনে হুনাইফের কিছু খবর রাখেন কি? আল্লাহর কসম! সে মাথা তুলতে পারছে না।’ তখন রাসুল (সা.) বলেন, ‘তুমি কি মনে করছ যে তাকে কেউ বদনজর দিয়েছে?’ লোকটি বলল, ‘হ্যাঁ, আমির ইবনে রবিআ (বদনজর দিয়েছে)।’

রাসুল (সা.) আমিরকে ডেকে ক্রোধান্বিত হয়ে বললেন, “তোমাদের কেউ নিজের মুসলমান ভাইকে কেন হত্যা করছে? তুমি ‘বারাকাল্লাহ’ কেন বললে না?” এরপর আমির তার হাত, মুখ, হাতের কনুই, হাঁটু, পায়ের আশপাশের স্থান এবং লুঙ্গির নিচের আবৃত দেহাংশ ধুয়ে সেই পানি একটি পাত্রে জমা করলেন। সেই পানি সাহলের দেহে ঢেলে দেওয়া হলো।

অতঃপর সাহল সুস্থ হয়ে সবাইকে নিয়ে রওনা হলেন। (মুয়াত্তা ইমাম মালেক, হাদিস : ১৬৮৯)

উপসংহার

আমাদের উচিত মানুষের বদনজর থেকে নিজেদের সন্তান-সন্ততি, ধন-সম্পত্তি ইত্যাদি রক্ষা করতে সর্বদা সতর্ক থাকা। সর্বাবস্থায় আল্লাহর কাছে আশ্রয় প্রার্থনা করা এবং এমন কোনো কাজ না করা, যা অন্যের কুদৃষ্টির সুযোগ তৈরি করতে পারে। মহান আল্লাহ আমাদের সবাইকে সঠিক বোঝাপড়া ও তাওফিক দান করুন।

ট্যাগস :

এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি, অডিও, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার বেআইনি।

জনপ্রিয় সংবাদ

অতিরিক্ত কাজকে স্বাভাবিক ভাবা—এই প্রবণতা বন্ধ করা এখন জরুরি

বদনজরের নেতিবাচক প্রভাব

আপডেট সময় : ১০:১১:০৬ অপরাহ্ন, শনিবার, ২২ ফেব্রুয়ারী ২০২৫

যেসব জিনিস মানুষের সবচেয়ে বড় শত্রু, তার মধ্যে একটি হলো বদনজর। বদনজর সত্যিই মানুষের জীবনে নেতিবাচক প্রভাব ফেলে। নবীজি (সা.) তাঁর উম্মতদের বদনজরের ব্যাপারে সতর্ক করেছেন। আয়েশা (রা.) থেকে বর্ণিত, রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, ‘তোমরা আল্লাহর কাছে আশ্রয় প্রার্থনা করো। কেননা বদনজর সত্য বা বাস্তব ব্যাপার।’ (ইবনে মাজাহ, হাদিস : ৩৫০৮)

বদনজর এতটাই মারাত্মক ক্ষতিকারক যে নবীজি (সা.) বলেছেন, ‘কোনো জিনিস যদি ভাগ্যকে অতিক্রম করতে পারত, তাহলে বদনজরই তা অতিক্রম করতে পারত।’ (তিরমিজি, হাদিস : ২০৫৯)

এ জন্য আমাদের উচিত বদনজর থেকে নিরাপদে থাকতে সর্বদা মহান আল্লাহর কাছে সাহায্য চাওয়া। নিজের ও সন্তানদের ওপর যাতে কারো বদনজর না পড়ে সে ব্যাপারে সতর্ক থাকা এবং অন্য কারো সম্পদে যাতে নিজের বদনজর না পড়ে, সেদিকেও সতর্ক থাকা।

কারো কোনো অর্জন দেখলে তাতে হিংসা না করে তার জন্য বরকতের দোয়া করা। কারণ নবীজি (সা.) অন্যের অর্জন, সৌন্দর্য ও সম্পদে বদনজর দেওয়াকে তাকে হত্যা করার সঙ্গে তুলনা করেছেন। কেউ এ রকম করলে তিনি খুব রাগান্বিত হতেন।

আবু উমামা ইবনে সাহল (রা.) থেকে বর্ণিত, আমির ইবনে রবিআ সাহল ইবনে হানিফকে গোসল করতে দেখে বলেন, ‘আজ আমি যে-ই সুন্দর মানুষ দেখলাম, এ রকম কাউকেও দেখিনি, এমনকি সুন্দরী যুবতীও এত সুন্দর দেহবিশিষ্ট নয়।’ এ কথা বলার সঙ্গে সঙ্গে সাহল সেখানে লুটিয়ে পড়লেন।

এক ব্যক্তি রাসুল (সা.)-এর খিদমতে হাজির হয়ে আরজ করল, ‘ইয়া রাসুলাল্লাহ! আপনি সাহল ইবনে হুনাইফের কিছু খবর রাখেন কি? আল্লাহর কসম! সে মাথা তুলতে পারছে না।’ তখন রাসুল (সা.) বলেন, ‘তুমি কি মনে করছ যে তাকে কেউ বদনজর দিয়েছে?’ লোকটি বলল, ‘হ্যাঁ, আমির ইবনে রবিআ (বদনজর দিয়েছে)।’

রাসুল (সা.) আমিরকে ডেকে ক্রোধান্বিত হয়ে বললেন, “তোমাদের কেউ নিজের মুসলমান ভাইকে কেন হত্যা করছে? তুমি ‘বারাকাল্লাহ’ কেন বললে না?” এরপর আমির তার হাত, মুখ, হাতের কনুই, হাঁটু, পায়ের আশপাশের স্থান এবং লুঙ্গির নিচের আবৃত দেহাংশ ধুয়ে সেই পানি একটি পাত্রে জমা করলেন। সেই পানি সাহলের দেহে ঢেলে দেওয়া হলো।

অতঃপর সাহল সুস্থ হয়ে সবাইকে নিয়ে রওনা হলেন। (মুয়াত্তা ইমাম মালেক, হাদিস : ১৬৮৯)

উপসংহার

আমাদের উচিত মানুষের বদনজর থেকে নিজেদের সন্তান-সন্ততি, ধন-সম্পত্তি ইত্যাদি রক্ষা করতে সর্বদা সতর্ক থাকা। সর্বাবস্থায় আল্লাহর কাছে আশ্রয় প্রার্থনা করা এবং এমন কোনো কাজ না করা, যা অন্যের কুদৃষ্টির সুযোগ তৈরি করতে পারে। মহান আল্লাহ আমাদের সবাইকে সঠিক বোঝাপড়া ও তাওফিক দান করুন।