ঢাকা ০৩:৫২ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ১৩ ফেব্রুয়ারী ২০২৬, ৩০ মাঘ ১৪৩২ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম ::
লাইনে দাঁড়িয়ে ১৭ বছর পর নিজ কেন্দ্রে ভোট দিলেন বাবর সংবাদ সংগ্রহে গিয়ে বিটিভির সাংবাদিকের ওপর হামলা, কুপিয়ে গুরুতর জখম কেন্দ্রে গিয়ে ভোট দিলেন তারেক রহমান নির্বাচনে অংশ না নিয়ে বয়কটের ঘোষণা এক প্রার্থীর নিজ জন্মভূমিতেই ভোটাধিকার প্রয়োগ করলেন মির্জা ফখরুল উপদেষ্টা ফারুকী ও স্ত্রী তিশার সম্পদের বিস্তারিত হিসাব উদ্বোধন স্বপ্নপূরণে অভিভূত অবন্তি সিঁথি, বললেন—কল্পনাতেও ছিল না নির্বাচনে অনুপস্থিত আওয়ামী লীগ, কর্মী ও সমর্থকদের কদর এখন তুঙ্গে টাকার ব্যাগসহ ঠাকুরগাঁও জেলা জামায়াতের আমির গ্রেপ্তার হলুদের সঙ্গে কোন কোন উপাদান মিশিয়ে খেলে বেশি উপকার পাওয়া যায়?

অরিজিতের বিদায়: প্লেব্যাক জগৎ ছাড়েছেন নানা কারণে

  • প্রতিনিধির নাম
  • আপডেট সময় : ০৩:২৪:০০ অপরাহ্ন, বুধবার, ২৮ জানুয়ারী ২০২৬
  • ৬৬ বার পড়া হয়েছে

অরিজিতের বিদায়: প্লেব্যাক জগৎ ছাড়েছেন নানা কারণে

হঠাৎ প্লেব্যাককে বিদায় জানালেন জনপ্রিয় সংগীতশিল্পী অরিজিৎ সিং। মঙ্গলবার সামাজিকমাধ্যমের এক পোস্টে জানিয়ে দিলেন, তিনি আর সিনেমায় গান গাইবেন না।গায়কের এই ঘোষণার পর থেকে ভক্তদের মনে একটাই প্রশ্ন, ক্যারিয়ারের মধ্যগগনে এমন সিদ্ধান্ত কেন?

NEWS21
NEWS21

নিজের অফিসিয়াল ফেসবুক ও ইনস্টাগ্রামে অনুরাগীদের কৃতজ্ঞতা জানিয়ে অরিজিৎ লেখেন, ‘সবাইকে ইংরেজি নববর্ষের শুভেচ্ছা। গত কয়েক বছর ধরে শ্রোতা হিসেবে আপনারা আমাকে যে ভালোবাসা দিয়েছেন, তার জন্য আমি কৃতজ্ঞ। আমি আজ জানাচ্ছি যে, প্লেব্যাক ভোকালিস্ট হিসেবে আমি আর কোনো নতুন কাজ গ্রহণ করব না। আমি এখানেই শেষ করছি। এটা ছিল এক অসাধারণ সফর।’

এ নিয়ে নানারকম গুঞ্জনও শোনা গিয়েছিল। কিন্তু তা স্থায়ী হয়নি। কারণ বিষয়টি এবার অরিজিৎ নিজেই খোলাসা করলেন। ব্যক্তিগত এক্স অ্যাকাউন্টে ৩৮ বছর বয়সী এই গায়ক জানান, একাধিক কারণ রয়েছে তার এমন সিদ্ধান্ত নেওয়ার নেপথ্যে।

তিনি লেখেন, ‘কেবল একটা নয়, একাধিক কারণ রয়েছে। এবং আমি বেশ কিছুদিন ধরেই সেগুলো নিয়ে ভেবেছি। অবশেষে প্রয়োজনীয় সাহস সঞ্চয় করতে পেরেছি।’

অরিজিৎ আরও বলেন, ‘এর একটি কারণ বেশ সহজবোধ্য। আমি খুব দ্রুত আগ্রহ হারিয়ে ফেলি। আর এই কারণেই আমি আমার গানের সুরের বিন্যাস ঘনঘন পরিবর্তন করি। এবং সেগুলোকে লাইভে পরিবেশন করি। সুতরাং এটাই সত্যি, আমি ক্লান্ত হয়ে পড়েছি। নিজেকে বিকশিত করতেই আমার ভিন্ন ধরনের সংগীত অন্বেষণ করা প্রয়োজন।’

কেবল এই একটি কারণই নয়, অরিজিতের ভাষ্য, ‘আমি চাই নতুন কণ্ঠ উঠে আসুক। কোনো নতুন গায়ক আমাকে অনুপ্রাণিত করুক, এই উত্তেজনাই এখন বেশি টানে।’  তার মতে, সংগীত এগিয়ে যায় নতুন কণ্ঠ আর নতুন ভাবনার মাধ্যমে, আর সেটার জন্য জায়গা করে দেয়া দরকার।

পাশাপাশি নিজের ভবিষ্যৎ নিয়ে অরিজিৎ বলেন, ‘আমি সত্যিই ধন্য। আমি সংগীতের একজন ভক্ত। এবং ভবিষ্যতে একজন ছোট শিল্পী হিসেবে আরও শেখার ও স্বাধীনভাবে গান তৈরিতেই মনোযোগ দেব। আপনাদের সকলের সমর্থনের জন্য আবারও ধন্যবাদ। আমার এখনও কিছু অসম্পূর্ণ প্রতিশ্রুতি বাকি আছে, সেগুলো পূরণ করব। তাই এই বছর আপনারা হয়তো আরও কিছু নতুন কাজ দেখতে পাবেন। বিষয়টি স্পষ্ট করে দিতে চাই। আমি গান তৈরি করা বন্ধ করছি না।’

২০০৫ সালে রিয়্যালিটি শো ‘ফেম গুরুকুল’-এর মাধ্যমে প্রথমবার জনসম্মুখে আসেন অরিজিৎ, তখন অবশ্য কেউ ভাবেনি যে এই লাজুক ছেলেটিই একদিন ভারতীয় সংগীত জগত শাসন করবে। যদিও সেই শো-তে তিনি ৬ষ্ঠ স্থান লাভ করেছিলেন, কিন্তু তার প্রতিভা পরিচালক সঞ্জয় লীলা বনশালি ও সংগীত পরিচালক প্রীতমের নজর কেড়েছিল।

২০১১ সালে ‘মার্ডার ২’ ছবির ‘ফির মহব্বত’ গান দিয়ে তার প্লেব্যাক সফর শুরু হয়। তবে ২০১৩ সালে ‘আশিকি ২’ ছবির ‘তুম হি হো’ গানটি তাকে রাতারাতি গ্লোবাল সুপারস্টার বানিয়ে দেয়।

গত এক দশক বলিউড ও টলিউডের প্লেব্যাক জগত মাতিয়ে রেখেছিলেন অরিজিৎ। জনপ্রিয়তার তুঙ্গে থাকা এই শিল্পী গতকাল হঠাৎ করেই প্লেব্যাক থেকে স্বেচ্ছায় অবসরের ঘোষণা দেন। এরপরই কার্যত বিস্ময় নেমে আসে সংগীত জগতে। ভক্তরা রীতিমতো আবেগাপ্লুত হয়ে পড়েছেন।

ট্যাগস :

এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি, অডিও, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার বেআইনি।

জনপ্রিয় সংবাদ

লাইনে দাঁড়িয়ে ১৭ বছর পর নিজ কেন্দ্রে ভোট দিলেন বাবর

অরিজিতের বিদায়: প্লেব্যাক জগৎ ছাড়েছেন নানা কারণে

আপডেট সময় : ০৩:২৪:০০ অপরাহ্ন, বুধবার, ২৮ জানুয়ারী ২০২৬

হঠাৎ প্লেব্যাককে বিদায় জানালেন জনপ্রিয় সংগীতশিল্পী অরিজিৎ সিং। মঙ্গলবার সামাজিকমাধ্যমের এক পোস্টে জানিয়ে দিলেন, তিনি আর সিনেমায় গান গাইবেন না।গায়কের এই ঘোষণার পর থেকে ভক্তদের মনে একটাই প্রশ্ন, ক্যারিয়ারের মধ্যগগনে এমন সিদ্ধান্ত কেন?

NEWS21
NEWS21

নিজের অফিসিয়াল ফেসবুক ও ইনস্টাগ্রামে অনুরাগীদের কৃতজ্ঞতা জানিয়ে অরিজিৎ লেখেন, ‘সবাইকে ইংরেজি নববর্ষের শুভেচ্ছা। গত কয়েক বছর ধরে শ্রোতা হিসেবে আপনারা আমাকে যে ভালোবাসা দিয়েছেন, তার জন্য আমি কৃতজ্ঞ। আমি আজ জানাচ্ছি যে, প্লেব্যাক ভোকালিস্ট হিসেবে আমি আর কোনো নতুন কাজ গ্রহণ করব না। আমি এখানেই শেষ করছি। এটা ছিল এক অসাধারণ সফর।’

এ নিয়ে নানারকম গুঞ্জনও শোনা গিয়েছিল। কিন্তু তা স্থায়ী হয়নি। কারণ বিষয়টি এবার অরিজিৎ নিজেই খোলাসা করলেন। ব্যক্তিগত এক্স অ্যাকাউন্টে ৩৮ বছর বয়সী এই গায়ক জানান, একাধিক কারণ রয়েছে তার এমন সিদ্ধান্ত নেওয়ার নেপথ্যে।

তিনি লেখেন, ‘কেবল একটা নয়, একাধিক কারণ রয়েছে। এবং আমি বেশ কিছুদিন ধরেই সেগুলো নিয়ে ভেবেছি। অবশেষে প্রয়োজনীয় সাহস সঞ্চয় করতে পেরেছি।’

অরিজিৎ আরও বলেন, ‘এর একটি কারণ বেশ সহজবোধ্য। আমি খুব দ্রুত আগ্রহ হারিয়ে ফেলি। আর এই কারণেই আমি আমার গানের সুরের বিন্যাস ঘনঘন পরিবর্তন করি। এবং সেগুলোকে লাইভে পরিবেশন করি। সুতরাং এটাই সত্যি, আমি ক্লান্ত হয়ে পড়েছি। নিজেকে বিকশিত করতেই আমার ভিন্ন ধরনের সংগীত অন্বেষণ করা প্রয়োজন।’

কেবল এই একটি কারণই নয়, অরিজিতের ভাষ্য, ‘আমি চাই নতুন কণ্ঠ উঠে আসুক। কোনো নতুন গায়ক আমাকে অনুপ্রাণিত করুক, এই উত্তেজনাই এখন বেশি টানে।’  তার মতে, সংগীত এগিয়ে যায় নতুন কণ্ঠ আর নতুন ভাবনার মাধ্যমে, আর সেটার জন্য জায়গা করে দেয়া দরকার।

পাশাপাশি নিজের ভবিষ্যৎ নিয়ে অরিজিৎ বলেন, ‘আমি সত্যিই ধন্য। আমি সংগীতের একজন ভক্ত। এবং ভবিষ্যতে একজন ছোট শিল্পী হিসেবে আরও শেখার ও স্বাধীনভাবে গান তৈরিতেই মনোযোগ দেব। আপনাদের সকলের সমর্থনের জন্য আবারও ধন্যবাদ। আমার এখনও কিছু অসম্পূর্ণ প্রতিশ্রুতি বাকি আছে, সেগুলো পূরণ করব। তাই এই বছর আপনারা হয়তো আরও কিছু নতুন কাজ দেখতে পাবেন। বিষয়টি স্পষ্ট করে দিতে চাই। আমি গান তৈরি করা বন্ধ করছি না।’

২০০৫ সালে রিয়্যালিটি শো ‘ফেম গুরুকুল’-এর মাধ্যমে প্রথমবার জনসম্মুখে আসেন অরিজিৎ, তখন অবশ্য কেউ ভাবেনি যে এই লাজুক ছেলেটিই একদিন ভারতীয় সংগীত জগত শাসন করবে। যদিও সেই শো-তে তিনি ৬ষ্ঠ স্থান লাভ করেছিলেন, কিন্তু তার প্রতিভা পরিচালক সঞ্জয় লীলা বনশালি ও সংগীত পরিচালক প্রীতমের নজর কেড়েছিল।

২০১১ সালে ‘মার্ডার ২’ ছবির ‘ফির মহব্বত’ গান দিয়ে তার প্লেব্যাক সফর শুরু হয়। তবে ২০১৩ সালে ‘আশিকি ২’ ছবির ‘তুম হি হো’ গানটি তাকে রাতারাতি গ্লোবাল সুপারস্টার বানিয়ে দেয়।

গত এক দশক বলিউড ও টলিউডের প্লেব্যাক জগত মাতিয়ে রেখেছিলেন অরিজিৎ। জনপ্রিয়তার তুঙ্গে থাকা এই শিল্পী গতকাল হঠাৎ করেই প্লেব্যাক থেকে স্বেচ্ছায় অবসরের ঘোষণা দেন। এরপরই কার্যত বিস্ময় নেমে আসে সংগীত জগতে। ভক্তরা রীতিমতো আবেগাপ্লুত হয়ে পড়েছেন।