ভারতের দীঘায় একটি ধারাবাহিকের শুটিং করতে গিয়ে জলে ডুবে মৃত্যু হয়েছে পশ্চিমবঙ্গের জনপ্রিয় অভিনেতা রাহুল বন্দ্যোপাধ্যায়ের। এবার তার ময়নাতদন্তের প্রাথমিক রিপোর্টে মিলেছে চাঞ্চল্যকর তথ্য।
দীঘার অদূরেই তমলুক হাসপাতাল সূত্রের বরাতে কলকাতার সংবাদ মাধ্যমগুলো বলছে, অভিনেতা রাহুল ব্যানার্জী দীর্ঘক্ষণ জলে ডুবে ছিলেন, সে কারণেই মৃত্যু হয়েছে।
প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, রাহুলের ফুসফুসের ভিতরে প্রচুর পরিমাণে বালি পাওয়া গেছে, সেই সাথে নোনাজল। তার খাদ্যনালি, শ্বাসনালি, পাকস্থলির ভিতরেও বালি ও পানি পাওয়া গেছে। বালি ও পানি ঢোকার কারণে ফুসফুস ফুলে দ্বিগুণ আকারের হয়ে যায়।
হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ বলছেন, রাহুলের অবস্থা দেখে তারা মনে করছেন ১ ঘণ্টারও বেশি সময় ধরে জলেই ডুবে ছিলেন অভিনেতা। কারণ, অল্প সময় জলে ডুবে থাকলে এরকম হওয়ার কথা নয়।
এদিকে, তমলুক হাসপাতাল থেকে রাহুলের মরদেহ নিয়ে কলকাতার দিকে রওনা হয়েছে গাড়ি। সঙ্গে রয়েছেন রাহুলের গাড়িচালক, ‘ভোলেবাবা পার করেগা’ ধারাবাহিকের প্রোডাকশন ম্যানেজার ও অন্যরা।
এদিকে, উদ্ধার হয়েছে ‘ভোলে বাবা পার করেগা’ ধারাবাহিকের রবিবারের শুটিংয়ের ক্যামেরা ফুটেজ। তদন্তের জন্য পুলিশ ক্যামেরা নিয়ে গেছে। রাহুলের মৃত্যুর আগের কয়েকটি মুহূর্ত ধরা আছে সেই ক্যামেরাতেই।
রবিবার ঘটনাস্থলে ঠিক কী হয়েছিল, তা নিয়ে নানা দাবি উঠে আসছে। শুটিংয়ের ক্যামেরার ফুটেজ ভালভাবে খতিয়ে দেখে ঘটনাক্রম সম্পর্কে নিশ্চিত হওয়া যাবে বলে মনে করছেন তদন্তকারীরা।
পশ্চিমবঙ্গের আর্টিস্ট ফোরামের তরফে অভিনেতা দিগন্ত বাগচী বলেন, শুটিং শেষে জলে নামেন রাহুল। তিনি বলেন, হয় ও সাঁতার জানে না। নয়তো কোনও ভাবে আটকে পড়েছিলেন। হঠাৎই টেকনিশিয়ানরা চিৎকার করে বলে রাহুল দা ডুবে যাচ্ছে। সেই সময়ই তড়িঘড়ি উদ্ধার করা হয়। তখনও রাহুল বেঁচে ছিল। কিন্তু হাসপাতালে নিয়ে যাওয়ার পথেই মৃত্যু হয় রাহুলের।
এদিকে ধারাবাহিকের প্রযোজক লীনা গঙ্গোপাধ্যায় জানান, শুটিং-এ গভীর জলে নামার কোনও দৃশ্য ছিল না। অনেকেই আবার বলছেন, শুটিং শেষে রাহুল জলে নেমেছিলেন। কিন্তু কেন? ভর সন্ধ্য়াবেলায় কেন রাহুল জলে নামেন সেই প্রশ্নেরই উত্তর খুঁজছেন তার সহ-শিল্পী আর অনুগামীরা।

রাহুলের সহকর্মী থেকে শুরু করে টালিগঞ্জের স্টুডিও পাড়ার একাধিক কলাকুশলীরা রাহুল অরুনোদয় বন্দ্যোপাধ্য়ায়ের মৃত্য়ুর নিরপেক্ষ তদন্তের দাবি করেছেন। ইতিমধ্যেই বিষয়টি নিয়ে অনেকেই মুখ খুলতে শুরু করেছেন।
গতকাল রাহুলের মৃত্যুর খবর পাওয়ার পরেই তাঁর দীর্ঘ দিনের সহঅভিনেত্রী সুদীপ্তা চক্রবর্তী নিরপেক্ষ ও পূর্ণাঙ্গ তদন্তের দাবি করেছেন। তিনিও জানিয়েছেন, রাহুলের মৃত্যু তিনি মেনে নিতে পারছেন না। পশ্চিমবঙ্গ মোশন পিকচার্স আর্টিস্ট ফোরামকে নিশানা করেছেন অভিনেত্রী রূপাঞ্জনা মিত্র। তিনিও রাহুল অরুনোদয় বন্দ্য়োপাধ্য়ায়ের মৃত্যুর পুলিশি তদন্তের দাবি জানিয়েছেন।
প্রতিনিধির নাম 




















