শহীদ দিবস ও আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবসে লালমনিরহাট কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে জেলা প্রশাসনের চরম অব্যবস্থাপনার অভিযোগ তুলে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন সুধী সমাজ ও সংস্কৃতিকর্মীরা। জানা যায়, শহীদ মিনার প্রাঙ্গণে জেলা শিল্পকলা একাডেমি আয়োজিত সাংস্কৃতিক প্রতিযোগিতায় দেশাত্ববোধক ও অমর একুশের কালজয়ী গান না রেখে গজল প্রতিযোগিতা রাখা হয়েছে। এছাড়া ভাষাশহীদদের প্রতি শ্রদ্ধা নিবেদনের জন্য নবনির্বাচিত এমপি এবং দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণমন্ত্রী অধ্যক্ষ আসাদুল হাবিব দুলুর জন্য আলাদা কোনো পুষ্পস্তবকের ব্যবস্থা রাখেনি লালমনিরহাট জেলা প্রশাসন।
একুশের প্রথম প্রহরে শহীদদের প্রতি শ্রদ্ধা নিবেদন করতে এসে নিজ মন্ত্রণালয়ের নামে পুষ্পস্তবক না পেয়ে অপ্রস্তুত অবস্থায় পড়েন মন্ত্রী দুলু। তার জেলা প্রশাসনের ব্যানারে পুষ্পস্তবক অর্পণের একটি ভিডিও সামাজিক মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে বিষয়টি আরও আপত্তিকর হয়। সেই ভিডিওতে জেলা প্রশাসক এইচ এম রকিব হায়দারকে উদ্দেশ্য করে মন্ত্রীর মুখে বলতে শোনা যায়, ‘সবাই সবারটা নিয়ে আসছে, আমরটা নাই। এটা কেমন কথা। আমি তো একটা পদ পদবী হোল্ড করি। আমরতো একটা ডালা থাকতে হবে। প্রধানমন্ত্রী, রাষ্ট্রপতি, তারাও আলাদাভাবে বেদিতে পুস্পস্তবক অর্পণ করেন।’ পরে তিনি জেলা প্রশাসন ও দলের ব্যানারে পুস্পস্তবক অর্পণ করেন।

লালমনিরহাট সনাকের সভাপতি বীর মুক্তিযোদ্বা ক্যাপ্টেন (অব.) আজিজুল হক বীর প্রতীক বলেন, ‘এখানে একুশের চেতনার কোনো গান নেই। বাংলায় হাসি, বাংলায় কথা বলি, বাংলায় চলি অথচ এখানে কোনো বাংলার চর্চা নেই।’
সম্মিলিত সাংস্কৃতিক ফোরামের লালমনিরহাট শাখার সাধারণ সম্পাদক সূফী মোহাম্মদ বলেন, ‘এবার শহীদ মিনার প্রাঙ্গণে একুশের গান বাজানো হলো না। এ দিবসকে সামনে রেখে জেলা শিল্পকলা একাডেমি গজল প্রতিযোগিতার আযোজন করেছে। এতে দেশের গান বা ভাষার গান ছিল না। এটা কষ্টের কথা।’
নাট্যকর্মী সুপেন নাথ দত্ত বলেন, ‘‘একুশ বাঙালির চেতনার জায়গা। ‘আমার ভাইয়ের রক্ত রাঙানো’ গানটি মানুষকে উদ্বেলিত করে। অথচ দেশাত্ববোধক বা অমর একুশের কালজয়ী গান বাজানো হয়নি।’
এদিকে জেলা প্রশাসনের কর্মসূচিতে গজল প্রতিযোগিতার কথা উল্লেখ না থাকলেও জেলা শিল্পকলা একাডেমি গজল প্রতিযোগিতার আয়োজন করে। এ ব্যাপারে জানতে সংস্কৃতি কর্মকর্তা হামিদুর রহমানকে ফোন করা হলে তিনি প্রশ্নের উত্তর না দিয়ে অন্য প্রসঙ্গে চলে যান।
লালমনিরহাট জেলা প্রশাসক এইচ এম রকিব হায়দার বলেন, ‘মূলত তিনি (মন্ত্রী) তো সরকার। সরকারের পক্ষ থেকে জেলা প্রশাসন শ্রদ্ধা নিবেদন করেছে। সরকার হিসেবেই তিনি (মন্ত্রী) শ্রদ্ধা নিবেদন করেছেন।’
প্রতিনিধির নাম 


















