দেশে শৈত্যপ্রবাহের দাপট টানা দশ দিনের বেশি সময় ধরে চললেও গতকাল বুধবার সেটি সংকুচিত হয়ে এসে শুধু পঞ্চগড়ে ছিল। এতদিন ধরে বিস্তৃত থাকা ঠান্ডার প্রভাব কমতে কমতে এটিই ছিল সবচেয়ে ছোট পরিসরের বিস্তার। তবে শৈত্যপ্রবাহ আবারও ছড়িয়ে
পড়তে পারে। আজ বৃহস্পতিবার থেকে উত্তর ও পশ্চিমাঞ্চলে তাপমাত্রা আরও ১ থেকে ২ ডিগ্রি কমে নতুন শৈত্যপ্রবাহ শুরু হতে পারে।
পঞ্চগড়ের তেঁতুলিয়ায় গতকাল দেশের সর্বনিম্ন তাপমাত্রা নেমে আসে ৮ ডিগ্রি সেলসিয়াসে। আগের দিন ছিল ৭.৫ ডিগ্রি। সাত দিন ধরে দেশের সর্বনিম্ন তাপমাত্রার তালিকার শীর্ষে রয়েছে এ অঞ্চল। সোমবার ৮.৪, রোববার ৭.৩ ডিগ্রি– প্রতিদিনই ওঠানামা করলেও
শীতের চাপ কিছুতেই কমছে না। আবহাওয়া অধিদপ্তরের জ্যেষ্ঠ আবহাওয়াবিদ মুহাম্মদ আবুল কালাম মল্লিক সমকালকে জানান, নতুন শৈত্যপ্রবাহ শনিবার পর্যন্ত টিকে থাকতে পারে। এরপর তাপমাত্রা ধীরে ধীরে বাড়ার সম্ভাবনা আছে।

জানুয়ারির শুরুতেই দীর্ঘমেয়াদি পূর্বাভাসে বলা হয়েছিল, এ মাসে পাঁচটি শৈত্যপ্রবাহ আসতে পারে, যার একটি হবে তীব্র মাত্রার। বাস্তবে মাসের শুরু থেকেই দেশের বিভিন্ন এলাকায় ঠান্ডার দাপট ছিল। গত চার দিন ধরে যদিও শৈত্যপ্রবাহে কিছুটা ভাটা দেখা গেছে, কিন্তু
নতুন শৈত্যপ্রবাহের শঙ্কা আবারও জনজীবনকে সতর্কতার দিকে ঠেলে দিচ্ছে। রাজধানী ঢাকার তাপমাত্রাও এ ওঠানামার মধ্যেই রয়েছে। গত মঙ্গলবার খানিকটা বাড়লেও গতকাল তা আবার নেমে আসে ১৫.৬ ডিগ্রি সেলসিয়াসে। আগের দিন ছিল ১৬ ডিগ্রি। শহরের
সকাল এখনও ধোঁয়াশায় ঢেকে থাকে। তবে সব মিলিয়ে দেশের উত্তর-পশ্চিমাঞ্চল আবারও কঠিন শীতের মুখোমুখি হতে চলেছে। কনকনে ঠান্ডায় কাবু স্থানীয়রা দিনের প্রথমভাগে ঘর থেকে বের হতেও সংকোচ বোধ করছেন। হাটবাজার ও যাতায়াত কমে এসেছে,
ছিন্নমূল মানুষের কষ্ট আরও বাড়ছে। আগামী কয়েক দিন শীত আরও তীব্র হতে পারে– এই সতর্কতা দিয়ে আবহাওয়া অধিদপ্তর সবাইকে সাবধান থাকার পরামর্শ দিয়েছে।
প্রতিনিধির নাম 




















