ঢাকা ১০:২৫ অপরাহ্ন, সোমবার, ০৪ মে ২০২৬, ২১ বৈশাখ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম ::
নিয়ামতপুরে উন্নয়ন কার্যক্রম ও মানবিক সহায়তায় ব্যস্ত দিন বন্য হাতির তাণ্ডবে রামুতে নিহত মা-মেয়ে পর্নোগ্রাফি মামলায় রাজ-এর আহ্বান, দোষী হলে শাস্তি, নইলে মুক্তি চান চীনের বড় সাফল্য, মিলেছে ২০০টির বেশি নতুন তেল-গ্যাস ক্ষেত্র হাওরে ভয়াবহ ক্ষতি, পানির নিচে ২০০ কোটি টাকার ধান টানা বৃষ্টিতে ডুবে গেছে হাজার বিঘা পাকা ধানক্ষেত ব্রিটিশদের ভূমিকা না থাকলে আমেরিকায় ফরাসি ভাষাই হতো প্রধান, ট্রাম্পকে রাজার কটাক্ষ পাচার হওয়া অর্থ দেশে ফিরিয়ে আনতে সক্রিয় বাংলাদেশ গুরুত্বপূর্ণ সময়েও কাজের চাপে ব্যস্ত দীপিকা, নেই দম নেওয়ার সুযোগ অন্য দেশকে নির্দেশ দেওয়ার অবস্থায় আর নেই যুক্তরাষ্ট্র: ইরান

হামজার পানে তাকিয়ে সবাই

  • sharmin sanjida
  • আপডেট সময় : ০৩:২৯:৪৮ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৯ অক্টোবর ২০২৫
  • ১৬৮ বার পড়া হয়েছে

জাতীয় স্টেডিয়ামের ভেতরে নানা ব্যস্ততা। কনসার্টের মঞ্চ সাজানোর কাজ করছেন কেউ কেউ। ম্যাচের দিন কীভাবে দর্শকদের মাতিয়ে রাখবে, তার রিহার্সেল করছে একদল শিক্ষার্থী। হামজা চৌধুরী-শমিত সোমরা যাদের হাতে নিয়ে মাঠে প্রবেশ করবেন, সেই খুদে ফুটবলাররাও গতকাল বুধবার নিজেদের প্রস্তুত করার জন্য এসেছেন ঢাকার জাতীয় স্টেডিয়ামে। আজ এই মঞ্চেই ফুটবলে লড়াইয়ে বাংলাদেশের প্রতিপক্ষ হংকং চায়না। এশিয়ান কাপ বাছাইয়ের তৃতীয় রাউন্ডে গুরুত্বপূর্ণ ম্যাচে বাংলাদেশের ফুটবলপ্রেমীরা তাকিয়ে লেস্টার সিটির ডিফেন্সিভ মিডফিল্ডার হামজা চৌধুরীর দিকে। বাছাইয়ে গ্রুপ ‘সি’তে প্রথম জয়ের স্বপ্ন যেমন দেখছে হ্যাভিয়ের ক্যাবরেরার দল, তেমনি করে হারলে পরের রাউন্ডে খেলার সম্ভাবনা কার্যত শেষ হয়ে যাবে। ম্যাচটি শুরু হবে বৃহস্পতিবার রাত ৮টায়, দেখা যাবে টি স্পোর্টসে।

এই হংকংয়ের সঙ্গে বাংলাদেশের অতীত পারফরম্যান্স স্বস্তির নয়। দুদলের চার দেখায় একবারও হাসতে পারেনি লাল-সবুজের দলটি। দুটিতে পরাজয়ের সঙ্গে সমান সংখ্যক ম্যাচে ড্র করেছে। হংকং চায়নার বিপক্ষে বাংলাদেশ সর্বশেষ খেলেছিল ১৯ বছর আগে। ২০০৬ সালের নভেম্বরে অনুষ্ঠিত এএফসি কাপের সেই ম্যাচটি অবশ্য গোলশূন্য ড্র হয়েছিল। তবে হংকংয়ের সঙ্গে বাংলাদেশের ফুটবল লড়াইয়ের যাত্রাটা ছিল দুর্বিষহ। ১৯৭৫ সালের ১০ আগস্ট মারদেকা কাপে বাংলাদেশ হেরেছিল ৯-১ গোলে। অতীত পরিসংখ্যানের সঙ্গে র‍্যাঙ্কিংয়েও হ্যাভিয়ের ক্যাবরেরার দলের চেয়ে এগিয়ে হংকং চায়না। বাংলাদেশের (১৮৪) চেয়ে ৩৮ ধাপ এগিয়ে হংকং (১৪৬)। 

ইতিহাস আর র‍্যাঙ্কিং হয়তো কথা বলছে হংকংয়ের পক্ষে। কিন্তু ম্যাচটি যখন হোমগ্রাউন্ডে আর দলে হামজা-শমিতের মতো উঁচু মানের ফুটবলার আছেন, তখন ম্যাচের আগে তো আর বাংলাদেশকে পিছিয়ে রাখা যায় না। যেমনটি অধিনায়ক জামাল ভূঁইয়া মনে করিয়ে দিলেন। গতকাল বুধবার ম্যাচ-পূর্ববর্তী সংবাদ সম্মেলনে ডেনমার্কপ্রবাসী এ মিডফিল্ডার রীতিমতো হংকংকে হুমকি দিয়ে রাখলেন, ‘সিঙ্গাপুর ম্যাচে আমরা ভুল করেছি বলে হেরেছি। হংকংয়ের বিপক্ষে সেটা চলবে না। ম্যাচটি আমাদের ঘরের মাঠে আর দল হিসেবে সবাই একতাবদ্ধ। আমি বিশ্বাস করি, এবার হংকংকে হারাতে পারব।’ জামালের এই বিশ্বাস এসেছে গত কিছুদিন ধরে দলের অনুশীলন থেকে শুরু করে সব জায়গায় ফুটবলারদের জয়ের তীব্র ক্ষুধা দেখে।

হ্যাভিয়ের ক্যাবরেরার সবচেয়ে বড় ভরসা কিংবা আস্থার জায়গা হামজা চৌধুরী। ইংল্যান্ডপ্রবাসী এ তারকা আসার পর বাংলাদেশের ফুটবলের চেহারাটা বদলে গেছে। চোটের সঙ্গে লড়াই করা তপু বর্মণের আজকের ম্যাচে খেলার সম্ভাবনা ক্ষীণ। শেষ পর্যন্ত যদি না খেলেন, তাহলে তপুর পজিশন অর্থাৎ, রক্ষণে হামজাকে দেখা যেতে পারে। কারণ, হংকংয়ের আক্রমণভাগ বেশ শক্তিশালী। শুধু রক্ষণই নয়, হামজাকে আজ মধ্যমাঠের দায়িত্বও পালন করতে হবে। তাঁকে দ্বৈত ভূমিকায় চাওয়ার কথাটা কয়েক দিন আগে বলেছিলেন বাংলাদেশ কোচ ক্যাবরেরা। পুরো বাংলাদেশ যখন হামজার পানে তাকিয়ে, তখন প্রতিপক্ষ হংকং দলের কোচ অ্যাশলে ওয়েস্ট উডের একটি মন্তব্য আলোচনার জন্ম দিয়েছে।

গতকাল সংবাদ সম্মেলনে তাঁর কাছে প্রশ্ন ছুটে যায় হামজার মতো ফুটবলার থাকলে কোন পজিশনে খেলাতেন? অবাক করার মতো উত্তর দেন হংকং কোচ, ‘আমার দলে সে সাইড বেঞ্চে থাকত।’ হয়তো নিজেদের ওপর থেকে চাপটা সরিয়ে নেওয়ার জন্যই এমন কৌশলী মন্তব্য হংকং কোচের। বাংলাদেশ কোচ ক্যাবরেরা প্রতিপক্ষের কোনো ফুটবলারকে নিয়ে সেভাবে বলেননি।

বরং জয়ের আত্মবিশ্বাস ফুটে উঠেছে এ স্প্যানিয়ার্ডের কণ্ঠে, ‘আমরা জানি, আমাদের সক্ষমতা আছে, ইতিহাস গড়তে পারি। স্কোয়াডের গুণগত মান নিয়ে আমি সব সময়ই সন্তুষ্ট। তবে সাম্প্রতিক কিছু নতুন সংযোজন আমাদের দলকে আরও শক্তিশালী করেছে। শুরু থেকেই আমরা বলেছি, গ্রুপের চারটি দলই সমমানের। যদিও তাদের খেলার ধরন বা স্টাইল ভিন্ন, কিন্তু সামগ্রিক মান খুব কাছাকাছি। হংকং দল সিঙ্গাপুরের মতোই শক্তিশালী। এটা ফলাফলেও দেখা গেছে।’

আজ হামজার সঙ্গে চোখ থাকবে কানাডাপ্রবাসী শমিত সোমের দিকেও। এ দুই তারকা আক্রমণের সুর বেঁধে দেবেন। ফরোয়ার্ড লাইনে ইতালিপ্রবাসী ফাহমিদুল, ফয়সাল আহমেদ ফাহিম, রাকিব হোসেনরা যদি মিস না করেন, তাহলে গোল খরাটা কাটবে বলে বিশ্বাস ফুটবলবোদ্ধাদের। আর শুরুতেই গোল করতে পারলে পরিকল্পনা অনুযায়ী খেলাটা সহজ হয়ে যাবে। তাতে মিলে যেতে পারে ঐতিহাসিক জয়। যে জয়টি বাঁচিয়ে দিতে পারে বাংলাদেশ কোচ ক্যাবরেরার চাকরি। টিকিয়ে রাখতে পারে বাংলাদেশের পরের রাউন্ডে খেলার স্বপ্ন।

ট্যাগস :

এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি, অডিও, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার বেআইনি।

নিয়ামতপুরে উন্নয়ন কার্যক্রম ও মানবিক সহায়তায় ব্যস্ত দিন

হামজার পানে তাকিয়ে সবাই

আপডেট সময় : ০৩:২৯:৪৮ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৯ অক্টোবর ২০২৫

জাতীয় স্টেডিয়ামের ভেতরে নানা ব্যস্ততা। কনসার্টের মঞ্চ সাজানোর কাজ করছেন কেউ কেউ। ম্যাচের দিন কীভাবে দর্শকদের মাতিয়ে রাখবে, তার রিহার্সেল করছে একদল শিক্ষার্থী। হামজা চৌধুরী-শমিত সোমরা যাদের হাতে নিয়ে মাঠে প্রবেশ করবেন, সেই খুদে ফুটবলাররাও গতকাল বুধবার নিজেদের প্রস্তুত করার জন্য এসেছেন ঢাকার জাতীয় স্টেডিয়ামে। আজ এই মঞ্চেই ফুটবলে লড়াইয়ে বাংলাদেশের প্রতিপক্ষ হংকং চায়না। এশিয়ান কাপ বাছাইয়ের তৃতীয় রাউন্ডে গুরুত্বপূর্ণ ম্যাচে বাংলাদেশের ফুটবলপ্রেমীরা তাকিয়ে লেস্টার সিটির ডিফেন্সিভ মিডফিল্ডার হামজা চৌধুরীর দিকে। বাছাইয়ে গ্রুপ ‘সি’তে প্রথম জয়ের স্বপ্ন যেমন দেখছে হ্যাভিয়ের ক্যাবরেরার দল, তেমনি করে হারলে পরের রাউন্ডে খেলার সম্ভাবনা কার্যত শেষ হয়ে যাবে। ম্যাচটি শুরু হবে বৃহস্পতিবার রাত ৮টায়, দেখা যাবে টি স্পোর্টসে।

এই হংকংয়ের সঙ্গে বাংলাদেশের অতীত পারফরম্যান্স স্বস্তির নয়। দুদলের চার দেখায় একবারও হাসতে পারেনি লাল-সবুজের দলটি। দুটিতে পরাজয়ের সঙ্গে সমান সংখ্যক ম্যাচে ড্র করেছে। হংকং চায়নার বিপক্ষে বাংলাদেশ সর্বশেষ খেলেছিল ১৯ বছর আগে। ২০০৬ সালের নভেম্বরে অনুষ্ঠিত এএফসি কাপের সেই ম্যাচটি অবশ্য গোলশূন্য ড্র হয়েছিল। তবে হংকংয়ের সঙ্গে বাংলাদেশের ফুটবল লড়াইয়ের যাত্রাটা ছিল দুর্বিষহ। ১৯৭৫ সালের ১০ আগস্ট মারদেকা কাপে বাংলাদেশ হেরেছিল ৯-১ গোলে। অতীত পরিসংখ্যানের সঙ্গে র‍্যাঙ্কিংয়েও হ্যাভিয়ের ক্যাবরেরার দলের চেয়ে এগিয়ে হংকং চায়না। বাংলাদেশের (১৮৪) চেয়ে ৩৮ ধাপ এগিয়ে হংকং (১৪৬)। 

ইতিহাস আর র‍্যাঙ্কিং হয়তো কথা বলছে হংকংয়ের পক্ষে। কিন্তু ম্যাচটি যখন হোমগ্রাউন্ডে আর দলে হামজা-শমিতের মতো উঁচু মানের ফুটবলার আছেন, তখন ম্যাচের আগে তো আর বাংলাদেশকে পিছিয়ে রাখা যায় না। যেমনটি অধিনায়ক জামাল ভূঁইয়া মনে করিয়ে দিলেন। গতকাল বুধবার ম্যাচ-পূর্ববর্তী সংবাদ সম্মেলনে ডেনমার্কপ্রবাসী এ মিডফিল্ডার রীতিমতো হংকংকে হুমকি দিয়ে রাখলেন, ‘সিঙ্গাপুর ম্যাচে আমরা ভুল করেছি বলে হেরেছি। হংকংয়ের বিপক্ষে সেটা চলবে না। ম্যাচটি আমাদের ঘরের মাঠে আর দল হিসেবে সবাই একতাবদ্ধ। আমি বিশ্বাস করি, এবার হংকংকে হারাতে পারব।’ জামালের এই বিশ্বাস এসেছে গত কিছুদিন ধরে দলের অনুশীলন থেকে শুরু করে সব জায়গায় ফুটবলারদের জয়ের তীব্র ক্ষুধা দেখে।

হ্যাভিয়ের ক্যাবরেরার সবচেয়ে বড় ভরসা কিংবা আস্থার জায়গা হামজা চৌধুরী। ইংল্যান্ডপ্রবাসী এ তারকা আসার পর বাংলাদেশের ফুটবলের চেহারাটা বদলে গেছে। চোটের সঙ্গে লড়াই করা তপু বর্মণের আজকের ম্যাচে খেলার সম্ভাবনা ক্ষীণ। শেষ পর্যন্ত যদি না খেলেন, তাহলে তপুর পজিশন অর্থাৎ, রক্ষণে হামজাকে দেখা যেতে পারে। কারণ, হংকংয়ের আক্রমণভাগ বেশ শক্তিশালী। শুধু রক্ষণই নয়, হামজাকে আজ মধ্যমাঠের দায়িত্বও পালন করতে হবে। তাঁকে দ্বৈত ভূমিকায় চাওয়ার কথাটা কয়েক দিন আগে বলেছিলেন বাংলাদেশ কোচ ক্যাবরেরা। পুরো বাংলাদেশ যখন হামজার পানে তাকিয়ে, তখন প্রতিপক্ষ হংকং দলের কোচ অ্যাশলে ওয়েস্ট উডের একটি মন্তব্য আলোচনার জন্ম দিয়েছে।

গতকাল সংবাদ সম্মেলনে তাঁর কাছে প্রশ্ন ছুটে যায় হামজার মতো ফুটবলার থাকলে কোন পজিশনে খেলাতেন? অবাক করার মতো উত্তর দেন হংকং কোচ, ‘আমার দলে সে সাইড বেঞ্চে থাকত।’ হয়তো নিজেদের ওপর থেকে চাপটা সরিয়ে নেওয়ার জন্যই এমন কৌশলী মন্তব্য হংকং কোচের। বাংলাদেশ কোচ ক্যাবরেরা প্রতিপক্ষের কোনো ফুটবলারকে নিয়ে সেভাবে বলেননি।

বরং জয়ের আত্মবিশ্বাস ফুটে উঠেছে এ স্প্যানিয়ার্ডের কণ্ঠে, ‘আমরা জানি, আমাদের সক্ষমতা আছে, ইতিহাস গড়তে পারি। স্কোয়াডের গুণগত মান নিয়ে আমি সব সময়ই সন্তুষ্ট। তবে সাম্প্রতিক কিছু নতুন সংযোজন আমাদের দলকে আরও শক্তিশালী করেছে। শুরু থেকেই আমরা বলেছি, গ্রুপের চারটি দলই সমমানের। যদিও তাদের খেলার ধরন বা স্টাইল ভিন্ন, কিন্তু সামগ্রিক মান খুব কাছাকাছি। হংকং দল সিঙ্গাপুরের মতোই শক্তিশালী। এটা ফলাফলেও দেখা গেছে।’

আজ হামজার সঙ্গে চোখ থাকবে কানাডাপ্রবাসী শমিত সোমের দিকেও। এ দুই তারকা আক্রমণের সুর বেঁধে দেবেন। ফরোয়ার্ড লাইনে ইতালিপ্রবাসী ফাহমিদুল, ফয়সাল আহমেদ ফাহিম, রাকিব হোসেনরা যদি মিস না করেন, তাহলে গোল খরাটা কাটবে বলে বিশ্বাস ফুটবলবোদ্ধাদের। আর শুরুতেই গোল করতে পারলে পরিকল্পনা অনুযায়ী খেলাটা সহজ হয়ে যাবে। তাতে মিলে যেতে পারে ঐতিহাসিক জয়। যে জয়টি বাঁচিয়ে দিতে পারে বাংলাদেশ কোচ ক্যাবরেরার চাকরি। টিকিয়ে রাখতে পারে বাংলাদেশের পরের রাউন্ডে খেলার স্বপ্ন।