ঢাকা ০৮:৩১ অপরাহ্ন, শনিবার, ০৯ মে ২০২৬, ২৬ বৈশাখ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম ::
নিয়ামতপুরে উন্নয়ন কার্যক্রম ও মানবিক সহায়তায় ব্যস্ত দিন বন্য হাতির তাণ্ডবে রামুতে নিহত মা-মেয়ে পর্নোগ্রাফি মামলায় রাজ-এর আহ্বান, দোষী হলে শাস্তি, নইলে মুক্তি চান চীনের বড় সাফল্য, মিলেছে ২০০টির বেশি নতুন তেল-গ্যাস ক্ষেত্র হাওরে ভয়াবহ ক্ষতি, পানির নিচে ২০০ কোটি টাকার ধান টানা বৃষ্টিতে ডুবে গেছে হাজার বিঘা পাকা ধানক্ষেত ব্রিটিশদের ভূমিকা না থাকলে আমেরিকায় ফরাসি ভাষাই হতো প্রধান, ট্রাম্পকে রাজার কটাক্ষ পাচার হওয়া অর্থ দেশে ফিরিয়ে আনতে সক্রিয় বাংলাদেশ গুরুত্বপূর্ণ সময়েও কাজের চাপে ব্যস্ত দীপিকা, নেই দম নেওয়ার সুযোগ অন্য দেশকে নির্দেশ দেওয়ার অবস্থায় আর নেই যুক্তরাষ্ট্র: ইরান

যশোরে আ.লীগের তিন নেতা ও ৯ পুলিশের বিরুদ্ধে মামলা

  • sharmin sanjida
  • আপডেট সময় : ০১:৫২:০৪ অপরাহ্ন, বুধবার, ৮ অক্টোবর ২০২৫
  • ১৪৩ বার পড়া হয়েছে

আওয়ামী লীগের তিন নেতাসহ ১২ পুলিশের বিরুদ্ধে চাঁদার দাবিতে মারধর ও হত্যাচেষ্টার অভিযোগে যশোরের একটি আদালতে নালিশি অভিযোগ দেওয়া হয়েছে। অভিযোগকারী যশোরের শার্শা উপজেলা বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট মোস্তফা কামাল মিন্টু।

 

সোমবার (৬ অক্টোবর) সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে এ অভিযোগপত্র দাখিল করেন তিনি।

 

আদালতের বিচারক জাকিয়া সুলতানা বিষয়টি তদন্ত করে সিআইডি পুলিশকে প্রতিবেদন জমা দেওয়ার আদেশ দিয়েছেন।

 

বাদীর আইনজীবী দেবাশীষ দাস বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

 

বাদীর অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, অ্যাডভোকেট মোস্তফা কামাল মিন্টু যশোরের শার্শা উপজেলার শ্যামলাগাছি গ্রামের বাসিন্দা। ২০০৮ সালের ১৬ জুন রাত ৮টার দিকে শ্যামলাগাছি গ্রামে চাচা আব্দুল মালেকের বাড়ি থেকে শার্শা থানার তৎকালীন এসআই আব্দুস সালাম, এসআই রকিবুজ্জামান, এসআই ইকবাল আহমেদ এবং তৎকালীন শার্শা ইউপি চেয়ারম্যান ও আওয়ামী লীগ নেতা কবিরউদ্দিন তোতা, রফিকুল ইসলাম ও নজরুল ইসলাম, শার্শা থানার ওসি তাকে সালাম দিয়েছেন বলে থানায় নিয়ে যান। থানায় নেওয়ার পরপরই তার হাত-পা বেঁধে আসামিরা মারতে শুরু করেন। মারধরের একপর্যায়ে আসামি এসএম বদরুল আলম ও রকিবুজ্জামান তার কাছে ১০ লাখ টাকা দাবি করেন। টাকা না দিলে তাকে ‘ক্রসফায়ারে’ দেওয়ার হুমকি দেন।

 

ওই সময় স্বজনদের কাছ থেকে টাকা আনার জন্য তাকে বেদম মারপিট করা হয়। এরই মধ্যে ওসি তার দুই চোখ বেঁধে এবং দুই হাত পেছনে নিয়ে হ্যান্ডকাপ পরিয়ে দেন এবং পায়ের পাতা থেকে হাঁটু পর্যন্ত পানির বোতল, রুল ও আগ্নেয়াস্ত্রের কাঠের বাট দিয়ে বেদম মারপিট করেন।

 

এজাহারে বলা হয়েছে- খবর পেয়ে বাদীর চাচাতো ভাই আব্দুস সালাম ৫ লাখ টাকা এনে ওসিকে দেন; কিন্তু বাকি টাকার জন্য তাকে ছেড়ে না দিয়ে আওয়ামী লীগের ওই তিন নেতার সরবরাহকৃত একটি শার্টার গান ও দুই রাউন্ড রাইফেলের গুলি দিয়ে আদালতে চালান দেওয়া হয়।

 

এ মারধরের কারণে অ্যাডভোকেট মোস্তফা কামাল মিন্টুকে দেশের ভেতরে ছাড়াও ভারতে চিকিৎসা নিতে হয়েছে। সন্তানের এ অবস্থা দেখে তার মা হৃদযন্ত্রের ক্রিয়া বন্ধ হয়ে মার যান।

 

অ্যাডভোকেট মোস্তফা কামাল মিন্টু জানিয়েছেন, দীর্ঘদিন চিকিৎসা গ্রহণ, এলাকাছাড়া এবং দেশের পরিস্থিতি অনুকূলে না থাকায় মামলা করতে তার দেরি হয়েছে।

 

মামলার আসামিরা হলেন- আওয়ামী লীগ নেতা কবিরউদ্দিন তোতা, রফিকুল ইসলাম, নজরুল ইসলাম, শার্শা থানার সাবেক ওসি বদরুল আলম, সাবেক এসআই আব্দুস সালাম, সাবেক এসআই রকিবুজ্জামান, সাবেক এসআই ইকবাল আহমেদ, সাবেক এএসআই আজাদ হাওলাদার, কনস্টেবল সুলতান আলম, কনস্টেবল এরশাদুল হক, কনস্টেবল আবুল কালাম ও কনস্টেবল রিয়াজুল ইসলামসহ অজ্ঞাত ২-৩ জন।

ট্যাগস :

এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি, অডিও, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার বেআইনি।

নিয়ামতপুরে উন্নয়ন কার্যক্রম ও মানবিক সহায়তায় ব্যস্ত দিন

যশোরে আ.লীগের তিন নেতা ও ৯ পুলিশের বিরুদ্ধে মামলা

আপডেট সময় : ০১:৫২:০৪ অপরাহ্ন, বুধবার, ৮ অক্টোবর ২০২৫

আওয়ামী লীগের তিন নেতাসহ ১২ পুলিশের বিরুদ্ধে চাঁদার দাবিতে মারধর ও হত্যাচেষ্টার অভিযোগে যশোরের একটি আদালতে নালিশি অভিযোগ দেওয়া হয়েছে। অভিযোগকারী যশোরের শার্শা উপজেলা বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট মোস্তফা কামাল মিন্টু।

 

সোমবার (৬ অক্টোবর) সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে এ অভিযোগপত্র দাখিল করেন তিনি।

 

আদালতের বিচারক জাকিয়া সুলতানা বিষয়টি তদন্ত করে সিআইডি পুলিশকে প্রতিবেদন জমা দেওয়ার আদেশ দিয়েছেন।

 

বাদীর আইনজীবী দেবাশীষ দাস বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

 

বাদীর অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, অ্যাডভোকেট মোস্তফা কামাল মিন্টু যশোরের শার্শা উপজেলার শ্যামলাগাছি গ্রামের বাসিন্দা। ২০০৮ সালের ১৬ জুন রাত ৮টার দিকে শ্যামলাগাছি গ্রামে চাচা আব্দুল মালেকের বাড়ি থেকে শার্শা থানার তৎকালীন এসআই আব্দুস সালাম, এসআই রকিবুজ্জামান, এসআই ইকবাল আহমেদ এবং তৎকালীন শার্শা ইউপি চেয়ারম্যান ও আওয়ামী লীগ নেতা কবিরউদ্দিন তোতা, রফিকুল ইসলাম ও নজরুল ইসলাম, শার্শা থানার ওসি তাকে সালাম দিয়েছেন বলে থানায় নিয়ে যান। থানায় নেওয়ার পরপরই তার হাত-পা বেঁধে আসামিরা মারতে শুরু করেন। মারধরের একপর্যায়ে আসামি এসএম বদরুল আলম ও রকিবুজ্জামান তার কাছে ১০ লাখ টাকা দাবি করেন। টাকা না দিলে তাকে ‘ক্রসফায়ারে’ দেওয়ার হুমকি দেন।

 

ওই সময় স্বজনদের কাছ থেকে টাকা আনার জন্য তাকে বেদম মারপিট করা হয়। এরই মধ্যে ওসি তার দুই চোখ বেঁধে এবং দুই হাত পেছনে নিয়ে হ্যান্ডকাপ পরিয়ে দেন এবং পায়ের পাতা থেকে হাঁটু পর্যন্ত পানির বোতল, রুল ও আগ্নেয়াস্ত্রের কাঠের বাট দিয়ে বেদম মারপিট করেন।

 

এজাহারে বলা হয়েছে- খবর পেয়ে বাদীর চাচাতো ভাই আব্দুস সালাম ৫ লাখ টাকা এনে ওসিকে দেন; কিন্তু বাকি টাকার জন্য তাকে ছেড়ে না দিয়ে আওয়ামী লীগের ওই তিন নেতার সরবরাহকৃত একটি শার্টার গান ও দুই রাউন্ড রাইফেলের গুলি দিয়ে আদালতে চালান দেওয়া হয়।

 

এ মারধরের কারণে অ্যাডভোকেট মোস্তফা কামাল মিন্টুকে দেশের ভেতরে ছাড়াও ভারতে চিকিৎসা নিতে হয়েছে। সন্তানের এ অবস্থা দেখে তার মা হৃদযন্ত্রের ক্রিয়া বন্ধ হয়ে মার যান।

 

অ্যাডভোকেট মোস্তফা কামাল মিন্টু জানিয়েছেন, দীর্ঘদিন চিকিৎসা গ্রহণ, এলাকাছাড়া এবং দেশের পরিস্থিতি অনুকূলে না থাকায় মামলা করতে তার দেরি হয়েছে।

 

মামলার আসামিরা হলেন- আওয়ামী লীগ নেতা কবিরউদ্দিন তোতা, রফিকুল ইসলাম, নজরুল ইসলাম, শার্শা থানার সাবেক ওসি বদরুল আলম, সাবেক এসআই আব্দুস সালাম, সাবেক এসআই রকিবুজ্জামান, সাবেক এসআই ইকবাল আহমেদ, সাবেক এএসআই আজাদ হাওলাদার, কনস্টেবল সুলতান আলম, কনস্টেবল এরশাদুল হক, কনস্টেবল আবুল কালাম ও কনস্টেবল রিয়াজুল ইসলামসহ অজ্ঞাত ২-৩ জন।