ইউরোপিয়ান ইউনিভার্সিটি অফ বাংলাদেশের (BOT) চেয়ারম্যান পদ নিয়ে চলছে চরম টানাপড়েন। একজনের হাতে রয়েছে বিশ্ববিদ্যালয়ের বৈধ কাগজপত্র, আর অন্যজন ব্যবহার করছেন প্রভাব ও ক্ষমতার দাপট।
এ নিয়ে শিক্ষার্থী ও সংশ্লিষ্ট মহলে তৈরি হয়েছে বিভ্রান্তি ও উৎকণ্ঠা। বিশ্ববিদ্যালয়ের পরিচালনা বোর্ডে (BOT) থাকা একাধিক সদস্যের ওপর নানাভাবে চাপ সৃষ্টি করে নিজের কর্তৃত্ব প্রতিষ্ঠার চেষ্টা করে চেয়ারম্যান দাবি করছেন সাবেক চেয়ারম্যান মকবুল আহমেদ খান । অন্যদিকে, যিনি কাগজপত্রে বৈধ চেয়ারম্যান হিসেবে আছেন, তিনি পরিস্থিতি সামাল দিতে আইনানুগ পদক্ষেপ নিচ্ছেন। এই দ্বন্দ্বে বিশ্ববিদ্যালয়ের স্বাভাবিক কার্যক্রম ব্যাহত হচ্ছে এবং শিক্ষা পরিবেশ প্রশ্নবিদ্ধ হচ্ছে। সংশ্লিষ্টরা চান দ্রুত সমাধান।
গত বৃহস্পতিবার গাবতলীস্থ স্থায়ী ক্যাম্পাসের সকল ডিপার্টমেন্টের শিক্ষকদের উপস্থিতিতে এক সংবাদ সম্মেলনে তারা বলেন (BOT) সকল সদস্যদের সম্মতিতে আহমেদ ফরহাদ খানকে ইইউবি (BOT) এর চেয়ারম্যান পদে নির্বাচিত করা হয়।
এর আগে গত বুধবার ইউনিভার্সিটির শিক্ষার্থীরা বর্তমান (BOT) চেয়ারম্যান এর বিরুদ্ধে বিস্তর অভিযোগ এনে সংবাদ সম্মেলন করেছিলেন।
এদিকে, গত বুধবার বিশ্ববিদ্যালয়ের শৃঙ্খলা ভঙ্গ সহ পাঁচটি সুনির্দিষ্ট কারণ দেখিয়ে আইন বিভাগের ২৪ তম ব্যাচ এর মসিউর রহমান রাঙ্গা নামে এক শিক্ষার্থীকে কারণ দর্শানোর নোটিশ দিয়েছে ইউনিভার্সিটি কর্তৃপক্ষ। চিঠি পাওয়ার ৩ কার্যদিবসের মধ্যে জবাব বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ।
শিক্ষকরা অভিযোগ করেন, সাবেক চেয়ারম্যান অবৈধভাবে পুনরায় চেয়ার দখলের চেষ্টা করতে মরিয়া হয়ে উঠেছে। কিছু সংখ্যক শিক্ষার্থীদের নিজ স্বার্থে ব্যবহার করে অনৈতিকভাবে ইউনিভার্সিটি সকল উন্নয়ন মূলক কাজে হস্তক্ষেপ করে বাধা সৃষ্টি করছে এতে ইউনিভার্সিটির সকল কর্মকাণ্ড ব্যাহত হচ্ছে।
এ বিষয়ে (BOT) চেয়ারম্যান আহমেদ ফরহাদ খান প্রতিবেদক কে বলেন, একটি পক্ষ শিক্ষার্থীদের ব্যবহার করে অনৈতিকভাবে ইউনিভার্সিটি পরিচালনা করতে চেষ্টা করে যাচ্ছে, ইতিমধ্যে তার অনেকগুলো প্রমাণ আমাদের হাতে এসেছে, ইইউবি কর্তৃপক্ষ ইতিমধ্যে তাদের বিরুদ্ধে যথাযথ ব্যবস্থা গ্রহণ করছে।
উপাচার্য প্রফেসর ড. মোঃ আলীম দাদ বলেন, প্রাক্তন বিজনেস চেয়ারম্যান ফারজানা আলম সাবেক (BOT) চেয়ারম্যান মকবুল আহমেদ খানকে দেওয়া একটি চিঠি ইউনিভার্সিটি কর্তৃপক্ষের হাতে এসেছে, যেখানে সু স্পষ্ট প্রমাণ হয়েছে তাদের অবৈধ সম্পর্ক ছিল। এবং সাবেক চেয়ারম্যান মকবুল আহমেদ খান কে ব্ল্যাকমেইল করে ইউনিভার্সিটি নিজের নামে লিখে নেওয়া সুস্পষ্ট প্লান করেছিলেন ফারজানা আলম তারও প্রমাণ উঠে এসেছে এই চিঠিতে।
তিনি আরও বলেন, একটি অরাজনৈতিক শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে কোন রাজনীতি চলবে না, যে যত বড় শক্তিশালী ব্যক্তিই হোক না কেন ইইউবিতে কোনো দুর্নীতিবাজের জায়গা নেই। জাল PHD সার্টিফিকেট ব্যবহারের সত্যতা পাওয়াই বিজনেস চেয়ারম্যান ফারজানা আলম পদত্যাগ করেছেন এছাড়াও বেশ কয়েকজন কর্মকর্তা-কর্মচারীর এবং শিক্ষার্থীর বিরুদ্ধে অবৈধ কর্মকান্ডের সত্যতা পাওয়া গেছে, তাদের বিরুদ্ধে প্রশাসনিক ব্যবস্থা গ্রহণ করা হচ্ছে।
এ বিষয়ে সাবেক (BOT) চেয়ারম্যান মকবুল আহমেদ খানের মুঠোফোনে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।
প্রতিনিধির নাম 



















