ঢাকা ০১:৩৩ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ১৩ মার্চ ২০২৬, ২৯ ফাল্গুন ১৪৩২ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম ::
নারায়ণগঞ্জের সিদ্ধিরগঞ্জ থানার ১ নং ওয়ার্ডের সিআইখোলা এলাকায় মাদক বিক্রি করতে নিষেধ ৪৪ বছর পর ‘দম’-এ ফিরে সেই স্মরণীয় গান গাইলেন সাবিনা ইয়াসমিন মার্কিন গোয়েন্দা তথ্য: ইরানের শাসনব্যবস্থায় ভাঙনের আশঙ্কা নেই অসুস্থ হয়ে হাসপাতালে ভর্তি মির্জা আব্বাস ব্যারিস্টার কায়সার কামাল হলেন নতুন ডেপুটি স্পিকার রানার ঝড়ো গতিতে সাজঘরে ফিরলেন পাকিস্তানের তিন টপ অর্ডার ব্যাটার আলুর বস্তাপ্রতি ২০ টাকা চাঁদা নেওয়ার অভিযোগ স্বেচ্ছাসেবক দল নেতাদের বিরুদ্ধে প্রথমবার বাংলাদেশের চলচ্চিত্রে দেখা যাবে বলিউডের নাতালিয়াকে দেশে আবারও বাড়ল স্বর্ণের দাম, ক্রেতাদের মধ্যে বাড়ছে উদ্বেগ কৃত্রিম ডিজেল সংকটে বিপাকে কৃষক, বাড়ছে উৎপাদন ব্যয়

যুদ্ধবিরতি চুক্তির খবরে গাজাবাসীর উচ্ছ্বাস, ইসরায়েলে জিম্মি পরিবারে স্বস্তি

  • sharmin sanjida
  • আপডেট সময় : ০৫:২৭:১৩ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৯ অক্টোবর ২০২৫
  • ৮৬ বার পড়া হয়েছে

গাজায় শান্তি পরিকল্পনার প্রথম পর্যায় বাস্তবায়নে সম্মত হয়েছে ইসরায়েল ও হামাস। যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ট্রুথ সোশ্যালে এ তথ্য জানিয়েছেন। শান্তি চুক্তি সই হওয়ার খবরে উচ্ছ্বাস প্রকাশ করতে দেখা গেছে গাজাবাসীকে। ইসরায়েলে জিম্মিদের পরিবারগুলোও আনন্দ প্রকাশ করেছে। খবর-বিবিসি

যুদ্ধ শেষ করার জন্য ইসরায়েল ও হামাসের মধ্যে একটি চুক্তি হয়েছে, এমন খবরে বৃহস্পতিবার ফিলিস্তিনি ছিটমহল গাজার ফিলিস্তিনিরা ও ইসরায়েলে জিম্মিদের পরিবারগুলো আনন্দ প্রকাশ করেছে। বেশ কিছু ভিডিওতে গাজাবাসীকে যুদ্ধবিরতি চুক্তির খবরে উদযাপন করতে দেখা গেছে। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ফিলিস্তিনে যুদ্ধবিরতি এবং জিম্মি মুক্তির চুক্তির সংবাদ উদযাপনের বিভিন্ন ভিডিও প্রচারিত হয়। 

ফিলিস্তিনি সাংবাদিক সাঈদ মোহাম্মদ ইনস্টাগ্রামে রাতের একটি ভিডিও ফুটেজ পোস্ট করেছেন। এতে দেখা গেছে, প্রধান শহর দেইর আল বালাহতে আল-আকসা হাসপাতালের বাইরে পুরুষ ও মহিলাদের সমাগম দেখা গেছে। সঙ্গীতের তালে তালে নেচে নেচে শিস এবং হাততালি দিতে দেখা যাচ্ছে তাদের। একইসঙ্গে ‘আল্লাহু আকবর’ বলতেও দেখা গেছে।

আরেকজন সাংবাদিক মোহাম্মদ আল-হাদ্দাদ-এর আরেকটি ভিডিওতে দেখা গেছে, গাজার আরেকটি স্থানে রাস্তায় তরুণদের একটি ছোট দলকে নাচতে দেখা যাচ্ছে।

গাজার তরুণরা ধ্বংস হয়ে যাওয়া রাস্তাগুলোতে নেমে স্লোগান দিয়ে নেচে খবরটি উদযাপন করেছে। গাজার খান ইউনুস শহরে আনন্দরত আব্দুল মজিদ আব্দ রাব্বো বলেন, ‘এই যুদ্ধবিরতির জন্য শুধু আমিই খুশি না, পুরো গাজা ভূখণ্ড খুশি। এই রক্তপাত বন্ধ হয়ে যুদ্ধবিরতি হওয়ায় সব আরব জনগণ, পুরো বিশ্ব খুশি।’

ইসরায়েলের তেল আবিবে জিম্মি চত্বরে গাজায় হামাসের হাতে বন্দি এক জিম্মির মা আইনভ জাঙ্গাউকার আনন্দ প্রকাশ করেন।

ডোনাল্ড ট্রাম্প জানিয়েছেন, ইসরায়েল ও হামাস উভয়ই আমাদের শান্তি পরিকল্পনার প্রথম পর্যায়ে স্বাক্ষর করেছে। এর অর্থ হলো খুব শিগগিরই সব জিম্মিদের মুক্তি দেওয়া হবে এবং ইসরায়েল নিজেদের সেনাদের নির্ধারিত একটি লাইনে সরিয়ে আনবে।

ইসরায়েলি প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু এই চুক্তিকে ‘ইসরায়েলের জন্য একটি মহান দিন’ বলে অভিহিত করেছেন। এই চুক্তি অনুমোদনের জন্য বৃহস্পতিবার তার সরকারের একটি বৈঠক আহ্বান করেছেন।

হামাসও এই চুক্তি স্বাক্ষরের কথা নিশ্চিত করেছে। একইসঙ্গে ট্রাম্প ও এই চুক্তির সঙ্গে সংশ্লিষ্ট দেশগুলোকে তা পুরোপুরিভাবে মেনে চলতে ইসরায়েলকে বাধ্য করার জন্য আহ্বান জানিয়েছে হামাস।

২০২৩ সালের সাতই অক্টোবর হামাসের হামলার পাল্টা জবাবে গাজায় ইসরায়েল সামরিক অভিযান শুরু করার দুই বছর দুই দিন পরে মিশরে এই সমঝোতার আলোচনা শুরু হয়। হামাসের ওই হামলায় প্রায় ১২০০ জন নিহত এবং ২৫১ জনকে জিম্মি করা হয়েছিল। হামাস পরিচালিত স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, সেসময় থেকে গাজায় ইসরায়েলি সামরিক বাহিনীর অভিযানে অন্তত ৬৭ হাজার ১৮৩ জন নিহত হয়েছে, যাদের মধ্যে ২০ হাজার ১৭৯ জনই শিশু।

ট্যাগস :

এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি, অডিও, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার বেআইনি।

জনপ্রিয় সংবাদ

নারায়ণগঞ্জের সিদ্ধিরগঞ্জ থানার ১ নং ওয়ার্ডের সিআইখোলা এলাকায় মাদক বিক্রি করতে নিষেধ

যুদ্ধবিরতি চুক্তির খবরে গাজাবাসীর উচ্ছ্বাস, ইসরায়েলে জিম্মি পরিবারে স্বস্তি

আপডেট সময় : ০৫:২৭:১৩ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৯ অক্টোবর ২০২৫

গাজায় শান্তি পরিকল্পনার প্রথম পর্যায় বাস্তবায়নে সম্মত হয়েছে ইসরায়েল ও হামাস। যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ট্রুথ সোশ্যালে এ তথ্য জানিয়েছেন। শান্তি চুক্তি সই হওয়ার খবরে উচ্ছ্বাস প্রকাশ করতে দেখা গেছে গাজাবাসীকে। ইসরায়েলে জিম্মিদের পরিবারগুলোও আনন্দ প্রকাশ করেছে। খবর-বিবিসি

যুদ্ধ শেষ করার জন্য ইসরায়েল ও হামাসের মধ্যে একটি চুক্তি হয়েছে, এমন খবরে বৃহস্পতিবার ফিলিস্তিনি ছিটমহল গাজার ফিলিস্তিনিরা ও ইসরায়েলে জিম্মিদের পরিবারগুলো আনন্দ প্রকাশ করেছে। বেশ কিছু ভিডিওতে গাজাবাসীকে যুদ্ধবিরতি চুক্তির খবরে উদযাপন করতে দেখা গেছে। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ফিলিস্তিনে যুদ্ধবিরতি এবং জিম্মি মুক্তির চুক্তির সংবাদ উদযাপনের বিভিন্ন ভিডিও প্রচারিত হয়। 

ফিলিস্তিনি সাংবাদিক সাঈদ মোহাম্মদ ইনস্টাগ্রামে রাতের একটি ভিডিও ফুটেজ পোস্ট করেছেন। এতে দেখা গেছে, প্রধান শহর দেইর আল বালাহতে আল-আকসা হাসপাতালের বাইরে পুরুষ ও মহিলাদের সমাগম দেখা গেছে। সঙ্গীতের তালে তালে নেচে নেচে শিস এবং হাততালি দিতে দেখা যাচ্ছে তাদের। একইসঙ্গে ‘আল্লাহু আকবর’ বলতেও দেখা গেছে।

আরেকজন সাংবাদিক মোহাম্মদ আল-হাদ্দাদ-এর আরেকটি ভিডিওতে দেখা গেছে, গাজার আরেকটি স্থানে রাস্তায় তরুণদের একটি ছোট দলকে নাচতে দেখা যাচ্ছে।

গাজার তরুণরা ধ্বংস হয়ে যাওয়া রাস্তাগুলোতে নেমে স্লোগান দিয়ে নেচে খবরটি উদযাপন করেছে। গাজার খান ইউনুস শহরে আনন্দরত আব্দুল মজিদ আব্দ রাব্বো বলেন, ‘এই যুদ্ধবিরতির জন্য শুধু আমিই খুশি না, পুরো গাজা ভূখণ্ড খুশি। এই রক্তপাত বন্ধ হয়ে যুদ্ধবিরতি হওয়ায় সব আরব জনগণ, পুরো বিশ্ব খুশি।’

ইসরায়েলের তেল আবিবে জিম্মি চত্বরে গাজায় হামাসের হাতে বন্দি এক জিম্মির মা আইনভ জাঙ্গাউকার আনন্দ প্রকাশ করেন।

ডোনাল্ড ট্রাম্প জানিয়েছেন, ইসরায়েল ও হামাস উভয়ই আমাদের শান্তি পরিকল্পনার প্রথম পর্যায়ে স্বাক্ষর করেছে। এর অর্থ হলো খুব শিগগিরই সব জিম্মিদের মুক্তি দেওয়া হবে এবং ইসরায়েল নিজেদের সেনাদের নির্ধারিত একটি লাইনে সরিয়ে আনবে।

ইসরায়েলি প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু এই চুক্তিকে ‘ইসরায়েলের জন্য একটি মহান দিন’ বলে অভিহিত করেছেন। এই চুক্তি অনুমোদনের জন্য বৃহস্পতিবার তার সরকারের একটি বৈঠক আহ্বান করেছেন।

হামাসও এই চুক্তি স্বাক্ষরের কথা নিশ্চিত করেছে। একইসঙ্গে ট্রাম্প ও এই চুক্তির সঙ্গে সংশ্লিষ্ট দেশগুলোকে তা পুরোপুরিভাবে মেনে চলতে ইসরায়েলকে বাধ্য করার জন্য আহ্বান জানিয়েছে হামাস।

২০২৩ সালের সাতই অক্টোবর হামাসের হামলার পাল্টা জবাবে গাজায় ইসরায়েল সামরিক অভিযান শুরু করার দুই বছর দুই দিন পরে মিশরে এই সমঝোতার আলোচনা শুরু হয়। হামাসের ওই হামলায় প্রায় ১২০০ জন নিহত এবং ২৫১ জনকে জিম্মি করা হয়েছিল। হামাস পরিচালিত স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, সেসময় থেকে গাজায় ইসরায়েলি সামরিক বাহিনীর অভিযানে অন্তত ৬৭ হাজার ১৮৩ জন নিহত হয়েছে, যাদের মধ্যে ২০ হাজার ১৭৯ জনই শিশু।