ঢাকা ০১:৩৫ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ২০ এপ্রিল ২০২৬, ৬ বৈশাখ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম ::
অতিরিক্ত কাজকে স্বাভাবিক ভাবা—এই প্রবণতা বন্ধ করা এখন জরুরি মমতার দলের সাবেক সাংসদ দীনেশ ত্রিবেদী হচ্ছেন বাংলাদেশে ভারতের নতুন রাষ্ট্রদূত শিবিরের সাবেক নেতাদের এনসিপিতে ফেরার হিড়িক সেন্ট যোসেফ ইন্টারন্যাশনাল স্কুল’ SIIS Literary Club’ -এর উদ্যোগে অনুষ্ঠিত হলো চার দিনব্যাপী National Literature Festival 2026 বগুড়ায় নীরব ভোট, শেরপুর-৩ এ জামায়াতের বর্জন—নির্বাচনে ছায়া উত্তেজনা কুমিল্লা বাসস্ট্যান্ডে ভয়াবহ আগুনে ৩ বাস ভস্মীভূত চিকিৎসার জন্য দেশের বাইরে যাচ্ছেন সোহেল রানা অধ্যাদেশ ইস্যুতে উত্তাপ, ড. ইউনূসকে রাস্তায় নামতে বললেন নাহিদ নববর্ষে পরিবর্তন, ‘মঙ্গল’–‘আনন্দ’ ছেঁটে ‘বৈশাখী শোভাযাত্রা’ ঘোষণা ঘোড়া বিক্রি নিয়ে বিভ্রান্তিকর সংবাদ: ওসি খন্দকার নাসির উদ্দিনের প্রতিবাদ

আমরা ন্যায়ভিত্তিক সমাজ গড়বো ইনসাফ কায়েম হলে নারীরা ঘরবন্দি থাকবেন না

দেশকে আওয়ামী লীগ শ্মশানে পরিণত করেছিল বলে মন্তব্য করেছেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইমলামীর আমির ডাঃ শফিকুর রহমান। ক্ষমতায় গেলে একটি বৈষম্যহীন দেশ গঠন করা হবে বলে জানিয়েছেন তিনি। রাষ্ট্রে ইনসাফ কায়েম হলে নারীরা ঘরবন্দি হয়ে থাকবে না বলেও জানান জামায়াত আমীর।

বৃহস্পতিবার (১৭ অক্টোবর) বিকেলে ঝিনাইদহ শহরের ওয়াজির আলী স্কুল মাঠে দলের এক বিশাল কর্মী সম্মেলনে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন।
তিনি বলেন, ‘ছাত্র জনতার গণআন্দোলনে হাসিনা ও তার দোসররা পালিয়ে গেলেও ষড়যন্ত্র থেমে নেই। পর্দার আড়াল থেকে হাসিনা ও তার দোসররা দেশকে অস্থিতিশীল করার চেষ্টা চালাচ্ছে।’
জামায়াত আমীর বলেন, ‘যে আল্লাহ দেশ থেকে স্বৈরাচার হাসিনাকে সরিয়ে দিয়েছে, সেই আল্লাহই তাদের ষড়যন্ত্র রুখে দেবে। দীর্ঘ সাড়ে ১৫ বছর আমরা দুঃশাসনের যাতাকলে পিষ্ট হয়ে বাসায় ঘুমাতে পারিনি, অফিসে বসতে পারিনি, আদালতে ন্যায়ের কথা বলতে পারিনি, খুন-গুমের শিকার হয়েছি।
কখনো মাঠে কখনো খালে বিলে নদীতে ঘুমাতে হয়েছে। স্বৈরাচার সরকারের জুলুমের পানি এক হয়ে এক একটা বঙ্গপোসাগরে পরিণত হয়েছে।’
তিনি বলেন, ‘আমাদের বার্তা স্পষ্ট। আমরা এমন এক সমাজ চাই, যে সমাজে কোনো বৈষম্য থাকবে না।

তিনি বলেন আমাদের সন্তানরা রাস্তায় নেমেছিল। তারা বলেছিল “উই ওয়ান্ট জাস্টিস”। আল্লাহ যদি আমাদের দায়িত্ব দেন, তবে আমরা তাদের কথা রাখবো। আমরা ন্যায়ভিত্তিক সমাজ গড়বো, যেখানে কোনো যুবকের হাত খালি থাকবে না। পড়ালেখা শেষে সবার কর্মসংস্থান হবে।
নৈতিক শিক্ষা বিস্তারে ব্যাপক উদ্যোগ গ্রহণ করা হবে। আমরা তরুণদের হাতেই বাংলাদেশকে তুলে দেব।’
শফিকুর রহমান আরো বলেন, ‘দেশে যদি ইনসাফ ও মর্যাদাশীল রাষ্ট্র কায়েম হয়, তবে নারীদের সমাজ উন্নয়নে ভূমিকা রাখার সুযোগ করে দেওয়া হবে। তারা কখনোই ঘরবন্দি থাকবেন না।’

জেলা জামায়াতের আমীর অধ্যাপক আলী আজম মো. আবু বকরের সভাপতিত্বে সমাবেশে কেন্দ্রীয় নেতা মোবারক হুসাইন, মাওলানা আজিজুর রহমান, ড. মাওলানা মুজাম্মেল হক, অধ্যক্ষ মাওলানা আব্দুল হাই, আব্দুল আলীম, আবু তালিব, ড. মাওলানা হাবিবুর রহমান, ছাত্র শিবিরের ঝিনাইদহ জেলা সভাপতি মনিরুজ্জামান, মেহেদী হাসান রাজু ও এইচ এম আবু মুসাসহ জেলা উপজেলার জামায়াত নেতৃবৃন্দ বক্তব্য রাখেন।

এর আগে মাগুরায় এক পথসভায় বক্তব্য দেন জামায়াত আমির। মাগুরা শহরের ভায়না মোড়ে পথসভায় দেওয়া বক্তব্যে তিনি বলেন, বাংলাদেশ জামায়াতি ইসলামী এমন একটি দেশ চায়, এমন একটি রাষ্ট্র চায় যেখানে আল্লাহ তায়ালার বিধান অনুযায়ী সামাজিক সুবিচার কায়েম হবে। সেখানে মানুষের মধ্যে কোনো বৈষম্য থাকবে না। যে যার ন্যায্য পাওনা হাতে পেয়ে যাবে। যুবকদের হাতে কাজ তুলে দেওয়া হবে। জাতি গঠনে যুবকরা ভূমিকা রাখবে।

বেকারত্বের অভিশাপে আর একটি যুবককেও আত্মহত্যা করতে হবে না মন্তব্য করে তিনি বলেন, চাকরি পাওয়ার জন্য কোনো দুষ্ট লোকের কাছে ঘুষ দিতে হবে না। বিচারের জন্য কাউকে কারো দয়ার জন্য তাকিয়ে থাকতে হবে না। বাজারে গেলে কাউকে মাথায় হাত দিতে হবে না এমন একটি বৈষম্যহীন রাষ্ট্র আমরা গড়ে তুলতে চাই।

ট্যাগস :

এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি, অডিও, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার বেআইনি।

জনপ্রিয় সংবাদ

অতিরিক্ত কাজকে স্বাভাবিক ভাবা—এই প্রবণতা বন্ধ করা এখন জরুরি

আমরা ন্যায়ভিত্তিক সমাজ গড়বো ইনসাফ কায়েম হলে নারীরা ঘরবন্দি থাকবেন না

আপডেট সময় : ০৩:৩৯:৪৭ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৭ অক্টোবর ২০২৪

দেশকে আওয়ামী লীগ শ্মশানে পরিণত করেছিল বলে মন্তব্য করেছেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইমলামীর আমির ডাঃ শফিকুর রহমান। ক্ষমতায় গেলে একটি বৈষম্যহীন দেশ গঠন করা হবে বলে জানিয়েছেন তিনি। রাষ্ট্রে ইনসাফ কায়েম হলে নারীরা ঘরবন্দি হয়ে থাকবে না বলেও জানান জামায়াত আমীর।

বৃহস্পতিবার (১৭ অক্টোবর) বিকেলে ঝিনাইদহ শহরের ওয়াজির আলী স্কুল মাঠে দলের এক বিশাল কর্মী সম্মেলনে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন।
তিনি বলেন, ‘ছাত্র জনতার গণআন্দোলনে হাসিনা ও তার দোসররা পালিয়ে গেলেও ষড়যন্ত্র থেমে নেই। পর্দার আড়াল থেকে হাসিনা ও তার দোসররা দেশকে অস্থিতিশীল করার চেষ্টা চালাচ্ছে।’
জামায়াত আমীর বলেন, ‘যে আল্লাহ দেশ থেকে স্বৈরাচার হাসিনাকে সরিয়ে দিয়েছে, সেই আল্লাহই তাদের ষড়যন্ত্র রুখে দেবে। দীর্ঘ সাড়ে ১৫ বছর আমরা দুঃশাসনের যাতাকলে পিষ্ট হয়ে বাসায় ঘুমাতে পারিনি, অফিসে বসতে পারিনি, আদালতে ন্যায়ের কথা বলতে পারিনি, খুন-গুমের শিকার হয়েছি।
কখনো মাঠে কখনো খালে বিলে নদীতে ঘুমাতে হয়েছে। স্বৈরাচার সরকারের জুলুমের পানি এক হয়ে এক একটা বঙ্গপোসাগরে পরিণত হয়েছে।’
তিনি বলেন, ‘আমাদের বার্তা স্পষ্ট। আমরা এমন এক সমাজ চাই, যে সমাজে কোনো বৈষম্য থাকবে না।

তিনি বলেন আমাদের সন্তানরা রাস্তায় নেমেছিল। তারা বলেছিল “উই ওয়ান্ট জাস্টিস”। আল্লাহ যদি আমাদের দায়িত্ব দেন, তবে আমরা তাদের কথা রাখবো। আমরা ন্যায়ভিত্তিক সমাজ গড়বো, যেখানে কোনো যুবকের হাত খালি থাকবে না। পড়ালেখা শেষে সবার কর্মসংস্থান হবে।
নৈতিক শিক্ষা বিস্তারে ব্যাপক উদ্যোগ গ্রহণ করা হবে। আমরা তরুণদের হাতেই বাংলাদেশকে তুলে দেব।’
শফিকুর রহমান আরো বলেন, ‘দেশে যদি ইনসাফ ও মর্যাদাশীল রাষ্ট্র কায়েম হয়, তবে নারীদের সমাজ উন্নয়নে ভূমিকা রাখার সুযোগ করে দেওয়া হবে। তারা কখনোই ঘরবন্দি থাকবেন না।’

জেলা জামায়াতের আমীর অধ্যাপক আলী আজম মো. আবু বকরের সভাপতিত্বে সমাবেশে কেন্দ্রীয় নেতা মোবারক হুসাইন, মাওলানা আজিজুর রহমান, ড. মাওলানা মুজাম্মেল হক, অধ্যক্ষ মাওলানা আব্দুল হাই, আব্দুল আলীম, আবু তালিব, ড. মাওলানা হাবিবুর রহমান, ছাত্র শিবিরের ঝিনাইদহ জেলা সভাপতি মনিরুজ্জামান, মেহেদী হাসান রাজু ও এইচ এম আবু মুসাসহ জেলা উপজেলার জামায়াত নেতৃবৃন্দ বক্তব্য রাখেন।

এর আগে মাগুরায় এক পথসভায় বক্তব্য দেন জামায়াত আমির। মাগুরা শহরের ভায়না মোড়ে পথসভায় দেওয়া বক্তব্যে তিনি বলেন, বাংলাদেশ জামায়াতি ইসলামী এমন একটি দেশ চায়, এমন একটি রাষ্ট্র চায় যেখানে আল্লাহ তায়ালার বিধান অনুযায়ী সামাজিক সুবিচার কায়েম হবে। সেখানে মানুষের মধ্যে কোনো বৈষম্য থাকবে না। যে যার ন্যায্য পাওনা হাতে পেয়ে যাবে। যুবকদের হাতে কাজ তুলে দেওয়া হবে। জাতি গঠনে যুবকরা ভূমিকা রাখবে।

বেকারত্বের অভিশাপে আর একটি যুবককেও আত্মহত্যা করতে হবে না মন্তব্য করে তিনি বলেন, চাকরি পাওয়ার জন্য কোনো দুষ্ট লোকের কাছে ঘুষ দিতে হবে না। বিচারের জন্য কাউকে কারো দয়ার জন্য তাকিয়ে থাকতে হবে না। বাজারে গেলে কাউকে মাথায় হাত দিতে হবে না এমন একটি বৈষম্যহীন রাষ্ট্র আমরা গড়ে তুলতে চাই।