ঢাকা ০৬:১৪ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ২৫ মে ২০২৬, ১১ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম ::
সেগুনবাগিচায় শিশুদের বৈশাখী উৎসব; কৃতি শিক্ষার্থী ও সফল মায়েদের হাতে উঠল পুরস্কার! সকলের কাছে দোয়া চেয়েছেন মটরসাইকেল দুর্ঘটনায় আহত সাংবাদিক জাকির হোসেন বাদশা শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানকে স্মরণে বিএনপির টানা ৮ দিনের কর্মসূচি ৭ বিভাগে বজ্রবৃষ্টির আভাস, নদীবন্দরে সতর্কতা জারি এল ক্ল্যাসিকোতে উৎসবের মেজাজে বার্সা নিয়ামতপুরে উন্নয়ন কার্যক্রম ও মানবিক সহায়তায় ব্যস্ত দিন বন্য হাতির তাণ্ডবে রামুতে নিহত মা-মেয়ে পর্নোগ্রাফি মামলায় রাজ-এর আহ্বান, দোষী হলে শাস্তি, নইলে মুক্তি চান চীনের বড় সাফল্য, মিলেছে ২০০টির বেশি নতুন তেল-গ্যাস ক্ষেত্র হাওরে ভয়াবহ ক্ষতি, পানির নিচে ২০০ কোটি টাকার ধান

অবিরাম বোমা হামলার শিকার বাস্তুচ্যুত বাসিন্দারাও

  • প্রতিনিধির নাম
  • আপডেট সময় : ০৩:০৪:০৭ অপরাহ্ন, সোমবার, ২৯ সেপ্টেম্বর ২০২৫
  • ১১৬ বার পড়া হয়েছে

যুদ্ধ থামাতে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের নতুন প্রস্তাবের তোয়াক্কা না করেই গাজায় হামলা অব্যাহত রেখেছে ইসরায়েল। পরিস্থিতি এমন দাঁড়িয়েছে, বাস্তুচ্যুত ফিলিস্তিনিরা যেখানেই যাচ্ছে, সেখানেই বোমা হামলার শিকার হচ্ছে। গতকাল রোববার গাজা শহর ও মধ্যাঞ্চলে ব্যাপক বিমান হামলা হয়েছে। গত ২৪ ঘণ্টায় দখলদার বাহিনী ১৪০ টাগের্টে বোমা ফেলেছে। গাজা শহর থেকে অন্তত চার লাখ মানুষ তাদের ঘরবাড়ি ছেড়ে অন্যত্র আশ্রয় নিয়েছে। 

নুসাইরাত, মাগাজি, দেইর এল-বালাহ এবং বুরেইজ এলাকার হাজার হাজার পরিবার এখন বাস্তুচ্যুত। তথাকথিত মানবিক অঞ্চল আল-মাওয়াসি এবং খান ইউনিসে আশ্রয়ের জন্য ছুটছে মানুষ। কিন্তু সেখানেও রেহাই মিলছে না। ড্রোন হামলা তাদের পিছু ছাড়ছে না। গতকাল এপি ও আলজাজিরার প্রতিবেদনে এসব তথ্য জানানো হয়।  
গাজার বাস্তুচ্যুত বাসিন্দারা উপকূলীয় সড়কের ধারে তাঁবু খাটাতে বাধ্য হচ্ছে। যদিও সেখানে খাবার ও পানি নেই। এ অবস্থায় তারা নরকে বসবাসের মতো কঠিন পরিস্থিতির শিকার হচ্ছে। 

ইসরায়েলি বাহিনী অবকাঠামো, আবাসিক বাড়ি, ভবন এবং আশপাশের এলাকা সম্পূর্ণরূপে ধ্বংস করছে। ফলে চিকিৎসা ও উদ্ধাকারী দল ধ্বংসস্তূপের নিচে আটকে পড়া মানুষদের কাছে পৌঁছাতে পারছে না। ইসরায়েলি সামরিক বাহিনীর অস্ত্রবাহী ড্রোন ফিলিস্তিনিদের পিছু ছাড়ছে না।

এপি জানায়, ইসরায়েলি ট্যাঙ্কগুলো গাজার আরও গভীরে আঘাত হেনেছে। ধ্বংসস্তূপে অনেক বাসিন্দা আটকা পড়েছেন। গতকাল ইসরায়েলি ট্যাঙ্ক গাজা শহরের সাবরা, তেল আল-হাওয়া, শেখ রাদওয়ান এবং আল-নাসের পাড়ায় জনবসতির কাছে স্থাপন করা হয়েছে। সেখান থেকে ড্রোন ও গোলা ছোড়া হচ্ছে। এসব এলাকায় লাখ লাখ মানুষের বসবাস। জীবন বাঁচাতে ঘরবাড়ি ছেড়ে পালাচ্ছেন বাসিন্দারা।

এদিকে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প আরব দেশগুলোর কাছে নতুন পরিকল্পনা উত্থাপন করলেও মধ্যস্থতাকারীদের কাছ থেকে কোনো নতুন প্রস্তাব পায়নি ফিলিস্তিনি স্বাধীনতাকামী সংগঠন হামাস। তবে তারা যে কোনো নতুন যুদ্ধবিরতি প্রস্তাব নিয়ে আলোচনা করতে প্রস্তুত। এক বিবৃতিতে হামাস জানিয়েছে, গত ৯ সেপ্টেম্বর কাতারের রাজধানী দোহায় হামাস নেতাদের ওপর ইসরায়েলি বিমান হামলার পর থেকে যুদ্ধবিরতি আলোচনা স্থগিত রয়েছে।

আজ সোমবার হোয়াইট হাউসে ট্রাম্প ও নেতানিয়াহুর মধ্যে বৈঠক হওয়ার কথা রয়েছে। এই বৈঠককে সামনে রেখে  গাজায় যুদ্ধ অবসানের জন্য একটি চুক্তির দাবিতে গতকালও তেল আবিবে হাজার হাজার ইসরায়েলি সমাবেশ করেছে।

গাজায় নিহতের সংখ্যা ৬৬ হাজার ছাড়াল
ফিলিস্তিনিদের ওপর ইসরায়েলের নৃশংস হামলা অব্যাহত থাকায় গাজায় মৃতের সংখ্যা ৬৬ হাজার ছাড়িয়েছে। গতকাল ভোর থেকে গাজায় ৪০ জনকে হত্যা করেছে ইসরায়েল। অপুষ্টিতে মারা গেছে একটি শিশু। গাজার স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, ২০২৩ সালের অক্টোবর থেকে গাজা উপত্যকায় ইসরায়েলের হামলায় কমপক্ষে ৬৬ হাজার ৫ ফিলিস্তিনি নিহত হয়েছেন। গত ২৪ ঘণ্টায় ৭৯টি মৃতদেহ হাসপাতালে আনা হয়েছে। আহত বেড়ে এক লাখ ৬৮ হাজার ১৬২ জনে দাঁড়িয়েছে। ২৪ ঘণ্টায় মানবিক সাহায্য পেতে গিয়ে ইসরায়েলি সেনাবাহিনীর গুলিতে ছয় ফিলিস্তিনি নিহত এবং ৬৬ জন আহত হয়েছেন। ত্রাণপ্রত্যাশী ফিলিস্তিনির সংখ্যা দুই হাজার ৫৬৬ জনে দাঁড়িয়েছে।

সন্তানকে রেখে মরতে চান না মা
গাজায় ক্রমাগত বোমাবর্ষণ ও বাস্তুচ্যুতির মধ্যে একজন ফিলিস্তিনি মা তাঁর অটিস্টিক ছেলের যত্ন নেওয়ার চ্যালেঞ্জগুলো বর্ণনা করেছেন। আলজাজিরাকে তিনি বলেন, ‘আমি ঈশ্বরের কাছে প্রার্থনা করেছি, তিনি আমাদের জীবন যেন একসঙ্গেই নিয়ে যান। আমার ছেলে আবদুল্লাহ যাতে একা না থাকে। তিনি জানান, ‘প্রচণ্ড গরম এবং আমরা কোথায় যাব জানি না। আবদুল্লাহ তার বেশির ভাগ সময় রাস্তায় ঘুরে ঘুরে জীবন কাটায়। আমি তাকে সাহায্য না করলে বেঁচে থাকা তার জন্য অসহ্য হয়ে উঠবে।’

ট্যাগস :

এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি, অডিও, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার বেআইনি।

সেগুনবাগিচায় শিশুদের বৈশাখী উৎসব; কৃতি শিক্ষার্থী ও সফল মায়েদের হাতে উঠল পুরস্কার!

অবিরাম বোমা হামলার শিকার বাস্তুচ্যুত বাসিন্দারাও

আপডেট সময় : ০৩:০৪:০৭ অপরাহ্ন, সোমবার, ২৯ সেপ্টেম্বর ২০২৫

যুদ্ধ থামাতে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের নতুন প্রস্তাবের তোয়াক্কা না করেই গাজায় হামলা অব্যাহত রেখেছে ইসরায়েল। পরিস্থিতি এমন দাঁড়িয়েছে, বাস্তুচ্যুত ফিলিস্তিনিরা যেখানেই যাচ্ছে, সেখানেই বোমা হামলার শিকার হচ্ছে। গতকাল রোববার গাজা শহর ও মধ্যাঞ্চলে ব্যাপক বিমান হামলা হয়েছে। গত ২৪ ঘণ্টায় দখলদার বাহিনী ১৪০ টাগের্টে বোমা ফেলেছে। গাজা শহর থেকে অন্তত চার লাখ মানুষ তাদের ঘরবাড়ি ছেড়ে অন্যত্র আশ্রয় নিয়েছে। 

নুসাইরাত, মাগাজি, দেইর এল-বালাহ এবং বুরেইজ এলাকার হাজার হাজার পরিবার এখন বাস্তুচ্যুত। তথাকথিত মানবিক অঞ্চল আল-মাওয়াসি এবং খান ইউনিসে আশ্রয়ের জন্য ছুটছে মানুষ। কিন্তু সেখানেও রেহাই মিলছে না। ড্রোন হামলা তাদের পিছু ছাড়ছে না। গতকাল এপি ও আলজাজিরার প্রতিবেদনে এসব তথ্য জানানো হয়।  
গাজার বাস্তুচ্যুত বাসিন্দারা উপকূলীয় সড়কের ধারে তাঁবু খাটাতে বাধ্য হচ্ছে। যদিও সেখানে খাবার ও পানি নেই। এ অবস্থায় তারা নরকে বসবাসের মতো কঠিন পরিস্থিতির শিকার হচ্ছে। 

ইসরায়েলি বাহিনী অবকাঠামো, আবাসিক বাড়ি, ভবন এবং আশপাশের এলাকা সম্পূর্ণরূপে ধ্বংস করছে। ফলে চিকিৎসা ও উদ্ধাকারী দল ধ্বংসস্তূপের নিচে আটকে পড়া মানুষদের কাছে পৌঁছাতে পারছে না। ইসরায়েলি সামরিক বাহিনীর অস্ত্রবাহী ড্রোন ফিলিস্তিনিদের পিছু ছাড়ছে না।

এপি জানায়, ইসরায়েলি ট্যাঙ্কগুলো গাজার আরও গভীরে আঘাত হেনেছে। ধ্বংসস্তূপে অনেক বাসিন্দা আটকা পড়েছেন। গতকাল ইসরায়েলি ট্যাঙ্ক গাজা শহরের সাবরা, তেল আল-হাওয়া, শেখ রাদওয়ান এবং আল-নাসের পাড়ায় জনবসতির কাছে স্থাপন করা হয়েছে। সেখান থেকে ড্রোন ও গোলা ছোড়া হচ্ছে। এসব এলাকায় লাখ লাখ মানুষের বসবাস। জীবন বাঁচাতে ঘরবাড়ি ছেড়ে পালাচ্ছেন বাসিন্দারা।

এদিকে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প আরব দেশগুলোর কাছে নতুন পরিকল্পনা উত্থাপন করলেও মধ্যস্থতাকারীদের কাছ থেকে কোনো নতুন প্রস্তাব পায়নি ফিলিস্তিনি স্বাধীনতাকামী সংগঠন হামাস। তবে তারা যে কোনো নতুন যুদ্ধবিরতি প্রস্তাব নিয়ে আলোচনা করতে প্রস্তুত। এক বিবৃতিতে হামাস জানিয়েছে, গত ৯ সেপ্টেম্বর কাতারের রাজধানী দোহায় হামাস নেতাদের ওপর ইসরায়েলি বিমান হামলার পর থেকে যুদ্ধবিরতি আলোচনা স্থগিত রয়েছে।

আজ সোমবার হোয়াইট হাউসে ট্রাম্প ও নেতানিয়াহুর মধ্যে বৈঠক হওয়ার কথা রয়েছে। এই বৈঠককে সামনে রেখে  গাজায় যুদ্ধ অবসানের জন্য একটি চুক্তির দাবিতে গতকালও তেল আবিবে হাজার হাজার ইসরায়েলি সমাবেশ করেছে।

গাজায় নিহতের সংখ্যা ৬৬ হাজার ছাড়াল
ফিলিস্তিনিদের ওপর ইসরায়েলের নৃশংস হামলা অব্যাহত থাকায় গাজায় মৃতের সংখ্যা ৬৬ হাজার ছাড়িয়েছে। গতকাল ভোর থেকে গাজায় ৪০ জনকে হত্যা করেছে ইসরায়েল। অপুষ্টিতে মারা গেছে একটি শিশু। গাজার স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, ২০২৩ সালের অক্টোবর থেকে গাজা উপত্যকায় ইসরায়েলের হামলায় কমপক্ষে ৬৬ হাজার ৫ ফিলিস্তিনি নিহত হয়েছেন। গত ২৪ ঘণ্টায় ৭৯টি মৃতদেহ হাসপাতালে আনা হয়েছে। আহত বেড়ে এক লাখ ৬৮ হাজার ১৬২ জনে দাঁড়িয়েছে। ২৪ ঘণ্টায় মানবিক সাহায্য পেতে গিয়ে ইসরায়েলি সেনাবাহিনীর গুলিতে ছয় ফিলিস্তিনি নিহত এবং ৬৬ জন আহত হয়েছেন। ত্রাণপ্রত্যাশী ফিলিস্তিনির সংখ্যা দুই হাজার ৫৬৬ জনে দাঁড়িয়েছে।

সন্তানকে রেখে মরতে চান না মা
গাজায় ক্রমাগত বোমাবর্ষণ ও বাস্তুচ্যুতির মধ্যে একজন ফিলিস্তিনি মা তাঁর অটিস্টিক ছেলের যত্ন নেওয়ার চ্যালেঞ্জগুলো বর্ণনা করেছেন। আলজাজিরাকে তিনি বলেন, ‘আমি ঈশ্বরের কাছে প্রার্থনা করেছি, তিনি আমাদের জীবন যেন একসঙ্গেই নিয়ে যান। আমার ছেলে আবদুল্লাহ যাতে একা না থাকে। তিনি জানান, ‘প্রচণ্ড গরম এবং আমরা কোথায় যাব জানি না। আবদুল্লাহ তার বেশির ভাগ সময় রাস্তায় ঘুরে ঘুরে জীবন কাটায়। আমি তাকে সাহায্য না করলে বেঁচে থাকা তার জন্য অসহ্য হয়ে উঠবে।’