ঢাকা ০৮:৪৩ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ২০ এপ্রিল ২০২৬, ৭ বৈশাখ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম ::
অতিরিক্ত কাজকে স্বাভাবিক ভাবা—এই প্রবণতা বন্ধ করা এখন জরুরি মমতার দলের সাবেক সাংসদ দীনেশ ত্রিবেদী হচ্ছেন বাংলাদেশে ভারতের নতুন রাষ্ট্রদূত শিবিরের সাবেক নেতাদের এনসিপিতে ফেরার হিড়িক সেন্ট যোসেফ ইন্টারন্যাশনাল স্কুল’ SIIS Literary Club’ -এর উদ্যোগে অনুষ্ঠিত হলো চার দিনব্যাপী National Literature Festival 2026 বগুড়ায় নীরব ভোট, শেরপুর-৩ এ জামায়াতের বর্জন—নির্বাচনে ছায়া উত্তেজনা কুমিল্লা বাসস্ট্যান্ডে ভয়াবহ আগুনে ৩ বাস ভস্মীভূত চিকিৎসার জন্য দেশের বাইরে যাচ্ছেন সোহেল রানা অধ্যাদেশ ইস্যুতে উত্তাপ, ড. ইউনূসকে রাস্তায় নামতে বললেন নাহিদ নববর্ষে পরিবর্তন, ‘মঙ্গল’–‘আনন্দ’ ছেঁটে ‘বৈশাখী শোভাযাত্রা’ ঘোষণা ঘোড়া বিক্রি নিয়ে বিভ্রান্তিকর সংবাদ: ওসি খন্দকার নাসির উদ্দিনের প্রতিবাদ

দুই ইউনিয়নের সম্মেলন না হওয়ায় জেলা বিএনপি’র দলীয় কার্যালয় ঘেরাও

কুষ্টিয়া সদর উপজেলা বিএনপির সম্মেলনের তারিখ নির্ধারণ হলেও কাউন্সিল হয়নি হরিনারায়ণপুর ও আব্দালপুর ইউনিয়ন ইউনিটের। এ অবস্থায় সোমবার দুপুরে ওই দুই ইউনিয়নের নেতাকর্মীরা কুষ্টিয়া শহরের কোর্ট স্টেশন সংলগ্ন জেলা বিএনপির কার্যালয় ঘেরাও করে বিক্ষোভ করেছেন। তারা বলছেন, জেলা বিএনপির নেতারা ষড়যন্ত্র করছেন তাদের ভোট থেকে দূরে রাখার। এ অন্যায় কোনোভাবেই মেনে নেওয়া হবে না।

বিক্ষোভে নেতৃত্ব দেওয়া হরিনারায়ণপুর ইউনিয়ন বিএনপির সাবেক সাধারণ সম্পাদক রিয়াজুল ইসলাম রিয়াজ বলেন, সদর উপজেলার ১১টি ইউনিয়নের সম্মেলন হলেও দুটি ইউনিয়নের সম্মেলন হতে দেওয়া হচ্ছে না। জেলা বিএনপির আহ্বায়ক ও সদস্য সচিবের ষড়যন্ত্রে আমাদের হরিনারায়ণপুর ও আব্দালপুর ইউনিয়নের সম্মেলন স্থগিত হয়ে গেছে।

আব্দালপুর ইউনিয়নের সাবেক চেয়ারম্যান লিয়াকত আলী বিশ্বাস বলেন, গত রোববার ৭ সেপ্টেম্বর আমাদের দুটি ইউনিয়নে সম্মেলন হওয়ার কথা ছিল। কিন্তু রহস্যজনকভাবে ওই সম্মেলন স্থগিত করা হয়েছে। এতে আমরা সদর উপজেলা বিএনপির সম্মেলনে ভোট দিতে পারব না। এটা গণতান্ত্রিক কোনো পন্থা হতে পারে না। এজন্য আমাদের দাবি, অবশ্যই আগে হরিনারাণপুর ও আব্দালপুর ইউনিয়ন বিএনপির সম্মেলন হতে হবে। পরে হবে সদর উপজেলা বিএনপির সম্মেলন।

আগামী ১১ সেপ্টেম্বর কুষ্টিয়া সদর উপজেলা বিএনপির সম্মেলনের তারিখ নির্ধারিত হয়েছে। এ নিয়ে চরম উত্তেজনা বিরাজ করছে দলটির নেতাকর্মীদের মধ্যে। এরমধ্যে দুটি ইউনিয়নের নেতাকর্মীরা ভোট দিতে না পারার হতাশায় রয়েছেন। বিক্ষোভে অংশ নেন আব্দালপুর ইউনিয়ন বিএনপির সাবেক সভাপতি অধ্যাপক ইউসুফ আলী বিশ্বাস, হরিনারায়ণপুর ইউনিয়ন বিএনপির সাবেক সদস্য সচিব অধ্যাপক সিরাজ উদ্দিন, আব্দালপুর ইউনিয়ন বিএনপির সাবেক সাধারণ সম্পাদক ও সার্চ কমিটির সদস্য এমদাদুল হকসহ থানা বিএনপির নেতৃবৃন্দ।

এদিকে ওই দুই ইউনিয়নের সম্মেলন না হওয়ার বিষয়ে পরস্পরকে দুষছেন জেলা বিএনপির সদস্য সচিব জাকির হোসেন সরকার ও জেলা বিএনপির সাবেক সাধারণ সম্পাদক অধ্যক্ষ সোহরাব উদ্দিন। জানতে চাইলে জাকির হোসেন সরকার বলেন, ওই এলাকা কুষ্টিয়া-৩ আসনের সাবেক সংসদ সদস্য অধ্যক্ষ সোহরাব উদ্দিনের। এজন্য কেন্দ্র থেকে তাকেই ওই দুটি ইউনিয়নের সম্মেলন করার দায়িত্ব দিয়েছেন। ৭ তারিখ সম্মেলনের ঘোষণাও ছিল। কিন্তু কেন তারা সম্মেলন করছেন না সেটা আমার জানা নেই।

সম্মেলন করতে দেওয়া হচ্ছে না বলে দাবি সোহরাব উদ্দিনের। তিনি বলেন, আমরা সম্মেলন করার চেষ্টা করেছি। কিন্তু ষড়যন্ত্রের মাধ্যমে সম্মেলন আটকে দেওয়া হয়েছে। এজন্য জেলা বিএনপির আহ্বায়ক কমিটিকে দায়ী করেন তিনি।

অভিযোগের বিষয়ে কুষ্টিয়া জেলা বিএনপির আহ্বায়ক কুতুব উদ্দিন আহমেদ বলেন, এখানে ষড়যন্ত্রের কিছু নেই। ওই দুটি ইউনিয়নের সম্মেলনের দায়িত্ব কেন্দ্র থেকে সোহরাব উদ্দিনের ওপর দেওয়া। সেখানকার বিবাদমান দুটি পক্ষের কারণে সম্ভবত উনি তার দায়িত্ব পালন করতে পারেননি। আমরাও চেষ্টা করছি সমস্যা সমাধানের। আশা করি, আজ সন্ধ্যায় সবাই মিলে বসে একটা সমাধান দিতে পারব।

ইউনিয়নের আগে সদর উপজেলা বিএনপির সম্মেলন হবে কিনা, এ বিষয়ে কুতুব উদ্দিন বলেন, উপজেলা পর্যায়ে সম্মেলনের তারিখ বিভাগীয় নেতৃবৃন্দ ঠিক করে থাকেন। এখানে আমাদের তেমন একটা হাত নেই।

ট্যাগস :

এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি, অডিও, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার বেআইনি।

জনপ্রিয় সংবাদ

অতিরিক্ত কাজকে স্বাভাবিক ভাবা—এই প্রবণতা বন্ধ করা এখন জরুরি

দুই ইউনিয়নের সম্মেলন না হওয়ায় জেলা বিএনপি’র দলীয় কার্যালয় ঘেরাও

আপডেট সময় : ১০:৫৫:০৬ অপরাহ্ন, সোমবার, ৮ সেপ্টেম্বর ২০২৫

কুষ্টিয়া সদর উপজেলা বিএনপির সম্মেলনের তারিখ নির্ধারণ হলেও কাউন্সিল হয়নি হরিনারায়ণপুর ও আব্দালপুর ইউনিয়ন ইউনিটের। এ অবস্থায় সোমবার দুপুরে ওই দুই ইউনিয়নের নেতাকর্মীরা কুষ্টিয়া শহরের কোর্ট স্টেশন সংলগ্ন জেলা বিএনপির কার্যালয় ঘেরাও করে বিক্ষোভ করেছেন। তারা বলছেন, জেলা বিএনপির নেতারা ষড়যন্ত্র করছেন তাদের ভোট থেকে দূরে রাখার। এ অন্যায় কোনোভাবেই মেনে নেওয়া হবে না।

বিক্ষোভে নেতৃত্ব দেওয়া হরিনারায়ণপুর ইউনিয়ন বিএনপির সাবেক সাধারণ সম্পাদক রিয়াজুল ইসলাম রিয়াজ বলেন, সদর উপজেলার ১১টি ইউনিয়নের সম্মেলন হলেও দুটি ইউনিয়নের সম্মেলন হতে দেওয়া হচ্ছে না। জেলা বিএনপির আহ্বায়ক ও সদস্য সচিবের ষড়যন্ত্রে আমাদের হরিনারায়ণপুর ও আব্দালপুর ইউনিয়নের সম্মেলন স্থগিত হয়ে গেছে।

আব্দালপুর ইউনিয়নের সাবেক চেয়ারম্যান লিয়াকত আলী বিশ্বাস বলেন, গত রোববার ৭ সেপ্টেম্বর আমাদের দুটি ইউনিয়নে সম্মেলন হওয়ার কথা ছিল। কিন্তু রহস্যজনকভাবে ওই সম্মেলন স্থগিত করা হয়েছে। এতে আমরা সদর উপজেলা বিএনপির সম্মেলনে ভোট দিতে পারব না। এটা গণতান্ত্রিক কোনো পন্থা হতে পারে না। এজন্য আমাদের দাবি, অবশ্যই আগে হরিনারাণপুর ও আব্দালপুর ইউনিয়ন বিএনপির সম্মেলন হতে হবে। পরে হবে সদর উপজেলা বিএনপির সম্মেলন।

আগামী ১১ সেপ্টেম্বর কুষ্টিয়া সদর উপজেলা বিএনপির সম্মেলনের তারিখ নির্ধারিত হয়েছে। এ নিয়ে চরম উত্তেজনা বিরাজ করছে দলটির নেতাকর্মীদের মধ্যে। এরমধ্যে দুটি ইউনিয়নের নেতাকর্মীরা ভোট দিতে না পারার হতাশায় রয়েছেন। বিক্ষোভে অংশ নেন আব্দালপুর ইউনিয়ন বিএনপির সাবেক সভাপতি অধ্যাপক ইউসুফ আলী বিশ্বাস, হরিনারায়ণপুর ইউনিয়ন বিএনপির সাবেক সদস্য সচিব অধ্যাপক সিরাজ উদ্দিন, আব্দালপুর ইউনিয়ন বিএনপির সাবেক সাধারণ সম্পাদক ও সার্চ কমিটির সদস্য এমদাদুল হকসহ থানা বিএনপির নেতৃবৃন্দ।

এদিকে ওই দুই ইউনিয়নের সম্মেলন না হওয়ার বিষয়ে পরস্পরকে দুষছেন জেলা বিএনপির সদস্য সচিব জাকির হোসেন সরকার ও জেলা বিএনপির সাবেক সাধারণ সম্পাদক অধ্যক্ষ সোহরাব উদ্দিন। জানতে চাইলে জাকির হোসেন সরকার বলেন, ওই এলাকা কুষ্টিয়া-৩ আসনের সাবেক সংসদ সদস্য অধ্যক্ষ সোহরাব উদ্দিনের। এজন্য কেন্দ্র থেকে তাকেই ওই দুটি ইউনিয়নের সম্মেলন করার দায়িত্ব দিয়েছেন। ৭ তারিখ সম্মেলনের ঘোষণাও ছিল। কিন্তু কেন তারা সম্মেলন করছেন না সেটা আমার জানা নেই।

সম্মেলন করতে দেওয়া হচ্ছে না বলে দাবি সোহরাব উদ্দিনের। তিনি বলেন, আমরা সম্মেলন করার চেষ্টা করেছি। কিন্তু ষড়যন্ত্রের মাধ্যমে সম্মেলন আটকে দেওয়া হয়েছে। এজন্য জেলা বিএনপির আহ্বায়ক কমিটিকে দায়ী করেন তিনি।

অভিযোগের বিষয়ে কুষ্টিয়া জেলা বিএনপির আহ্বায়ক কুতুব উদ্দিন আহমেদ বলেন, এখানে ষড়যন্ত্রের কিছু নেই। ওই দুটি ইউনিয়নের সম্মেলনের দায়িত্ব কেন্দ্র থেকে সোহরাব উদ্দিনের ওপর দেওয়া। সেখানকার বিবাদমান দুটি পক্ষের কারণে সম্ভবত উনি তার দায়িত্ব পালন করতে পারেননি। আমরাও চেষ্টা করছি সমস্যা সমাধানের। আশা করি, আজ সন্ধ্যায় সবাই মিলে বসে একটা সমাধান দিতে পারব।

ইউনিয়নের আগে সদর উপজেলা বিএনপির সম্মেলন হবে কিনা, এ বিষয়ে কুতুব উদ্দিন বলেন, উপজেলা পর্যায়ে সম্মেলনের তারিখ বিভাগীয় নেতৃবৃন্দ ঠিক করে থাকেন। এখানে আমাদের তেমন একটা হাত নেই।