কক্সবাজারের উখিয়া-টেকনাফের রোহিঙ্গা ক্যাম্পে অস্বাভাবিক হারে শিশু জন্ম নেওয়ায় পুরো এলাকা নতুন এক চাপের মুখে পড়ছে। জনসংখ্যা দ্রুত বাড়ায় নিরাপত্তা, অর্থনীতি, নাগরিকত্ব সংকট এবং ভূরাজনৈতিক অস্থিরতার মতো পুরোনো সমস্যাগুলো আরও জটিল আকার নিচ্ছে। প্রায় ১৩ লাখ রোহিঙ্গার মধ্যে দুই লাখ শিশু বাংলাদেশে জন্ম নিয়েও কোনো নাগরিক পরিচয় নেই।
ক্যাম্প ঘুরে দেখা গেছে—কর্মহীনতা, অনিশ্চয়তা আর দাম্পত্য অবসরের কারণে অনেক পরিবারে সন্তানসংখ্যা ৪ থেকে ৬। জন্মনিয়ন্ত্রণ নিয়ে প্রচার আছে, কিন্তু বাস্তবে ফল খুবই সীমিত। বিশেষজ্ঞদের মতে, এই প্রবণতা চলতে থাকলে আগামী এক-দশকের মধ্যে রোহিঙ্গা জনসংখ্যা দ্বিগুণ হয়ে ক্যাম্পে তীব্র মানবিক সংকট তৈরি করবে।

আইএসসিজি বলছে, রোহিঙ্গাদের জন্য প্রতিশ্রুত অনুদানের অর্ধেকও হাতে আসে না। খাদ্য, চিকিৎসা, শিক্ষা—সব ক্ষেত্রেই ঘাটতি স্পষ্ট। ফলে অনেকে কাজের খোঁজে ক্যাম্পের বাইরে গিয়ে স্থানীয় শ্রমবাজারকে চাপের মুখে ফেলছে। এতে উত্তেজনা বাড়ছে, বাড়ছে সামাজিক সংঘাত।
কাজের সংকটে তরুণদের বড় অংশ বেকার হয়ে পড়েছে। নিরাপত্তা সূত্রগুলো বলছে—এই হতাশা অনেককে মানবপাচার, মাদক ব্যবসা ও সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডে জড়িয়ে ফেলছে, এবং ক্যাম্পকেন্দ্রিক অপরাধ বাড়ার সঙ্গে স্থানীয়দের বিরোধও তীব্র হচ্ছে।
বাংলাদেশে জন্ম নেওয়া দুই লাখ শিশুর নাগরিকত্বহীন অবস্থা এখন বড় আন্তর্জাতিক উদ্বেগ। বাংলাদেশ তাদের স্বীকৃতি দিতে পারে না, মিয়ানমারও নিতে রাজি নয়—ফলে এই প্রজন্ম পুরোপুরি অনিশ্চয়তায় আটকে আছে।

এদিকে ক্যাম্প বসাতে উখিয়া-টেকনাফের ছয় হাজার একরের বেশি বনভূমি উজাড় হয়ে গেছে। বনজ সম্পদ লোপাট, ভূমি দখল, অনিয়ন্ত্রিত এনজিও কার্যক্রম—সব মিলিয়ে পরিস্থিতি আরও জটিল। মিয়ানমারের গৃহযুদ্ধ প্রত্যাবাসন প্রক্রিয়াকে প্রায় থামিয়ে দিয়েছে।
ক্যাম্পের বাসিন্দারা জানাচ্ছেন—নাগরিকত্ব, নিরাপত্তা, জমি ফেরত, চলাচলের স্বাধীনতা, ভোটাধিকার, শিক্ষা-স্বাস্থ্য সুবিধা এবং বৈষম্যহীন অধিকার নিশ্চিত না হলে তারা মিয়ানমারে ফিরবেন না।
সংশ্লিষ্ট দপ্তর ও আন্তর্জাতিক সংস্থাগুলো চারটি দিকে বেশি জোর দিচ্ছে—জন্মহার নিয়ন্ত্রণে বিশেষ উদ্যোগ, এনজিও কার্যক্রমে কঠোর নজরদারি, খাদ্য-চিকিৎসা সহায়তা বৃদ্ধি এবং মিয়ানমারের ওপর চাপ বাড়ানো।
১৩ লাখ মানুষের চাপ নিয়ে দক্ষিণ সীমান্ত এখন মানবিক ও নিরাপত্তাজনিত এক গভীর সংকটের মুখে। লাগামহীন জন্মহার ওই চাপকে আরও বাড়িয়ে তুলছে। এখনই সমন্বিত কার্যকর পদক্ষেপ না নিলে পরিস্থিতি যে দ্রুত নিয়ন্ত্রণের বাইরে যেতে পারে, সেটা স্পষ্ট হয়ে উঠছে।
NEWS21 Staff Musabbir 




















