ঢাকা ১২:১২ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ১৪ মার্চ ২০২৬, ২৯ ফাল্গুন ১৪৩২ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম ::
উন্নত চিকিৎসার জন্য সিঙ্গাপুর নেওয়া হচ্ছে মির্জা আব্বাসকে নারায়ণগঞ্জের সিদ্ধিরগঞ্জ থানার ১ নং ওয়ার্ডের সিআইখোলা এলাকায় মাদক বিক্রি করতে নিষেধ ৪৪ বছর পর ‘দম’-এ ফিরে সেই স্মরণীয় গান গাইলেন সাবিনা ইয়াসমিন মার্কিন গোয়েন্দা তথ্য: ইরানের শাসনব্যবস্থায় ভাঙনের আশঙ্কা নেই অসুস্থ হয়ে হাসপাতালে ভর্তি মির্জা আব্বাস ব্যারিস্টার কায়সার কামাল হলেন নতুন ডেপুটি স্পিকার রানার ঝড়ো গতিতে সাজঘরে ফিরলেন পাকিস্তানের তিন টপ অর্ডার ব্যাটার আলুর বস্তাপ্রতি ২০ টাকা চাঁদা নেওয়ার অভিযোগ স্বেচ্ছাসেবক দল নেতাদের বিরুদ্ধে প্রথমবার বাংলাদেশের চলচ্চিত্রে দেখা যাবে বলিউডের নাতালিয়াকে দেশে আবারও বাড়ল স্বর্ণের দাম, ক্রেতাদের মধ্যে বাড়ছে উদ্বেগ

তিস্তা মহাপরিকল্পনা বাস্তবায়নের দাবিতে চলছে অবস্থান কর্মসূচি

  • NUSRAT JAHAN
  • আপডেট সময় : ০৪:৫৩:১৮ অপরাহ্ন, সোমবার, ১৭ ফেব্রুয়ারী ২০২৫
  • ৬৪ বার পড়া হয়েছে

জাগো বাহে তিস্তা বাঁচাই’ স্লোগানকে সামনে রেখে তিস্তা মহাপরিকল্পনা বাস্তবায়নের দাবিতে দুই দিনব্যাপী (১৭ ও ১৮ ফেব্রুয়ারি) অবস্থান কর্মসূচি পালন করছে ‘তিস্তা নদী রক্ষা আন্দোলন’। 

সংগঠনটির প্রধান সমন্বয়ক ও বিএনপির রংপুর বিভাগীয় সাংগঠনিক সম্পাদক অধ্যক্ষ আসাদুল হাবিব দুলুর নেতৃত্বে তিস্তার তীরবর্তী ১১টি পয়েন্টে এই কর্মসূচি অনুষ্ঠিত হচ্ছে।

তিস্তা রেল সেতুর কাউনিয়া পয়েন্ট বক্তব্য রাখেন সাইফুল ইসলাম, আহ্বায়ক রংপুর জেলা বিএনপি। মো. আনিছুর রহমান লাকু, সচিব জেলা বিএনপি রংপুর। এতে আরও বক্তব্য রাখবেন গণসংহতি আন্দোলনের প্রধান সমন্বয়কারী জোনায়েদ সাকিসহ কেন্দ্রীয় নেতৃবৃন্দ।

অবস্থান কর্মসূচির প্রথম দিনে কাউনিয়া তিস্তা রেলপয়েন্ট সেতুতে জনতার ঢল নেমেছে। নদীর পানি প্রবাহের সংকট, বর্ষা মৌসুমে বন্যা ও নদী ভাঙন এবং শুষ্ক মৌসুমে পানি শূন্যতার কারণে তিস্তা নদী আজ ধ্বংসের পথে। ভারতের একতরফা নদী শাসননীতির কারণে ৩১৫ কিলোমিটার দীর্ঘ এই নদীর বাংলাদেশ অংশের প্রায় ১১৫ কিলোমিটার পরিণত হয়েছে ধু-ধু বালুচরে।

দেশের বৃহত্তম সেচ প্রকল্প তিস্তা ব্যারাজ এখন প্রায় অকেজো। বর্ষা মৌসুমে অতিরিক্ত পানির চাপে ব্যারাজের সবকটি জলকপাট খুলে দিতে হয়, যার ফলে ভাটির দিকে লাখ লাখ মানুষ পানিবন্দি হয়ে পড়ে। নদী ভাঙনের কারণে অসংখ্য পরিবার গৃহহীন হয়ে পড়ে, বাধ্য হয়ে বাঁধের ধারে বা অন্যের জমিতে আশ্রয় নেন। আবার শুষ্ক মৌসুমে পানি না থাকায় নদীটি মরা খালে পরিণত হয়। পার্শ্ববর্তী দেশ ভারতের গজলডোবায় নির্মিত বাঁধের মাধ্যমে তিস্তার পানি নিয়ন্ত্রণ করায় বাংলাদেশের কৃষি ও জনজীবনে বিরূপ প্রভাব পড়ছে।

এই অবস্থায় তিস্তা মহাপরিকল্পনা বাস্তবায়নের দাবি জানানো হয়েছে আন্দোলনকারীদের পক্ষ থেকে। তারা দ্রুত নদী খনন, পানি প্রবাহ নিশ্চিতকরণ ও আন্তর্জাতিক চুক্তির ভিত্তিতে তিস্তার ন্যায্য হিস্যা আদায়ের আহ্বান জানিয়েছেন।

অবস্থান কর্মসূচির শেষ দিনে আগামীকাল মঙ্গলবার বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর কর্মসূচির বিভিন্ন পয়েন্ট পরিদর্শন করবেন এবং বক্তব্য প্রদান করবেন। এছাড়া, ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানও বক্তব্য রাখবেন বলে জানা গেছে।

তিস্তা নদীর অবস্থা দিন দিন অবনতির দিকে যাচ্ছে। সঠিক উদ্যোগ গ্রহণ করা না হলে এই অঞ্চলের মানুষের জীবন-জীবিকা আরও সংকটে পড়বে। তাই আন্দোলনকারীরা দ্রুত কার্যকরী পদক্ষেপ গ্রহণের জন্য সরকারের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন।

ট্যাগস :

এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি, অডিও, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার বেআইনি।

জনপ্রিয় সংবাদ

উন্নত চিকিৎসার জন্য সিঙ্গাপুর নেওয়া হচ্ছে মির্জা আব্বাসকে

তিস্তা মহাপরিকল্পনা বাস্তবায়নের দাবিতে চলছে অবস্থান কর্মসূচি

আপডেট সময় : ০৪:৫৩:১৮ অপরাহ্ন, সোমবার, ১৭ ফেব্রুয়ারী ২০২৫

জাগো বাহে তিস্তা বাঁচাই’ স্লোগানকে সামনে রেখে তিস্তা মহাপরিকল্পনা বাস্তবায়নের দাবিতে দুই দিনব্যাপী (১৭ ও ১৮ ফেব্রুয়ারি) অবস্থান কর্মসূচি পালন করছে ‘তিস্তা নদী রক্ষা আন্দোলন’। 

সংগঠনটির প্রধান সমন্বয়ক ও বিএনপির রংপুর বিভাগীয় সাংগঠনিক সম্পাদক অধ্যক্ষ আসাদুল হাবিব দুলুর নেতৃত্বে তিস্তার তীরবর্তী ১১টি পয়েন্টে এই কর্মসূচি অনুষ্ঠিত হচ্ছে।

তিস্তা রেল সেতুর কাউনিয়া পয়েন্ট বক্তব্য রাখেন সাইফুল ইসলাম, আহ্বায়ক রংপুর জেলা বিএনপি। মো. আনিছুর রহমান লাকু, সচিব জেলা বিএনপি রংপুর। এতে আরও বক্তব্য রাখবেন গণসংহতি আন্দোলনের প্রধান সমন্বয়কারী জোনায়েদ সাকিসহ কেন্দ্রীয় নেতৃবৃন্দ।

অবস্থান কর্মসূচির প্রথম দিনে কাউনিয়া তিস্তা রেলপয়েন্ট সেতুতে জনতার ঢল নেমেছে। নদীর পানি প্রবাহের সংকট, বর্ষা মৌসুমে বন্যা ও নদী ভাঙন এবং শুষ্ক মৌসুমে পানি শূন্যতার কারণে তিস্তা নদী আজ ধ্বংসের পথে। ভারতের একতরফা নদী শাসননীতির কারণে ৩১৫ কিলোমিটার দীর্ঘ এই নদীর বাংলাদেশ অংশের প্রায় ১১৫ কিলোমিটার পরিণত হয়েছে ধু-ধু বালুচরে।

দেশের বৃহত্তম সেচ প্রকল্প তিস্তা ব্যারাজ এখন প্রায় অকেজো। বর্ষা মৌসুমে অতিরিক্ত পানির চাপে ব্যারাজের সবকটি জলকপাট খুলে দিতে হয়, যার ফলে ভাটির দিকে লাখ লাখ মানুষ পানিবন্দি হয়ে পড়ে। নদী ভাঙনের কারণে অসংখ্য পরিবার গৃহহীন হয়ে পড়ে, বাধ্য হয়ে বাঁধের ধারে বা অন্যের জমিতে আশ্রয় নেন। আবার শুষ্ক মৌসুমে পানি না থাকায় নদীটি মরা খালে পরিণত হয়। পার্শ্ববর্তী দেশ ভারতের গজলডোবায় নির্মিত বাঁধের মাধ্যমে তিস্তার পানি নিয়ন্ত্রণ করায় বাংলাদেশের কৃষি ও জনজীবনে বিরূপ প্রভাব পড়ছে।

এই অবস্থায় তিস্তা মহাপরিকল্পনা বাস্তবায়নের দাবি জানানো হয়েছে আন্দোলনকারীদের পক্ষ থেকে। তারা দ্রুত নদী খনন, পানি প্রবাহ নিশ্চিতকরণ ও আন্তর্জাতিক চুক্তির ভিত্তিতে তিস্তার ন্যায্য হিস্যা আদায়ের আহ্বান জানিয়েছেন।

অবস্থান কর্মসূচির শেষ দিনে আগামীকাল মঙ্গলবার বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর কর্মসূচির বিভিন্ন পয়েন্ট পরিদর্শন করবেন এবং বক্তব্য প্রদান করবেন। এছাড়া, ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানও বক্তব্য রাখবেন বলে জানা গেছে।

তিস্তা নদীর অবস্থা দিন দিন অবনতির দিকে যাচ্ছে। সঠিক উদ্যোগ গ্রহণ করা না হলে এই অঞ্চলের মানুষের জীবন-জীবিকা আরও সংকটে পড়বে। তাই আন্দোলনকারীরা দ্রুত কার্যকরী পদক্ষেপ গ্রহণের জন্য সরকারের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন।