ঢাকা ১২:১৩ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ১৪ মার্চ ২০২৬, ২৯ ফাল্গুন ১৪৩২ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম ::
উন্নত চিকিৎসার জন্য সিঙ্গাপুর নেওয়া হচ্ছে মির্জা আব্বাসকে নারায়ণগঞ্জের সিদ্ধিরগঞ্জ থানার ১ নং ওয়ার্ডের সিআইখোলা এলাকায় মাদক বিক্রি করতে নিষেধ ৪৪ বছর পর ‘দম’-এ ফিরে সেই স্মরণীয় গান গাইলেন সাবিনা ইয়াসমিন মার্কিন গোয়েন্দা তথ্য: ইরানের শাসনব্যবস্থায় ভাঙনের আশঙ্কা নেই অসুস্থ হয়ে হাসপাতালে ভর্তি মির্জা আব্বাস ব্যারিস্টার কায়সার কামাল হলেন নতুন ডেপুটি স্পিকার রানার ঝড়ো গতিতে সাজঘরে ফিরলেন পাকিস্তানের তিন টপ অর্ডার ব্যাটার আলুর বস্তাপ্রতি ২০ টাকা চাঁদা নেওয়ার অভিযোগ স্বেচ্ছাসেবক দল নেতাদের বিরুদ্ধে প্রথমবার বাংলাদেশের চলচ্চিত্রে দেখা যাবে বলিউডের নাতালিয়াকে দেশে আবারও বাড়ল স্বর্ণের দাম, ক্রেতাদের মধ্যে বাড়ছে উদ্বেগ

বদরতলা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের বেহাল দশা

পরিত্যাক্ত ঘোষণার ১০ বছরেও হয়নি নতুন ভবন, ঝুঁকিতে শিক্ষক-শিক্ষার্থীর

দূর থেকে দেখলে মনে হবে এটি একটি ভূতুরে বাড়ি। কাছে যেতেই দেখা গেল রুমের ভিতরে ক্লাস করছে শিক্ষার্থীরা।
গোপালগঞ্জের কোটালীপাড়া উপজেলায় একটি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ভবনের বেহাল দশার কারনে ১০ বছর আগে পরিত্যক্ত ঘোষণা করা হলেও হয়নি নতুন ভবন। অধিক ঝুঁকিপূর্ণ সেই ভবনেই চলছে নিয়মিত পাঠদান। বিদ্যালয় ভবনের বেহাল দশার কারনে যে কোন সময়ে ঘটে যেতে পারে বড় ধরনের কোন দূর্ঘটনা।

উপজেলার সাদুল্লাপুর ইউনিয়নের বদরতলা গ্রামে স্থাপিত সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে এমন চিত্র পা্ওয়া গেছে।

সরেজমিনে ১৫১ নং বদরতলা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে গিয়ে জানাগেছে, ১৯৮৭ সালে এলাকার কয়েকজন শিক্ষানুরাগী ব্যক্তি বিদ্যালয়টি স্থাপন করেন। ১৯৯০ সালে রেজিস্ট্রাট প্রাথমিক বিদ্যালয় হিসেবে স্বীকৃতি পায়। পরবর্তীতে ২০১৩ সালে জাতীয়করণ করা হয়।

এই বিদ্যালয়ের ৩ কক্ষ বিশিষ্ট ভবনটির পলেস্তারা খসে পড়ায় এবং বিভিন্ন স্থানে ফাটল দেখা দেওয়ায় ২০১৪ সালে ভবনটি পরিত্যক্ত ঘোষণা করা হয়।

এদিকে বিদ্যালয়টির অন্য কোন ভবন না থাকায় বাধ্য হয়েই ঝুঁকিপূর্ণ এই ভবনে শিক্ষকগণ শিক্ষার্থীদের পাঠদান অব্যাহত রেখেছেন। বৃষ্টি হলে বিদ্যালয় ভবনটির ছাদ দিয়ে পানি পড়ে ভিজে যায় শিক্ষার্থীরা। এসব নানা কারনে দিন দিন বিদ্যালয়টির শিক্ষার্থী সংখ্যা কমতে থাকে।

বর্তমানে এই বিদ্যালয়টিতে ৫৯ জন শিক্ষার্থী রয়েছে। এসকল শিক্ষার্থী, শিক্ষক ও অভিভাবকগণ দ্রুত সময়ের নতুন ভবন নির্মাণের দাবী জানিয়েছেন।

বিদ্যালয়টির চতুর্থ শ্রেণির শিক্ষার্থী কৃষ্ণা বিশ্বাস বলেন, অনেক সময় বিদ্যালয়ের ছাদের পলেস্তারা খসে আমাদের গায়ে পড়ে। বৃষ্টির সময় পানিতে আমরা ভিজে যাই। এতে আমাদের লেখাপড়ায় সমস্যা হয়। বিদ্যালয়ের এই অবস্থার জন্য আমাদের অনেক সহপাঠীরা অন্য বিদ্যালয়ে চলে যাচ্ছে। আমার তাড়াতাড়ি আমাদের বিদ্যালয়ে একটি নতুন ভবন তৈরির দাবী জানাচ্ছি।

তৃতীয় শ্রেণির শিক্ষার্থী আরাধ্যা রায় বলেন, ক্লাসে আমরা ভয়ে থাকি। কখন কার মাথা উপর ছাদ ভেঙ্গে পড়ে। আমরা চাই নতুন একটি ভবন। সেখানে আমরা আনন্দের সাথে যাতে লেখাপড়া করতে পারি।

 

বদরতলা গ্রামের নরেশ বিশ্বাস বলেন, আমার মেয়ে ইন্দ্রানী বিশ্বাস বিদ্যালয়টির পঞ্চম শ্রেণিতে পড়ালেখা করছে। মেয়েটা স্কুলে যাওয়ার পরে কখন কোন দূর্ঘটনা ঘটে এ নিয়ে আমরা চিন্তায় থাকি। বৃষ্টির মৌসুমে ক্লাসে বসেই ওদের ভিজতে হয়। অনেক সময় বাধ্য হয়ে শিক্ষকদের স্কুল ছুটি দিয়ে দিতে হয়। আমরা বিদ্যালয়টিতে পড়ুয়া শিক্ষার্থীদের অভিভাবকগণ দ্রুত এ সমস্যার চাই।

শিক্ষক বিপ্লব হাজরা বলেন, ২০১৪ সাল থেকে নতুন ভবন নির্মাণের জন্য আমরা উপজেলা শিক্ষা অফিসে একের পর এক চিঠি দিয়ে যাচ্ছি। কিন্তু কোন কারনে আমাদের ভবনটি হচ্ছে না তাহা আমাদের জানা নেই।

উপজেলা শিক্ষা অফিসার আমজাদ হোসেন বলেন, পিডিবি-৪ এ যে সকল ঝুঁকিপূর্ণ প্রাথমিক বিদ্যালয়ে নতুন ভবন নির্মাণের কথা ছিল সেগুলো ইতোমধ্যে শেষ হয়েছে। আগামী জুলাই থেকে পিডিবি-৫ এর আওতায় নতুন ভবনের কাজ শুরু হবে। আশাকরছি পিডিবি-৫ এর কাজ শুরু হলে প্রথম দিকেই এই বিদ্যালয়টির জন্য একটি নতুন ভবন হবে।

ট্যাগস :

এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি, অডিও, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার বেআইনি।

জনপ্রিয় সংবাদ

উন্নত চিকিৎসার জন্য সিঙ্গাপুর নেওয়া হচ্ছে মির্জা আব্বাসকে

বদরতলা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের বেহাল দশা

আপডেট সময় : ০৫:৫৫:৩০ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৩ ফেব্রুয়ারী ২০২৫

পরিত্যাক্ত ঘোষণার ১০ বছরেও হয়নি নতুন ভবন, ঝুঁকিতে শিক্ষক-শিক্ষার্থীর

দূর থেকে দেখলে মনে হবে এটি একটি ভূতুরে বাড়ি। কাছে যেতেই দেখা গেল রুমের ভিতরে ক্লাস করছে শিক্ষার্থীরা।
গোপালগঞ্জের কোটালীপাড়া উপজেলায় একটি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ভবনের বেহাল দশার কারনে ১০ বছর আগে পরিত্যক্ত ঘোষণা করা হলেও হয়নি নতুন ভবন। অধিক ঝুঁকিপূর্ণ সেই ভবনেই চলছে নিয়মিত পাঠদান। বিদ্যালয় ভবনের বেহাল দশার কারনে যে কোন সময়ে ঘটে যেতে পারে বড় ধরনের কোন দূর্ঘটনা।

উপজেলার সাদুল্লাপুর ইউনিয়নের বদরতলা গ্রামে স্থাপিত সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে এমন চিত্র পা্ওয়া গেছে।

সরেজমিনে ১৫১ নং বদরতলা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে গিয়ে জানাগেছে, ১৯৮৭ সালে এলাকার কয়েকজন শিক্ষানুরাগী ব্যক্তি বিদ্যালয়টি স্থাপন করেন। ১৯৯০ সালে রেজিস্ট্রাট প্রাথমিক বিদ্যালয় হিসেবে স্বীকৃতি পায়। পরবর্তীতে ২০১৩ সালে জাতীয়করণ করা হয়।

এই বিদ্যালয়ের ৩ কক্ষ বিশিষ্ট ভবনটির পলেস্তারা খসে পড়ায় এবং বিভিন্ন স্থানে ফাটল দেখা দেওয়ায় ২০১৪ সালে ভবনটি পরিত্যক্ত ঘোষণা করা হয়।

এদিকে বিদ্যালয়টির অন্য কোন ভবন না থাকায় বাধ্য হয়েই ঝুঁকিপূর্ণ এই ভবনে শিক্ষকগণ শিক্ষার্থীদের পাঠদান অব্যাহত রেখেছেন। বৃষ্টি হলে বিদ্যালয় ভবনটির ছাদ দিয়ে পানি পড়ে ভিজে যায় শিক্ষার্থীরা। এসব নানা কারনে দিন দিন বিদ্যালয়টির শিক্ষার্থী সংখ্যা কমতে থাকে।

বর্তমানে এই বিদ্যালয়টিতে ৫৯ জন শিক্ষার্থী রয়েছে। এসকল শিক্ষার্থী, শিক্ষক ও অভিভাবকগণ দ্রুত সময়ের নতুন ভবন নির্মাণের দাবী জানিয়েছেন।

বিদ্যালয়টির চতুর্থ শ্রেণির শিক্ষার্থী কৃষ্ণা বিশ্বাস বলেন, অনেক সময় বিদ্যালয়ের ছাদের পলেস্তারা খসে আমাদের গায়ে পড়ে। বৃষ্টির সময় পানিতে আমরা ভিজে যাই। এতে আমাদের লেখাপড়ায় সমস্যা হয়। বিদ্যালয়ের এই অবস্থার জন্য আমাদের অনেক সহপাঠীরা অন্য বিদ্যালয়ে চলে যাচ্ছে। আমার তাড়াতাড়ি আমাদের বিদ্যালয়ে একটি নতুন ভবন তৈরির দাবী জানাচ্ছি।

তৃতীয় শ্রেণির শিক্ষার্থী আরাধ্যা রায় বলেন, ক্লাসে আমরা ভয়ে থাকি। কখন কার মাথা উপর ছাদ ভেঙ্গে পড়ে। আমরা চাই নতুন একটি ভবন। সেখানে আমরা আনন্দের সাথে যাতে লেখাপড়া করতে পারি।

 

বদরতলা গ্রামের নরেশ বিশ্বাস বলেন, আমার মেয়ে ইন্দ্রানী বিশ্বাস বিদ্যালয়টির পঞ্চম শ্রেণিতে পড়ালেখা করছে। মেয়েটা স্কুলে যাওয়ার পরে কখন কোন দূর্ঘটনা ঘটে এ নিয়ে আমরা চিন্তায় থাকি। বৃষ্টির মৌসুমে ক্লাসে বসেই ওদের ভিজতে হয়। অনেক সময় বাধ্য হয়ে শিক্ষকদের স্কুল ছুটি দিয়ে দিতে হয়। আমরা বিদ্যালয়টিতে পড়ুয়া শিক্ষার্থীদের অভিভাবকগণ দ্রুত এ সমস্যার চাই।

শিক্ষক বিপ্লব হাজরা বলেন, ২০১৪ সাল থেকে নতুন ভবন নির্মাণের জন্য আমরা উপজেলা শিক্ষা অফিসে একের পর এক চিঠি দিয়ে যাচ্ছি। কিন্তু কোন কারনে আমাদের ভবনটি হচ্ছে না তাহা আমাদের জানা নেই।

উপজেলা শিক্ষা অফিসার আমজাদ হোসেন বলেন, পিডিবি-৪ এ যে সকল ঝুঁকিপূর্ণ প্রাথমিক বিদ্যালয়ে নতুন ভবন নির্মাণের কথা ছিল সেগুলো ইতোমধ্যে শেষ হয়েছে। আগামী জুলাই থেকে পিডিবি-৫ এর আওতায় নতুন ভবনের কাজ শুরু হবে। আশাকরছি পিডিবি-৫ এর কাজ শুরু হলে প্রথম দিকেই এই বিদ্যালয়টির জন্য একটি নতুন ভবন হবে।