ঢাকা ১০:৪৩ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ১৮ জানুয়ারী ২০২৬, ৫ মাঘ ১৪৩২ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম ::
২৮ ঘণ্টারও বেশি সময় ফুটবল শূন্যে ভাসিয়ে গড়লো বিশ্ব রেকর্ড নারায়ণগঞ্জে দুর্ধর্ষ ডাকাতি, লুট ৭ লাখ টাকা ও স্বর্ণালঙ্কার চার খনি থেকে উত্তোলন হলো ২ লাখ ২১ হাজার কেজি স্বর্ণ সায়েন্সল্যাবে ‘অধ্যাদেশ মঞ্চ’: নতুন কর্মসূচির ঘোষণা আন্দোলনকারীদের বিয়ের কথা স্বীকার করেই সিনেমায় পা, পরে হয়ে ওঠেন মহানায়িকা ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে নাজমুলের পদত্যাগ নিশ্চিত হলেই মাঠে ফিরবেন ক্রিকেটাররা সিঙ্গাপুরে জুবিন গার্গ মৃত্যু ঘটনায় নতুন তথ্য সামনে এসেছে শীতের দাপট বাড়তে পারে আজ থেকেই সব বই পেতে শিক্ষার্থীদের আরও ১৫ দিনের ধৈর্য, ব্যর্থ এনসিটিবি পাখিপ্রেমীর উদ্যোগে পাবনার প্রকৃতিতে মুক্তি পেল আটটি পাতিসরালি

আজান দেওয়ার ফজিলত

দৈনিক পাঁচ ওয়াক্ত নামাজের জন্য আজান দেওয়া সুন্নতে মুয়াক্কাদা। আজানের সূচনা নিয়েও আছে এক চমকপ্রদ ঘটনা। আজান দেওয়া স্বতন্ত্র একটি ইবাদত। তাই বিনা অজুতে আজান দেওয়া অপছন্দনীয় কাজ।

আবু হুরায়রা (রা.) বলেছেন, ‘বিনা অজুতে কেউ যেন নামাজের আজান না দেয়।’
(সুমানে তিরমিজি, হাদিস : ২০১)

আজান দেওয়ার ফজিলত অনেক। আজান দেওয়াকে অনেকে খাটো চোখে দেখে, তুচ্ছতাচ্ছিল্য করে, অপমান ও লাঞ্ছনাকর পেশা মনে করে। অথচ আজান দেওয়ায় আছে বহু সওয়াব।

আছে জাহান্নাম থেকে মুক্তিনামা। ইবনে আব্বাস (রা.) থেকে বর্ণিত, নবী করিম (সা.) বলেন, ‘যে ব্যক্তি নেকির আশায় একাধারে সাত বছর আজান দেবে তার জন্য জাহান্নামের আগুন থেকে নাজাত নির্ধারিত আছে।’ (সুনানে তিরমিজি, হাদিস : ২০৬)
অনেক সময় এমন হয় যে আজান দেওয়ার জন্য মানুষ পাওয়া যায় না। আজান দেওয়াকে গুরুত্বহীন ও নিম্ন শ্রেণির পেশা মনে করা হয়।

অথচ আজানের গুরুত্ব কেমন—তা নিম্নোক্ত হাদিস থেকে অনুমেয়। আবু হুরায়রা (রা.) থেকে বর্ণিত, রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, ‘মানুষ যদি জানত, আজান দেওয়া এবং সালাতের প্রথম কাতারে দাঁড়ানোর মধ্যে কী ফজিলত আছে, তবে তা পাওয়ার জন্য লটারি ছাড়া উপায় না থাকলে তারা তার জন্য লটারি করত। আর তারা যদি জানত যে দ্বি-প্রহরের (জোহর ও জুমা) সালাতের প্রথম সময়ে গমনে কী রয়েছে, তবে তার দিকে দ্রুতগতিতে ধাবিত হতো। আর তারা যদি জানত ইশা ও ফজরের সালাতে কী আছে, তাহলে উভয় সালাতের জন্য অবশ্যই হামাগুড়ি দিয়ে হলেও উপস্থিত হতো। (সুনানে নাসায়ি, হাদিস : ৬৭১)

তবে হ্যাঁ, মুয়াজ্জিনের কণ্ঠস্বর উঁচু হওয়া ভালো।

যাতে আজানের আওয়াজ অনেক দূর পর্যন্ত পৌঁছে এবং মানুষ দূর-দূরান্ত থেকে মসজিদে আসতে পারে। আবু হুরায়রা (রা.) থেকে বর্ণিত, তিনি রাসুলুল্লাহ (সা.)-কে বলতে শুনেছেন যে মুয়াজ্জিনের আওয়াজের দূরত্ব পরিমাণ করে তাকে ক্ষমা করে দেওয়া হবে এবং প্রত্যেক শুষ্ক ও আর্দ্র জিনিস (অর্থাৎ জীবন্ত ও মৃত প্রত্যেক জিনিস) তার (ঈমানের) পক্ষে সাক্ষ্য প্রদান করবে। (সুনানে নাসায়ি, হাদিস : ৬৪৫)

মুয়াজ্জিনের জন্য নবীজি (সা.) দোয়া করেছেন। মুয়াজ্জিন বড়ই ভাগ্যবান। কারণ স্বয়ং নবী (সা.) তার জন্য ক্ষমা প্রার্থনা করেছেন। আবু হুরায়রা (রা.) বলেন, রাসুল (সা.) বলেছেন, ‘ইমাম হলেন (নামাজের) জামিন এবং মুয়াজ্জিন হলেন আমানতদার। হে আল্লাহ! ইমামকে সৎপথ দেখাও এবং মুয়াজ্জিনকে মাফ করো।’ (সুনানে তিরমিজি, হাদিস : ২০৭)

ট্যাগস :

এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি, অডিও, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার বেআইনি।

জনপ্রিয় সংবাদ

২৮ ঘণ্টারও বেশি সময় ফুটবল শূন্যে ভাসিয়ে গড়লো বিশ্ব রেকর্ড

আজান দেওয়ার ফজিলত

আপডেট সময় : ০৪:৩৩:৫৭ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ১৪ জানুয়ারী ২০২৫

দৈনিক পাঁচ ওয়াক্ত নামাজের জন্য আজান দেওয়া সুন্নতে মুয়াক্কাদা। আজানের সূচনা নিয়েও আছে এক চমকপ্রদ ঘটনা। আজান দেওয়া স্বতন্ত্র একটি ইবাদত। তাই বিনা অজুতে আজান দেওয়া অপছন্দনীয় কাজ।

আবু হুরায়রা (রা.) বলেছেন, ‘বিনা অজুতে কেউ যেন নামাজের আজান না দেয়।’
(সুমানে তিরমিজি, হাদিস : ২০১)

আজান দেওয়ার ফজিলত অনেক। আজান দেওয়াকে অনেকে খাটো চোখে দেখে, তুচ্ছতাচ্ছিল্য করে, অপমান ও লাঞ্ছনাকর পেশা মনে করে। অথচ আজান দেওয়ায় আছে বহু সওয়াব।

আছে জাহান্নাম থেকে মুক্তিনামা। ইবনে আব্বাস (রা.) থেকে বর্ণিত, নবী করিম (সা.) বলেন, ‘যে ব্যক্তি নেকির আশায় একাধারে সাত বছর আজান দেবে তার জন্য জাহান্নামের আগুন থেকে নাজাত নির্ধারিত আছে।’ (সুনানে তিরমিজি, হাদিস : ২০৬)
অনেক সময় এমন হয় যে আজান দেওয়ার জন্য মানুষ পাওয়া যায় না। আজান দেওয়াকে গুরুত্বহীন ও নিম্ন শ্রেণির পেশা মনে করা হয়।

অথচ আজানের গুরুত্ব কেমন—তা নিম্নোক্ত হাদিস থেকে অনুমেয়। আবু হুরায়রা (রা.) থেকে বর্ণিত, রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, ‘মানুষ যদি জানত, আজান দেওয়া এবং সালাতের প্রথম কাতারে দাঁড়ানোর মধ্যে কী ফজিলত আছে, তবে তা পাওয়ার জন্য লটারি ছাড়া উপায় না থাকলে তারা তার জন্য লটারি করত। আর তারা যদি জানত যে দ্বি-প্রহরের (জোহর ও জুমা) সালাতের প্রথম সময়ে গমনে কী রয়েছে, তবে তার দিকে দ্রুতগতিতে ধাবিত হতো। আর তারা যদি জানত ইশা ও ফজরের সালাতে কী আছে, তাহলে উভয় সালাতের জন্য অবশ্যই হামাগুড়ি দিয়ে হলেও উপস্থিত হতো। (সুনানে নাসায়ি, হাদিস : ৬৭১)

তবে হ্যাঁ, মুয়াজ্জিনের কণ্ঠস্বর উঁচু হওয়া ভালো।

যাতে আজানের আওয়াজ অনেক দূর পর্যন্ত পৌঁছে এবং মানুষ দূর-দূরান্ত থেকে মসজিদে আসতে পারে। আবু হুরায়রা (রা.) থেকে বর্ণিত, তিনি রাসুলুল্লাহ (সা.)-কে বলতে শুনেছেন যে মুয়াজ্জিনের আওয়াজের দূরত্ব পরিমাণ করে তাকে ক্ষমা করে দেওয়া হবে এবং প্রত্যেক শুষ্ক ও আর্দ্র জিনিস (অর্থাৎ জীবন্ত ও মৃত প্রত্যেক জিনিস) তার (ঈমানের) পক্ষে সাক্ষ্য প্রদান করবে। (সুনানে নাসায়ি, হাদিস : ৬৪৫)

মুয়াজ্জিনের জন্য নবীজি (সা.) দোয়া করেছেন। মুয়াজ্জিন বড়ই ভাগ্যবান। কারণ স্বয়ং নবী (সা.) তার জন্য ক্ষমা প্রার্থনা করেছেন। আবু হুরায়রা (রা.) বলেন, রাসুল (সা.) বলেছেন, ‘ইমাম হলেন (নামাজের) জামিন এবং মুয়াজ্জিন হলেন আমানতদার। হে আল্লাহ! ইমামকে সৎপথ দেখাও এবং মুয়াজ্জিনকে মাফ করো।’ (সুনানে তিরমিজি, হাদিস : ২০৭)