ঢাকা ১০:০০ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ১৮ জানুয়ারী ২০২৬, ৫ মাঘ ১৪৩২ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম ::
২৮ ঘণ্টারও বেশি সময় ফুটবল শূন্যে ভাসিয়ে গড়লো বিশ্ব রেকর্ড নারায়ণগঞ্জে দুর্ধর্ষ ডাকাতি, লুট ৭ লাখ টাকা ও স্বর্ণালঙ্কার চার খনি থেকে উত্তোলন হলো ২ লাখ ২১ হাজার কেজি স্বর্ণ সায়েন্সল্যাবে ‘অধ্যাদেশ মঞ্চ’: নতুন কর্মসূচির ঘোষণা আন্দোলনকারীদের বিয়ের কথা স্বীকার করেই সিনেমায় পা, পরে হয়ে ওঠেন মহানায়িকা ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে নাজমুলের পদত্যাগ নিশ্চিত হলেই মাঠে ফিরবেন ক্রিকেটাররা সিঙ্গাপুরে জুবিন গার্গ মৃত্যু ঘটনায় নতুন তথ্য সামনে এসেছে শীতের দাপট বাড়তে পারে আজ থেকেই সব বই পেতে শিক্ষার্থীদের আরও ১৫ দিনের ধৈর্য, ব্যর্থ এনসিটিবি পাখিপ্রেমীর উদ্যোগে পাবনার প্রকৃতিতে মুক্তি পেল আটটি পাতিসরালি

আজ নির্মল সেনের ১২তম মৃত্যুবার্ষিকী

বিশিষ্ট সাংবাদিক , কলামিষ্ট , লেখক, বাম রাজনীতির পুরোধা , মুক্তিযোদ্ধা নির্মল সেনের ১২তম মৃত্যুবার্ষিকী আজ বুধবার। ২০১৩ সালের ৮ জানুয়ারী তিনি রাজধানী ঢাকার ল্যাবএইড হাসপাতালে ৮৩ বছর বয়সে পরলোকগমন করেন। তার ১২তম মৃত্যুবার্ষিকী পালন উপলক্ষে গোপালগঞ্জের কোটালীপাড়ার সরকারি কোটালীপাড়া ইউনিয়ন ইনস্টিটিউশনের হলরুমে প্রেসক্লাব কোটালীপাড়া এক স্মরণ সভার আয়োজন করেছে।

নির্মল সেন ১৯৩০ সালের ৩ আগষ্ট গোপালগঞ্জের কোটালীপাড়ার দিঘীরপাড় গ্রামে এক সম্ভ্রান্ত পরিবারে জন্ম গ্রহণ করেন। তার বাবার নাম সুরেন্দ্রনাথ সেন গুপ্ত । মাতার নাম লাবন্য প্রভা সেন গুপ্ত। পাঁচ ভাই ও তিন বোনের মধ্যে নির্মল সেন পঞ্চম । নির্মল সেনের পিতা সুরেন্দ্র নাথ সেন গুপ্ত কোটালীপাড়ার শ্রেষ্ঠ বিদ্যাপীট কোটালীপাড়া ইউনিয়ন ইনষ্টিটিউশনের গনিত শিক্ষক ছিলেন। এর আগে সুরেন্দ্র নাথ সেন গুপ্ত ঢাকার ইষ্ট বেঙ্গল ইনষ্টিটিউটে শিক্ষকতা করতেন।
দেশ বিভক্তির পরে নির্মল সেনের পিতা মাতা অন্য ভাই বোনদের সঙ্গে নিয়ে কলকাতা চলে যান। জন্মভূমির প্রতি অকুন্ঠ ভালবাসার কারনে তিনি এদেশে থেকে যান। নির্মল সেন বড় হযেছেন ঝালকাঠি জেলায় তার পিসির বাড়ীতে।। তিনি ঝালকাঠি জেলার কলসকাঠি বিএম একাডেমি থেকে ১৯৪৪ সালে মাত্র ১৪ বছর বয়সে ম্যাট্রিক পাস করেন। পিসির বাড়ীতে যাওয়ার আগে নির্মল সেন গোপালগঞ্জের টুঙ্গিপাড়া উপজেলার জিটি স্কুলে ৪র্থ শ্রেণিতে এক বছর লেখা পড়া করেন। তিনি বরিশাল বিএম কলেজ থেকে আইএসসি এবং ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে বি এ ও মাষ্টার্স পাস করেন।
ষ্কুল জীবন থেকে নির্মল সেনের রাজনৈতিক জীবন শুরু হয় ”ভারত ছাড়ো” আন্দোলনের মাধ্যমে । কলেজ জীবনে তিনি অনুশিলন সমিতির সক্রিয় সদস্য ছিলেন। পরবর্তিতে তিনি আরএসপিতে যোগ দেন। দীর্ঘ দিন তিনি শ্রমিক কৃষক সমাজবাদী দলের সাধারণ সম্পাদক ছিলেন। রাজনীতি করতে গিয়ে নির্মল সেনকে জীবনের অনেকটা সময় জেলে কাটাতে হয়েছে।
১৯৫৯ সালে দৈনিক ইত্তেফাক পত্রিকার মধ্যে দিয়ে নির্মল সেন তার সাংবাদিক জীবন শুরু করেন। তার পর দৈনিক আজাদ, দৈনিক পাকিস্তান, দৈনিক বাংলা পত্রিকায় সাংবাদিকতা করেন। তিনি বাংলাদেশ ফেডারেল সাংবাদিক ইউনিয়নের সভাপতি ছিলেন। এছাড়াও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সাংবাদিকতা বিষয়ে অতিথি শিক্ষক হিসেবে শিক্ষকতা করেন।
লেখক হিসেবেও নির্মল সেনের যথেষ্ট সুনাম রযেছে। তার লেখা পূর্ব পাকিস্তান থেকে বাংলাদেশ, মানুষ সমাজ রাস্ট্র , বার্লিন থেকে মষ্কো , মা জন্মভূমি , স্বাভাবিক মৃত্যুর গ্যারান্টি চাই ,আমার জীবনে ৭১এর যুদ্ধ, আমার জবানবন্দি উল্লেখ যোগ্য।

ট্যাগস :

এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি, অডিও, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার বেআইনি।

জনপ্রিয় সংবাদ

২৮ ঘণ্টারও বেশি সময় ফুটবল শূন্যে ভাসিয়ে গড়লো বিশ্ব রেকর্ড

আজ নির্মল সেনের ১২তম মৃত্যুবার্ষিকী

আপডেট সময় : ০৪:০২:৪২ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ৮ জানুয়ারী ২০২৫

বিশিষ্ট সাংবাদিক , কলামিষ্ট , লেখক, বাম রাজনীতির পুরোধা , মুক্তিযোদ্ধা নির্মল সেনের ১২তম মৃত্যুবার্ষিকী আজ বুধবার। ২০১৩ সালের ৮ জানুয়ারী তিনি রাজধানী ঢাকার ল্যাবএইড হাসপাতালে ৮৩ বছর বয়সে পরলোকগমন করেন। তার ১২তম মৃত্যুবার্ষিকী পালন উপলক্ষে গোপালগঞ্জের কোটালীপাড়ার সরকারি কোটালীপাড়া ইউনিয়ন ইনস্টিটিউশনের হলরুমে প্রেসক্লাব কোটালীপাড়া এক স্মরণ সভার আয়োজন করেছে।

নির্মল সেন ১৯৩০ সালের ৩ আগষ্ট গোপালগঞ্জের কোটালীপাড়ার দিঘীরপাড় গ্রামে এক সম্ভ্রান্ত পরিবারে জন্ম গ্রহণ করেন। তার বাবার নাম সুরেন্দ্রনাথ সেন গুপ্ত । মাতার নাম লাবন্য প্রভা সেন গুপ্ত। পাঁচ ভাই ও তিন বোনের মধ্যে নির্মল সেন পঞ্চম । নির্মল সেনের পিতা সুরেন্দ্র নাথ সেন গুপ্ত কোটালীপাড়ার শ্রেষ্ঠ বিদ্যাপীট কোটালীপাড়া ইউনিয়ন ইনষ্টিটিউশনের গনিত শিক্ষক ছিলেন। এর আগে সুরেন্দ্র নাথ সেন গুপ্ত ঢাকার ইষ্ট বেঙ্গল ইনষ্টিটিউটে শিক্ষকতা করতেন।
দেশ বিভক্তির পরে নির্মল সেনের পিতা মাতা অন্য ভাই বোনদের সঙ্গে নিয়ে কলকাতা চলে যান। জন্মভূমির প্রতি অকুন্ঠ ভালবাসার কারনে তিনি এদেশে থেকে যান। নির্মল সেন বড় হযেছেন ঝালকাঠি জেলায় তার পিসির বাড়ীতে।। তিনি ঝালকাঠি জেলার কলসকাঠি বিএম একাডেমি থেকে ১৯৪৪ সালে মাত্র ১৪ বছর বয়সে ম্যাট্রিক পাস করেন। পিসির বাড়ীতে যাওয়ার আগে নির্মল সেন গোপালগঞ্জের টুঙ্গিপাড়া উপজেলার জিটি স্কুলে ৪র্থ শ্রেণিতে এক বছর লেখা পড়া করেন। তিনি বরিশাল বিএম কলেজ থেকে আইএসসি এবং ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে বি এ ও মাষ্টার্স পাস করেন।
ষ্কুল জীবন থেকে নির্মল সেনের রাজনৈতিক জীবন শুরু হয় ”ভারত ছাড়ো” আন্দোলনের মাধ্যমে । কলেজ জীবনে তিনি অনুশিলন সমিতির সক্রিয় সদস্য ছিলেন। পরবর্তিতে তিনি আরএসপিতে যোগ দেন। দীর্ঘ দিন তিনি শ্রমিক কৃষক সমাজবাদী দলের সাধারণ সম্পাদক ছিলেন। রাজনীতি করতে গিয়ে নির্মল সেনকে জীবনের অনেকটা সময় জেলে কাটাতে হয়েছে।
১৯৫৯ সালে দৈনিক ইত্তেফাক পত্রিকার মধ্যে দিয়ে নির্মল সেন তার সাংবাদিক জীবন শুরু করেন। তার পর দৈনিক আজাদ, দৈনিক পাকিস্তান, দৈনিক বাংলা পত্রিকায় সাংবাদিকতা করেন। তিনি বাংলাদেশ ফেডারেল সাংবাদিক ইউনিয়নের সভাপতি ছিলেন। এছাড়াও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সাংবাদিকতা বিষয়ে অতিথি শিক্ষক হিসেবে শিক্ষকতা করেন।
লেখক হিসেবেও নির্মল সেনের যথেষ্ট সুনাম রযেছে। তার লেখা পূর্ব পাকিস্তান থেকে বাংলাদেশ, মানুষ সমাজ রাস্ট্র , বার্লিন থেকে মষ্কো , মা জন্মভূমি , স্বাভাবিক মৃত্যুর গ্যারান্টি চাই ,আমার জীবনে ৭১এর যুদ্ধ, আমার জবানবন্দি উল্লেখ যোগ্য।