ঢাকা ০৮:২৫ অপরাহ্ন, শনিবার, ০২ মে ২০২৬, ১৯ বৈশাখ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম ::
বন্য হাতির তাণ্ডবে রামুতে নিহত মা-মেয়ে পর্নোগ্রাফি মামলায় রাজ-এর আহ্বান, দোষী হলে শাস্তি, নইলে মুক্তি চান চীনের বড় সাফল্য, মিলেছে ২০০টির বেশি নতুন তেল-গ্যাস ক্ষেত্র হাওরে ভয়াবহ ক্ষতি, পানির নিচে ২০০ কোটি টাকার ধান টানা বৃষ্টিতে ডুবে গেছে হাজার বিঘা পাকা ধানক্ষেত ব্রিটিশদের ভূমিকা না থাকলে আমেরিকায় ফরাসি ভাষাই হতো প্রধান, ট্রাম্পকে রাজার কটাক্ষ পাচার হওয়া অর্থ দেশে ফিরিয়ে আনতে সক্রিয় বাংলাদেশ গুরুত্বপূর্ণ সময়েও কাজের চাপে ব্যস্ত দীপিকা, নেই দম নেওয়ার সুযোগ অন্য দেশকে নির্দেশ দেওয়ার অবস্থায় আর নেই যুক্তরাষ্ট্র: ইরান ঈশাণকোনে রাজনৈতিক অস্থিরতার মেঘ ঘনীভূত হচ্ছে: সাইফুল হক

ধর্ষণ মামলায় জামিন পেলেন মামুনুল হক

  • প্রতিনিধির নাম
  • আপডেট সময় : ০৪:১১:২৫ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৪ এপ্রিল ২০২৪
  • ৯০ বার পড়া হয়েছে

নারায়ণগঞ্জের সোনারগাঁ থানায় এক নারীর দায়ের করা ধর্ষণ মামলায় হেফাজতে ইসলামের বিলুপ্ত কমিটির যুগ্ম-মহাসচিব মামুনুল হকের জামিন মঞ্জুর করেছেন আদালত।

বৃহস্পতিবার (৪ এপ্রিল) দুপুরে নারায়ণগঞ্জ নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালের বিচারক নাজমুল হক শ্যামলের আদালত মামুনল হকের এ জামিন মঞ্জুর করেন। মামলাটিতে গ্রেফতার হয়ে প্রায় তিন বছর কাশিমপুর কারাগারে থাকার পর জামিন পেলেন তিনি।

তবে জামিন আবেদনের শুনানির সময় আসামি মামুনুল হক আদালতে উপস্থিত ছিলেন না। তাকে আদালতে আনা হয় নি। তার অনুপস্থিতিতেই জামিন আবেদন শুনানি অনুষ্ঠিত হয়েছে। এদিন আসামিপক্ষের আইনজীবী অ্যাডভোকেট এ কে এম ওমর ফারুক নয়নসহ আরও বেশ কয়েকজন আইনজীবী মামুনুল হকের জামিন আবেদন করলে শুনানি শেষে আদালত জামিন মঞ্জুর করেন।

জামিনের বিষয়টি নিশ্চিত করে আসামিপক্ষের আইনজীবী অ্যাডভোকেট এ কে এম ওমর ফারুক নয়ন বলেন, ‘আমরা আসামির পক্ষে জামিনের আবেদন করে আদালতে যুক্তিতর্ক উপস্থাপন করেছি। মেডিকেল বোর্ডের রিপোর্টও তুলে ধরেছি। রিপোর্টে বাদী বলেছেন স্বেচ্ছায় শারীরিক সম্পর্ক স্থাপন করেছেন। মামুনুল হকের সঙ্গে আমার বিবাহের সম্পর্ক চলমান।’

আসামিপক্ষের এ আইনজীবী আরও বলেন, ‘বাদীর ছেলে আদালতে সাক্ষী দিয়েছেন যে তার মায়ের সঙ্গে মামুনুল হকের বিবাহ হয়েছে। আদালত আমাদের উপস্থাপন করা যাবতীয় তথ্য বিবেচনায় নিয়ে আসামির জামিন মঞ্জুর করেছেন।’

এদিকে আসামি মামুনুল হকের জামিন মঞ্জুর হলেও তার বিরুদ্ধে করা ধর্ষণ মামলাটিতে সাক্ষী ও জেরা চলমান রয়েছে। সবশেষ গত ১৯ মার্চ নারায়ণগঞ্জ নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালের বিচারক নাজমুল হক শ্যামলের আদালতে মামলায় তদন্তকারী কর্মকর্তা ইন্সপেক্টর এস এম শফিকুল ইসলামকে তৃতীয় দফায় জেরা করা হয়েছে। জেরা শেষে আসামি পক্ষের আইনজীবীরা আরও একদিন জেরার জন্য সময় চাইলে আদালত আগামি ২৩ এপ্রিল পরবর্তী জেরার দিন ধার্য করেন।

২০২১ সালের ৩ এপ্রিল নারায়ণগঞ্জের সোনারগাঁ উপজেলায় রয়েল রিসোর্টে জান্নাত আরা ঝর্ণা নামে এক নারীর সঙ্গে অবস্থান করছিলেন হেফাজতে ইসলামের তৎকালীন যুগ্ম-মহাসচিব মামুনুল হক। ওই সময় স্থানীয় আওয়ামী লীগের নেতা-কর্মীরা খবর পেয়ে এসে নারীর সঙ্গে তাকে ঘেরাও করে রাখেন। পরে স্থানীয় হেফাজতের নেতাকর্মী ও সমর্থকরা গিয়ে রিসোর্টে ব্যাপক ভাঙচুর ও ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কে তাণ্ডব চালিয়ে মামুনুল হককে ছিনিয়ে নিয়ে যান। ঘটনার পর থেকেই মামুনুল হক মোহাম্মদপুরের জামিয়া রাহমানিয়া আরাবিয়া মাদরাসায় অবস্থান করছিলেন। এ সময় থানা পুলিশ, গোয়েন্দা পুলিশ ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর বিভিন্ন সংস্থা মামুনুল হককে নজরদারিতে রাখে।

ঘটনার পনেরো দিন পরে ওই বছরের ১৮ এপ্রিল মোহাম্মদপুরের জামিয়া রাহমানিয়া আরাবিয়া মাদরাসা থেকে মামুনুল হককে গ্রেফতার করা হয়। পরে এ ঘটনায় ৩০ এপ্রিল সোনারগাঁ থানায় মামুনুল হকের বিরুদ্ধে বিয়ের প্রলোভনে রিসোর্টে নিয়ে একাধিকবার ধর্ষণের অভিযোগ তুলে মামলা করেন ওই নারী। তবে আসামি মামুনুল হক ওই নারীকে তার দ্বিতীয় স্ত্রী বলে দাবি করে এলেও তার আইনজীবীরা এখন পর্যন্ত বিয়ের কাবিননামা বা এ সংক্রান্ত বৈধ কোনো তথ্য প্রমাণ আদালতে উপস্থাপন করতে পারেন নি।

ধর্ষণ মামলার বাদী সাক্ষ্য প্রদানের সময়ও ওই নারী আদালতে মামুনুল হকের বিরুদ্ধে বিয়ের প্রলোভন দেখিয়ে সোনারগাঁ রয়েল রিসোর্টে নিয়ে একাধিকবার তাকে ধর্ষণ করার কথা স্বীকারও করেছেন। আদালতে তার দেয়া ওই সাক্ষ্য নথিভুক্ত করা আছে। এছাড়া বাদী পক্ষের আইনজীবী আসামি মামুনুল হককে আদালতে জেরা করার সময় মামুনুল হক ওই নারীকে মৌখিকভাবে বিয়ে করেছেন বলে দাবি করেছেন। তবে যার কোনো কাবিননামা তিনি দেখাতে পারেন নি। তখন ইসলামি শরীয়তের বিধান অনুযায়ী কাবিননামা ছাড়া মৌখিকভাবে কোনো বিয়ে বৈধ নয় বলেও বাদীপক্ষের আইনজীবী আদালতে উপস্থাপন করেছেন।

 

এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি, অডিও, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার বেআইনি।

জনপ্রিয় সংবাদ

বন্য হাতির তাণ্ডবে রামুতে নিহত মা-মেয়ে

ধর্ষণ মামলায় জামিন পেলেন মামুনুল হক

আপডেট সময় : ০৪:১১:২৫ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৪ এপ্রিল ২০২৪

নারায়ণগঞ্জের সোনারগাঁ থানায় এক নারীর দায়ের করা ধর্ষণ মামলায় হেফাজতে ইসলামের বিলুপ্ত কমিটির যুগ্ম-মহাসচিব মামুনুল হকের জামিন মঞ্জুর করেছেন আদালত।

বৃহস্পতিবার (৪ এপ্রিল) দুপুরে নারায়ণগঞ্জ নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালের বিচারক নাজমুল হক শ্যামলের আদালত মামুনল হকের এ জামিন মঞ্জুর করেন। মামলাটিতে গ্রেফতার হয়ে প্রায় তিন বছর কাশিমপুর কারাগারে থাকার পর জামিন পেলেন তিনি।

তবে জামিন আবেদনের শুনানির সময় আসামি মামুনুল হক আদালতে উপস্থিত ছিলেন না। তাকে আদালতে আনা হয় নি। তার অনুপস্থিতিতেই জামিন আবেদন শুনানি অনুষ্ঠিত হয়েছে। এদিন আসামিপক্ষের আইনজীবী অ্যাডভোকেট এ কে এম ওমর ফারুক নয়নসহ আরও বেশ কয়েকজন আইনজীবী মামুনুল হকের জামিন আবেদন করলে শুনানি শেষে আদালত জামিন মঞ্জুর করেন।

জামিনের বিষয়টি নিশ্চিত করে আসামিপক্ষের আইনজীবী অ্যাডভোকেট এ কে এম ওমর ফারুক নয়ন বলেন, ‘আমরা আসামির পক্ষে জামিনের আবেদন করে আদালতে যুক্তিতর্ক উপস্থাপন করেছি। মেডিকেল বোর্ডের রিপোর্টও তুলে ধরেছি। রিপোর্টে বাদী বলেছেন স্বেচ্ছায় শারীরিক সম্পর্ক স্থাপন করেছেন। মামুনুল হকের সঙ্গে আমার বিবাহের সম্পর্ক চলমান।’

আসামিপক্ষের এ আইনজীবী আরও বলেন, ‘বাদীর ছেলে আদালতে সাক্ষী দিয়েছেন যে তার মায়ের সঙ্গে মামুনুল হকের বিবাহ হয়েছে। আদালত আমাদের উপস্থাপন করা যাবতীয় তথ্য বিবেচনায় নিয়ে আসামির জামিন মঞ্জুর করেছেন।’

এদিকে আসামি মামুনুল হকের জামিন মঞ্জুর হলেও তার বিরুদ্ধে করা ধর্ষণ মামলাটিতে সাক্ষী ও জেরা চলমান রয়েছে। সবশেষ গত ১৯ মার্চ নারায়ণগঞ্জ নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালের বিচারক নাজমুল হক শ্যামলের আদালতে মামলায় তদন্তকারী কর্মকর্তা ইন্সপেক্টর এস এম শফিকুল ইসলামকে তৃতীয় দফায় জেরা করা হয়েছে। জেরা শেষে আসামি পক্ষের আইনজীবীরা আরও একদিন জেরার জন্য সময় চাইলে আদালত আগামি ২৩ এপ্রিল পরবর্তী জেরার দিন ধার্য করেন।

২০২১ সালের ৩ এপ্রিল নারায়ণগঞ্জের সোনারগাঁ উপজেলায় রয়েল রিসোর্টে জান্নাত আরা ঝর্ণা নামে এক নারীর সঙ্গে অবস্থান করছিলেন হেফাজতে ইসলামের তৎকালীন যুগ্ম-মহাসচিব মামুনুল হক। ওই সময় স্থানীয় আওয়ামী লীগের নেতা-কর্মীরা খবর পেয়ে এসে নারীর সঙ্গে তাকে ঘেরাও করে রাখেন। পরে স্থানীয় হেফাজতের নেতাকর্মী ও সমর্থকরা গিয়ে রিসোর্টে ব্যাপক ভাঙচুর ও ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কে তাণ্ডব চালিয়ে মামুনুল হককে ছিনিয়ে নিয়ে যান। ঘটনার পর থেকেই মামুনুল হক মোহাম্মদপুরের জামিয়া রাহমানিয়া আরাবিয়া মাদরাসায় অবস্থান করছিলেন। এ সময় থানা পুলিশ, গোয়েন্দা পুলিশ ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর বিভিন্ন সংস্থা মামুনুল হককে নজরদারিতে রাখে।

ঘটনার পনেরো দিন পরে ওই বছরের ১৮ এপ্রিল মোহাম্মদপুরের জামিয়া রাহমানিয়া আরাবিয়া মাদরাসা থেকে মামুনুল হককে গ্রেফতার করা হয়। পরে এ ঘটনায় ৩০ এপ্রিল সোনারগাঁ থানায় মামুনুল হকের বিরুদ্ধে বিয়ের প্রলোভনে রিসোর্টে নিয়ে একাধিকবার ধর্ষণের অভিযোগ তুলে মামলা করেন ওই নারী। তবে আসামি মামুনুল হক ওই নারীকে তার দ্বিতীয় স্ত্রী বলে দাবি করে এলেও তার আইনজীবীরা এখন পর্যন্ত বিয়ের কাবিননামা বা এ সংক্রান্ত বৈধ কোনো তথ্য প্রমাণ আদালতে উপস্থাপন করতে পারেন নি।

ধর্ষণ মামলার বাদী সাক্ষ্য প্রদানের সময়ও ওই নারী আদালতে মামুনুল হকের বিরুদ্ধে বিয়ের প্রলোভন দেখিয়ে সোনারগাঁ রয়েল রিসোর্টে নিয়ে একাধিকবার তাকে ধর্ষণ করার কথা স্বীকারও করেছেন। আদালতে তার দেয়া ওই সাক্ষ্য নথিভুক্ত করা আছে। এছাড়া বাদী পক্ষের আইনজীবী আসামি মামুনুল হককে আদালতে জেরা করার সময় মামুনুল হক ওই নারীকে মৌখিকভাবে বিয়ে করেছেন বলে দাবি করেছেন। তবে যার কোনো কাবিননামা তিনি দেখাতে পারেন নি। তখন ইসলামি শরীয়তের বিধান অনুযায়ী কাবিননামা ছাড়া মৌখিকভাবে কোনো বিয়ে বৈধ নয় বলেও বাদীপক্ষের আইনজীবী আদালতে উপস্থাপন করেছেন।