ঢাকা ১০:৩৮ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ১৩ মার্চ ২০২৬, ২৯ ফাল্গুন ১৪৩২ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম ::
উন্নত চিকিৎসার জন্য সিঙ্গাপুর নেওয়া হচ্ছে মির্জা আব্বাসকে নারায়ণগঞ্জের সিদ্ধিরগঞ্জ থানার ১ নং ওয়ার্ডের সিআইখোলা এলাকায় মাদক বিক্রি করতে নিষেধ ৪৪ বছর পর ‘দম’-এ ফিরে সেই স্মরণীয় গান গাইলেন সাবিনা ইয়াসমিন মার্কিন গোয়েন্দা তথ্য: ইরানের শাসনব্যবস্থায় ভাঙনের আশঙ্কা নেই অসুস্থ হয়ে হাসপাতালে ভর্তি মির্জা আব্বাস ব্যারিস্টার কায়সার কামাল হলেন নতুন ডেপুটি স্পিকার রানার ঝড়ো গতিতে সাজঘরে ফিরলেন পাকিস্তানের তিন টপ অর্ডার ব্যাটার আলুর বস্তাপ্রতি ২০ টাকা চাঁদা নেওয়ার অভিযোগ স্বেচ্ছাসেবক দল নেতাদের বিরুদ্ধে প্রথমবার বাংলাদেশের চলচ্চিত্রে দেখা যাবে বলিউডের নাতালিয়াকে দেশে আবারও বাড়ল স্বর্ণের দাম, ক্রেতাদের মধ্যে বাড়ছে উদ্বেগ

সিলেট নগরীর টনে টনে বর্জ্য যাচ্ছে সুরমায় আবর্জনার স্তূপে নদী এখন মৃতপ্রায়

  • প্রতিনিধির নাম
  • আপডেট সময় : ০৪:১৭:৪৫ অপরাহ্ন, বুধবার, ২৫ ফেব্রুয়ারী ২০২৬
  • ৫৯ বার পড়া হয়েছে

সিলেট নগরীর টনে টনে বর্জ্য যাচ্ছে সুরমায় আবর্জনার স্তূপে নদী এখন মৃতপ্রায়

সিলেট নগরীর বিভিন্ন প্রান্ত থেকে প্রতিদিন টন টন বর্জ্য এনে ফেলা হচ্ছে সুরমা নদীতে। বলতে গেলে, সুরমা এখন অঘোষিত ডাম্পিং সাইট। অথচ এক সময় স্বচ্ছ জলের কলকল ধ্বনিতে মুখরিত থাকত নদীটি। সেই চিরচেনা সুরমা আজ হারিয়ে যেতে বসেছে। বর্ষায় ময়লা-আবর্জনা ভেসে ওঠে, আর শুষ্ক মৌসুমে দৃশ্যমান হয় পলিথিনের স্তর। নদীর কাছে গেলেই নাকে রুমাল চাপতে বাধ্য হচ্ছেন পথচারীরা।

সরেজমিন দেখা গেছে, নাব্য কমে যাওয়ায় শুকনো মৌসুমে নদীটি স্থবির রূপ ধারণ করেছে। স্থানে স্থানে জেগেছে চর। যে নদী একসময় নৌ-বাণিজ্যের প্রধান পথ ছিল, সেটি এখন হেঁটেই পার হচ্ছেন লোকজন। অথচ এক সময় সুরমার যৌবনা রূপ দেখতে সিলেটে ছুটে আসতেন দেশ-বিদেশের মানুষ। এর তীরে বসে স্বজনদের নিয়ে চলত গল্প, আড্ডা আর গানের আসর। সেই সুরমা আজ ময়লা-আবর্জনার স্তূপে মৃতপ্রায়। নদীর পারে অন্তত ৫০টি স্থানে ময়লা-আবর্জনার স্তূপ জমেছে। নদীর মাঝ অবধি ছড়িয়ে পড়েছে দুর্গন্ধময় বর্জ্য। দূর থেকে দেখলে মনে হয় এ কোনো নদী নয়, ময়লার ভাগাড়।

NEWS21
NEWS21

সরেজমিন দেখা যায়, পচা সবজি ও গৃহস্থালির ময়লা-আবর্জনা স্তূপ হয়ে আছে নদীর পারে। এসব স্তূপে প্লাস্টিকের খালি বোতল থেকে শুরু করে পলিথিন, নারকেল ও সুপারির বাকল, ক্লিনিক্যাল বর্জ্য, পরিত্যক্ত বস্তা, চিপসের খালি প্যাকেটসহ বাসাবাড়ি ও হোটেল-রেস্তোরাঁর বর্জ্যে ভরে আছে। আর সেই ময়লার স্তূপের পাশেই দুর্গন্ধের মধ্যেই গোসল করতেও দেখা গেছে লোকজনকে।

সিলেট নগরীর ৯টি স্থানে আবর্জনার স্তূপ দেখা গেছে। এর মধ্যে আছে তোপখানাঘাট, মেন্দিবাগ এলাকার মাছিমপুর ঘাট, কালীঘাট, ঝালোপাড়া, কদমতলী, চাঁদনীঘাট, কাজীরবাজার, শেখঘাট ও কানিশাইল ঘাট। সবচেয়ে উদ্বেগজনক চিত্র দেখা যায় কালীঘাট ও কাজীরবাজার এলাকায়। এ দুটি এলাকায় শৌচাগারের ময়লা সরাসরি নদীতে এসে পড়ছে। শেখঘাট ও কদমতলী ঘাটে প্রকাশ্যে ময়লা ফেলা হচ্ছে।

পরিবেশবিদদের মতে, নদীর শহর অংশে হাজার হাজার টন পলিথিন বর্জ্য ইতোমধ্যে নদীর তলদেশে জমে গেছে। কোনো কোনো স্থানে তলদেশে ৫ থেকে ৬ ফুট পর্যন্ত পলিথিনের স্তর।
পরিবেশ নিয়ে কাজ করা সংগঠন ‘বাচাও’-এর প্রধান নির্বাহী তাইনুল ইসলাম আসলাম বলেন, ‘এ সুরমার পাশে বড় হয়েছি। সাঁতার কাটা থেকে শুরু করে সবই ছিল সুরমাকেন্দ্রিক। এখন নদীকে যেন বর্জ্য ফেলার ভাগাড় বাননো হয়েছে।’

ট্যাগস :

এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি, অডিও, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার বেআইনি।

জনপ্রিয় সংবাদ

উন্নত চিকিৎসার জন্য সিঙ্গাপুর নেওয়া হচ্ছে মির্জা আব্বাসকে

সিলেট নগরীর টনে টনে বর্জ্য যাচ্ছে সুরমায় আবর্জনার স্তূপে নদী এখন মৃতপ্রায়

আপডেট সময় : ০৪:১৭:৪৫ অপরাহ্ন, বুধবার, ২৫ ফেব্রুয়ারী ২০২৬

সিলেট নগরীর বিভিন্ন প্রান্ত থেকে প্রতিদিন টন টন বর্জ্য এনে ফেলা হচ্ছে সুরমা নদীতে। বলতে গেলে, সুরমা এখন অঘোষিত ডাম্পিং সাইট। অথচ এক সময় স্বচ্ছ জলের কলকল ধ্বনিতে মুখরিত থাকত নদীটি। সেই চিরচেনা সুরমা আজ হারিয়ে যেতে বসেছে। বর্ষায় ময়লা-আবর্জনা ভেসে ওঠে, আর শুষ্ক মৌসুমে দৃশ্যমান হয় পলিথিনের স্তর। নদীর কাছে গেলেই নাকে রুমাল চাপতে বাধ্য হচ্ছেন পথচারীরা।

সরেজমিন দেখা গেছে, নাব্য কমে যাওয়ায় শুকনো মৌসুমে নদীটি স্থবির রূপ ধারণ করেছে। স্থানে স্থানে জেগেছে চর। যে নদী একসময় নৌ-বাণিজ্যের প্রধান পথ ছিল, সেটি এখন হেঁটেই পার হচ্ছেন লোকজন। অথচ এক সময় সুরমার যৌবনা রূপ দেখতে সিলেটে ছুটে আসতেন দেশ-বিদেশের মানুষ। এর তীরে বসে স্বজনদের নিয়ে চলত গল্প, আড্ডা আর গানের আসর। সেই সুরমা আজ ময়লা-আবর্জনার স্তূপে মৃতপ্রায়। নদীর পারে অন্তত ৫০টি স্থানে ময়লা-আবর্জনার স্তূপ জমেছে। নদীর মাঝ অবধি ছড়িয়ে পড়েছে দুর্গন্ধময় বর্জ্য। দূর থেকে দেখলে মনে হয় এ কোনো নদী নয়, ময়লার ভাগাড়।

NEWS21
NEWS21

সরেজমিন দেখা যায়, পচা সবজি ও গৃহস্থালির ময়লা-আবর্জনা স্তূপ হয়ে আছে নদীর পারে। এসব স্তূপে প্লাস্টিকের খালি বোতল থেকে শুরু করে পলিথিন, নারকেল ও সুপারির বাকল, ক্লিনিক্যাল বর্জ্য, পরিত্যক্ত বস্তা, চিপসের খালি প্যাকেটসহ বাসাবাড়ি ও হোটেল-রেস্তোরাঁর বর্জ্যে ভরে আছে। আর সেই ময়লার স্তূপের পাশেই দুর্গন্ধের মধ্যেই গোসল করতেও দেখা গেছে লোকজনকে।

সিলেট নগরীর ৯টি স্থানে আবর্জনার স্তূপ দেখা গেছে। এর মধ্যে আছে তোপখানাঘাট, মেন্দিবাগ এলাকার মাছিমপুর ঘাট, কালীঘাট, ঝালোপাড়া, কদমতলী, চাঁদনীঘাট, কাজীরবাজার, শেখঘাট ও কানিশাইল ঘাট। সবচেয়ে উদ্বেগজনক চিত্র দেখা যায় কালীঘাট ও কাজীরবাজার এলাকায়। এ দুটি এলাকায় শৌচাগারের ময়লা সরাসরি নদীতে এসে পড়ছে। শেখঘাট ও কদমতলী ঘাটে প্রকাশ্যে ময়লা ফেলা হচ্ছে।

পরিবেশবিদদের মতে, নদীর শহর অংশে হাজার হাজার টন পলিথিন বর্জ্য ইতোমধ্যে নদীর তলদেশে জমে গেছে। কোনো কোনো স্থানে তলদেশে ৫ থেকে ৬ ফুট পর্যন্ত পলিথিনের স্তর।
পরিবেশ নিয়ে কাজ করা সংগঠন ‘বাচাও’-এর প্রধান নির্বাহী তাইনুল ইসলাম আসলাম বলেন, ‘এ সুরমার পাশে বড় হয়েছি। সাঁতার কাটা থেকে শুরু করে সবই ছিল সুরমাকেন্দ্রিক। এখন নদীকে যেন বর্জ্য ফেলার ভাগাড় বাননো হয়েছে।’