ঢাকা ১১:৩৩ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ১৩ মার্চ ২০২৬, ২৯ ফাল্গুন ১৪৩২ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম ::
উন্নত চিকিৎসার জন্য সিঙ্গাপুর নেওয়া হচ্ছে মির্জা আব্বাসকে নারায়ণগঞ্জের সিদ্ধিরগঞ্জ থানার ১ নং ওয়ার্ডের সিআইখোলা এলাকায় মাদক বিক্রি করতে নিষেধ ৪৪ বছর পর ‘দম’-এ ফিরে সেই স্মরণীয় গান গাইলেন সাবিনা ইয়াসমিন মার্কিন গোয়েন্দা তথ্য: ইরানের শাসনব্যবস্থায় ভাঙনের আশঙ্কা নেই অসুস্থ হয়ে হাসপাতালে ভর্তি মির্জা আব্বাস ব্যারিস্টার কায়সার কামাল হলেন নতুন ডেপুটি স্পিকার রানার ঝড়ো গতিতে সাজঘরে ফিরলেন পাকিস্তানের তিন টপ অর্ডার ব্যাটার আলুর বস্তাপ্রতি ২০ টাকা চাঁদা নেওয়ার অভিযোগ স্বেচ্ছাসেবক দল নেতাদের বিরুদ্ধে প্রথমবার বাংলাদেশের চলচ্চিত্রে দেখা যাবে বলিউডের নাতালিয়াকে দেশে আবারও বাড়ল স্বর্ণের দাম, ক্রেতাদের মধ্যে বাড়ছে উদ্বেগ

স্বপ্নপূরণে অভিভূত অবন্তি সিঁথি, বললেন—কল্পনাতেও ছিল না

  • প্রতিনিধির নাম
  • আপডেট সময় : ০২:৫২:১৮ অপরাহ্ন, বুধবার, ১১ ফেব্রুয়ারী ২০২৬
  • ১০৫ বার পড়া হয়েছে

অবন্তি সিঁথি

অবন্তী সিঁথি। জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কারে ২০২৩ সালের শ্রেষ্ঠ গায়িকা হিসেবে পুরস্কার পাচ্ছেন তিনি। ‘সুড়ঙ্গ’ সিনেমার জনপ্রিয় গান ‘গা ছুঁয়ে বলো’-এর জন্য এই অর্জন। ক্যারিয়ারের এই গুরুত্বপূর্ণ স্বীকৃতি, গান নিয়ে আগামীর ভাবনা ও অন্যান্য প্রসঙ্গে তাঁর সঙ্গে কথা বলেছেন এমদাদুল হক মিলটন

শুরুতেই জানতে চাই, জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কারে সেরা গায়িকা নির্বাচিত হওয়ার খবরটি প্রথম যখন জানলেন, তখন আপনার প্রতিক্রিয়া কেমন ছিল?
সত্যি বলতে তখন আমি পুরোপুরি হতভম্ব হয়ে গিয়েছিলাম। সাধারণ একটা দিনের মতোই সময় কাটছিল। হঠাৎ হোয়াটসঅ্যাপে অভিনন্দনের একটি বার্তা আসে। সেটি খুলে কয়েক মুহূর্ত শুধু তাকিয়ে ছিলাম। মনে হচ্ছিল, হয়তো ঘুমের মধ্যেই আছি! আবার ভালো করে দেখে বুঝলাম না, সত্যিই পুরস্কারের তালিকায় সত্যিই আমার নাম। চমকে গেলাম। আহা এ রকম তো স্বপ্ন দেখতাম। ভাবতেই পারিনি স্বপ্নটা সত্যি হয়ে যাবে। এটা ছিল আমার জন্য এক অবিশ্বাস্য অনুভূতি।

NEWS21
NEWS21
‘সুড়ঙ্গ’ সিনেমার ‘গা ছুঁয়ে বলো’ গানটির জন্য এই পুরস্কার– এই গানটি আপনার কাছে কতটা বিশেষ?
গানটি আমার হৃদয়ের খুব কাছের। তানজীব সরোয়ারের কথা ও সুরে গানটি অন্যরকম আবেগ তৈরি করেছে। কৃতজ্ঞতা জানাই তাঁর প্রতি। একই সঙ্গে দ্বৈত কণ্ঠে গানটি করার অভিজ্ঞতাও দারুণ ছিল। পুরো ‘সুড়ঙ্গ’ টিম আমাকে যে আস্থার জায়গা থেকে এই গানের সঙ্গে যুক্ত করেছে, সেটাই আমাকে আরও দায়িত্বশীল করে তুলেছিল।

এই বিশেষ মুহূর্তে কাদের সবচেয়ে বেশি মনে পড়ছে?
বাবা-মার কথা খুব মনে পড়ছে। তারা বেঁচে থাকলে আজ ভীষণ খুশি হতেন। আর অবশ্যই আমার শ্রোতা, শুভানুধ্যায়ী আর অনুরাগীরা যাদের ভালোবাসা ও অনুপ্রেরণায় আমি আজকের অবন্তী সিঁথি।

আপনার সংগীতযাত্রার শুরুটা কীভাবে হয়েছিল?
আমি জামালপুরে জন্মেছি ও বেড়ে উঠেছি। ছোটবেলা থেকেই গানের সঙ্গে এক ধরনের আত্মিক সম্পর্ক ছিল। স্কুল কলেজের সময় গান গেয়ে পরিচিতি পাই। গিটার ও হারমোনিয়াম বাজানো শিখেছি খুব অল্প বয়সেই। তখন থেকেই বুঝেছিলাম, গানই আমার পথ।

এই বয়সেই আপনি জাতীয় পর্যায়ে পুরস্কার পেয়েছেন–এই অভিজ্ঞতা কি আপনাকে আরও এগিয়ে যেতে অনুপ্রাণিত করেছে?
অবশ্যই। ২০০৩ ও ২০০৪ সালে লোকগান ও নজরুলসংগীতে জাতীয় পুরস্কার, পরে ‘ওস্তাদ আলাউদ্দিন খান স্বর্ণপদক’– এই স্বীকৃতিগুলো আমাকে সাহস দিয়েছে। মনে হয়েছে, আমি ঠিক পথেই আছি। আমি আমার লক্ষ্যের দিকেই এগিয়ে চলছি।

রিয়েলিটি শো ‘ক্লোজআপ ওয়ান’ ও পরে ‘সারেগামাপা’-এই দুটি অভিজ্ঞতা আপনার ক্যারিয়ারে কীভাবে প্রভাব ফেলেছে?
‘ক্লোজআপ ওয়ান’-এ প্রথমবার আমি বড় পরিসরে নিজেকে যাচাই করার সুযোগ পাই। পরে ‘সারেগামাপা’ আমাকে আন্তর্জাতিক অভিজ্ঞতা দিয়েছে। সেখানে গিয়ে বুঝেছি, একটি গান কত গভীর প্রস্তুতি ও ভাবনা নিয়ে গাইতে হয়। এই শো আমাকে ভীষণভাবে গড়ে তুলেছে।

‘সারেগামাপা’-তে বিচারকদের কাছ থেকে পাওয়া প্রশংসা নিশ্চয়ই আজও মনে দাগ কেটে আছে?
সেই মুহূর্তগুলো আমি কখনও ভুলব না। মঞ্চে দাঁড়িয়ে নিজের হৃদস্পন্দন শুনতে পাচ্ছিলাম। বিচারকদের দাঁড়িয়ে সম্মান জানানো– এটা ছিল আমার জীবনের অন্যতম সেরা মুহূর্ত।

এই পুরস্কার আপনার জীবনে কী পরিবর্তন এনেছে?
সম্মানটা দায়িত্ব বাড়িয়েছে। মানুষ এখন আরও প্রত্যাশা নিয়ে তাকায়। আমি চাই, সেই প্রত্যাশার মর্যাদা রাখতে

মন দিয়ে, সততা দিয়ে গান করে যেতে। সামনে সংগীত নিয়ে আপনার পরিকল্পনা কী?
আমি গান নিয়ে আরও নিরীক্ষা করতে চাই। প্লেব্যাকের পাশাপাশি আলাদা ধরনের মিউজিক, ইনস্ট্রুমেন্টাল কাজ, হুইসেলিং– এসব নিয়েও ভাবনা আছে। এখন শুধু গানেই মন দিতে চাই।

নতুন গানের কী খবর?
নির্ঝর চৌধুরীর সঙ্গে সম্প্রতি ‘মেঘের ডমরু’ নামে একটি দ্বৈত গান প্রকাশ হয়েছে। এর আগে এসেছে ‘আমার হয়ে যাও’ গানটি। নাটকের গানটিতে আমার সহশিল্পী ছিলেন সালমান জীম। দুটি গানই শ্রোতারা বেশ গ্রহণ করেছেন। নতুন কিছু গান তৈরি আছে। পর্যায়ক্রমে তা প্রকাশ হবে। এ ছাড়া আরও গান নিয়েও পরিকল্পনা চলছে। সে গানগুলোতে শ্রোতারা ভিন্নতার স্বাদ পাবেন বলে আশা করছি।

ট্যাগস :

এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি, অডিও, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার বেআইনি।

জনপ্রিয় সংবাদ

উন্নত চিকিৎসার জন্য সিঙ্গাপুর নেওয়া হচ্ছে মির্জা আব্বাসকে

স্বপ্নপূরণে অভিভূত অবন্তি সিঁথি, বললেন—কল্পনাতেও ছিল না

আপডেট সময় : ০২:৫২:১৮ অপরাহ্ন, বুধবার, ১১ ফেব্রুয়ারী ২০২৬

অবন্তী সিঁথি। জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কারে ২০২৩ সালের শ্রেষ্ঠ গায়িকা হিসেবে পুরস্কার পাচ্ছেন তিনি। ‘সুড়ঙ্গ’ সিনেমার জনপ্রিয় গান ‘গা ছুঁয়ে বলো’-এর জন্য এই অর্জন। ক্যারিয়ারের এই গুরুত্বপূর্ণ স্বীকৃতি, গান নিয়ে আগামীর ভাবনা ও অন্যান্য প্রসঙ্গে তাঁর সঙ্গে কথা বলেছেন এমদাদুল হক মিলটন

শুরুতেই জানতে চাই, জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কারে সেরা গায়িকা নির্বাচিত হওয়ার খবরটি প্রথম যখন জানলেন, তখন আপনার প্রতিক্রিয়া কেমন ছিল?
সত্যি বলতে তখন আমি পুরোপুরি হতভম্ব হয়ে গিয়েছিলাম। সাধারণ একটা দিনের মতোই সময় কাটছিল। হঠাৎ হোয়াটসঅ্যাপে অভিনন্দনের একটি বার্তা আসে। সেটি খুলে কয়েক মুহূর্ত শুধু তাকিয়ে ছিলাম। মনে হচ্ছিল, হয়তো ঘুমের মধ্যেই আছি! আবার ভালো করে দেখে বুঝলাম না, সত্যিই পুরস্কারের তালিকায় সত্যিই আমার নাম। চমকে গেলাম। আহা এ রকম তো স্বপ্ন দেখতাম। ভাবতেই পারিনি স্বপ্নটা সত্যি হয়ে যাবে। এটা ছিল আমার জন্য এক অবিশ্বাস্য অনুভূতি।

NEWS21
NEWS21
‘সুড়ঙ্গ’ সিনেমার ‘গা ছুঁয়ে বলো’ গানটির জন্য এই পুরস্কার– এই গানটি আপনার কাছে কতটা বিশেষ?
গানটি আমার হৃদয়ের খুব কাছের। তানজীব সরোয়ারের কথা ও সুরে গানটি অন্যরকম আবেগ তৈরি করেছে। কৃতজ্ঞতা জানাই তাঁর প্রতি। একই সঙ্গে দ্বৈত কণ্ঠে গানটি করার অভিজ্ঞতাও দারুণ ছিল। পুরো ‘সুড়ঙ্গ’ টিম আমাকে যে আস্থার জায়গা থেকে এই গানের সঙ্গে যুক্ত করেছে, সেটাই আমাকে আরও দায়িত্বশীল করে তুলেছিল।

এই বিশেষ মুহূর্তে কাদের সবচেয়ে বেশি মনে পড়ছে?
বাবা-মার কথা খুব মনে পড়ছে। তারা বেঁচে থাকলে আজ ভীষণ খুশি হতেন। আর অবশ্যই আমার শ্রোতা, শুভানুধ্যায়ী আর অনুরাগীরা যাদের ভালোবাসা ও অনুপ্রেরণায় আমি আজকের অবন্তী সিঁথি।

আপনার সংগীতযাত্রার শুরুটা কীভাবে হয়েছিল?
আমি জামালপুরে জন্মেছি ও বেড়ে উঠেছি। ছোটবেলা থেকেই গানের সঙ্গে এক ধরনের আত্মিক সম্পর্ক ছিল। স্কুল কলেজের সময় গান গেয়ে পরিচিতি পাই। গিটার ও হারমোনিয়াম বাজানো শিখেছি খুব অল্প বয়সেই। তখন থেকেই বুঝেছিলাম, গানই আমার পথ।

এই বয়সেই আপনি জাতীয় পর্যায়ে পুরস্কার পেয়েছেন–এই অভিজ্ঞতা কি আপনাকে আরও এগিয়ে যেতে অনুপ্রাণিত করেছে?
অবশ্যই। ২০০৩ ও ২০০৪ সালে লোকগান ও নজরুলসংগীতে জাতীয় পুরস্কার, পরে ‘ওস্তাদ আলাউদ্দিন খান স্বর্ণপদক’– এই স্বীকৃতিগুলো আমাকে সাহস দিয়েছে। মনে হয়েছে, আমি ঠিক পথেই আছি। আমি আমার লক্ষ্যের দিকেই এগিয়ে চলছি।

রিয়েলিটি শো ‘ক্লোজআপ ওয়ান’ ও পরে ‘সারেগামাপা’-এই দুটি অভিজ্ঞতা আপনার ক্যারিয়ারে কীভাবে প্রভাব ফেলেছে?
‘ক্লোজআপ ওয়ান’-এ প্রথমবার আমি বড় পরিসরে নিজেকে যাচাই করার সুযোগ পাই। পরে ‘সারেগামাপা’ আমাকে আন্তর্জাতিক অভিজ্ঞতা দিয়েছে। সেখানে গিয়ে বুঝেছি, একটি গান কত গভীর প্রস্তুতি ও ভাবনা নিয়ে গাইতে হয়। এই শো আমাকে ভীষণভাবে গড়ে তুলেছে।

‘সারেগামাপা’-তে বিচারকদের কাছ থেকে পাওয়া প্রশংসা নিশ্চয়ই আজও মনে দাগ কেটে আছে?
সেই মুহূর্তগুলো আমি কখনও ভুলব না। মঞ্চে দাঁড়িয়ে নিজের হৃদস্পন্দন শুনতে পাচ্ছিলাম। বিচারকদের দাঁড়িয়ে সম্মান জানানো– এটা ছিল আমার জীবনের অন্যতম সেরা মুহূর্ত।

এই পুরস্কার আপনার জীবনে কী পরিবর্তন এনেছে?
সম্মানটা দায়িত্ব বাড়িয়েছে। মানুষ এখন আরও প্রত্যাশা নিয়ে তাকায়। আমি চাই, সেই প্রত্যাশার মর্যাদা রাখতে

মন দিয়ে, সততা দিয়ে গান করে যেতে। সামনে সংগীত নিয়ে আপনার পরিকল্পনা কী?
আমি গান নিয়ে আরও নিরীক্ষা করতে চাই। প্লেব্যাকের পাশাপাশি আলাদা ধরনের মিউজিক, ইনস্ট্রুমেন্টাল কাজ, হুইসেলিং– এসব নিয়েও ভাবনা আছে। এখন শুধু গানেই মন দিতে চাই।

নতুন গানের কী খবর?
নির্ঝর চৌধুরীর সঙ্গে সম্প্রতি ‘মেঘের ডমরু’ নামে একটি দ্বৈত গান প্রকাশ হয়েছে। এর আগে এসেছে ‘আমার হয়ে যাও’ গানটি। নাটকের গানটিতে আমার সহশিল্পী ছিলেন সালমান জীম। দুটি গানই শ্রোতারা বেশ গ্রহণ করেছেন। নতুন কিছু গান তৈরি আছে। পর্যায়ক্রমে তা প্রকাশ হবে। এ ছাড়া আরও গান নিয়েও পরিকল্পনা চলছে। সে গানগুলোতে শ্রোতারা ভিন্নতার স্বাদ পাবেন বলে আশা করছি।