ঢাকা ০৭:৩০ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ০৪ ফেব্রুয়ারী ২০২৬, ২২ মাঘ ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

গাইবান্ধায় ৩ দিন ধরে মিলছেনা সূর্যের দেখা

  • প্রতিনিধির নাম
  • আপডেট সময় : ০৪:০৫:২২ অপরাহ্ন, শনিবার, ২৭ ডিসেম্বর ২০২৫
  • ১৩৫ বার পড়া হয়েছে

গাইবান্ধায় ৩ দিন ধরে মিলছেনা সূর্যের দেখা

ঘন কুয়াশা আর উত্তরের হিমেল বাতাসে কাঁপছে গাইবান্ধা। পৌষের শুরুতেই প্রচণ্ড শীতে জনজীবন বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে। তিন দিন ধরে জেলায় সূর্যের দেখা নেই।

শীতের তীব্রতায় শীতজনিত রোগে আক্রান্ত রোগীর সংখ্যা বেড়েছে হাসপাতালে। কৃষকরা ফসলের মাঠে খেত প্রস্তুত করতে নাকাল হয়ে পড়েছেন। নিম্ন আয়ের মানুষজন শীত নিবারণে পুরোনো শীতবস্ত্র কিনছেন, অনেককে আবার খড়কুটো ও কাঠ জ্বালিয়ে শীত থেকে বাঁচার চেষ্টা করতে দেখা গেছে।

আজ শনিবার সকাল থেকে গাইবান্ধা শহরসহ জেলার প্রত্যন্ত এলাকাগুলো ঘন কুয়াশার চাদরে ঢাকা ছিল। তিন দিনেও সূর্যের আলো না পাওয়ায় নিম্ন আয়ের কর্মজীবী মানুষের স্বাভাবিক জীবনযাত্রা স্থবির হয়ে পড়েছে।

শহরের পৌরসভা রোড-সংলগ্ন হকার্স মার্কেটে দেখা যায়, তীব্র শীত ও কুয়াশার মধ্যেও জীবিকার তাগিদে একাধিক গরম কাপড় গায়ে জড়িয়ে কাজে নেমেছেন শ্রমজীবী মানুষ। স্বাভাবিক দিনের তুলনায় জনসমাগম কম থাকায় রিকশাচালকসহ অনেক কর্মজীবী মানুষকে শীতের কাপড় জড়িয়ে বসে থাকতে দেখা গেছে। খুব জরুরি প্রয়োজন ছাড়া কেউ ঘর থেকে বের হচ্ছেন না। সূর্যের দেখা না থাকায় কুয়াশায় যানবাহন চলাচল করছে ধীরগতিতে, ফলে দুর্ভোগ আরও বেড়েছে।

NEW21
NEW21

গোবিন্দগঞ্জ পৌরসভার খলসি গ্রামের কৃষক শাহীন মিয়া বলেন, প্রচণ্ড শীত আর উত্তরের বাতাসে মাঠে কাজ করা খুব কষ্টকর। তবুও সংসারের তাগিদে কাজে বের হতে হচ্ছে। কাজ না করলে পরিবার চলবে না।

কয়েকজন রিকশাচালক জানালেন, কুয়াশার কারণে শহরে লোকজন কম, যাত্রীও মিলছে না। শীতের জন্য রিকশায় কেউ উঠতে চায় না। তবুও জীবিকার তাগিদে প্রতিদিন ঘর ছেড়ে বের হতে হচ্ছে। এদিকে ফুটপাতের দোকানগুলোতে গরম কাপড়ের বেচাকেনা বেড়েছে।

আবহাওয়া অফিস সূত্র জানায়, মৃদু শৈত্যপ্রবাহের কারণে জেলায় রবি ফসল, বোরো ধানের বীজতলা এবং মৌ খামারিদের মধু সংগ্রহে বিরূপ প্রভাব পড়তে পারে। জেলার সাতটি উপজেলার মাঠে সরিষা, ভুট্টা, পেঁয়াজ, রসুনসহ বিভিন্ন মৌসুমি ফসল এবং বোরো ধানের বীজতলা রয়েছে।

রংপুর আবহাওয়াবিদ মো. মোস্তাফিজার রহমান জানান, আজ শনিবার সকালে জেলায় সর্বনিম্ন তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়েছে ১৩ দশমিক ৫ ডিগ্রি সেলসিয়াস। বাতাসের আর্দ্রতা ছিল ৯৫ শতাংশ। তিনি জানান, আগামী দিনে তাপমাত্রা আরও কমতে পারে।

জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক মো. আতিকুল ইসলাম বলেন, শীত ও ঘন কুয়াশার কারণে ফসলের ক্ষতির আশঙ্কা রয়েছে। কৃষিকাজ ব্যাহত হচ্ছে। এ পরিস্থিতিতে কৃষকদের ফসল সুরক্ষায় আগাম সতর্কতা ও করণীয় সম্পর্কে পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে। মাঠ পর্যায়ে কৃষি কর্মকর্তারা নিয়মিত ফসলের অবস্থা পর্যবেক্ষণ করছেন, যাতে কোনো ক্ষতি হলে দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়া যায়।

 

নিউজ২১ স্টাফ আকিব

ট্যাগস :

এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি, অডিও, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার বেআইনি।

জনপ্রিয় সংবাদ

গাইবান্ধায় ৩ দিন ধরে মিলছেনা সূর্যের দেখা

আপডেট সময় : ০৪:০৫:২২ অপরাহ্ন, শনিবার, ২৭ ডিসেম্বর ২০২৫

ঘন কুয়াশা আর উত্তরের হিমেল বাতাসে কাঁপছে গাইবান্ধা। পৌষের শুরুতেই প্রচণ্ড শীতে জনজীবন বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে। তিন দিন ধরে জেলায় সূর্যের দেখা নেই।

শীতের তীব্রতায় শীতজনিত রোগে আক্রান্ত রোগীর সংখ্যা বেড়েছে হাসপাতালে। কৃষকরা ফসলের মাঠে খেত প্রস্তুত করতে নাকাল হয়ে পড়েছেন। নিম্ন আয়ের মানুষজন শীত নিবারণে পুরোনো শীতবস্ত্র কিনছেন, অনেককে আবার খড়কুটো ও কাঠ জ্বালিয়ে শীত থেকে বাঁচার চেষ্টা করতে দেখা গেছে।

আজ শনিবার সকাল থেকে গাইবান্ধা শহরসহ জেলার প্রত্যন্ত এলাকাগুলো ঘন কুয়াশার চাদরে ঢাকা ছিল। তিন দিনেও সূর্যের আলো না পাওয়ায় নিম্ন আয়ের কর্মজীবী মানুষের স্বাভাবিক জীবনযাত্রা স্থবির হয়ে পড়েছে।

শহরের পৌরসভা রোড-সংলগ্ন হকার্স মার্কেটে দেখা যায়, তীব্র শীত ও কুয়াশার মধ্যেও জীবিকার তাগিদে একাধিক গরম কাপড় গায়ে জড়িয়ে কাজে নেমেছেন শ্রমজীবী মানুষ। স্বাভাবিক দিনের তুলনায় জনসমাগম কম থাকায় রিকশাচালকসহ অনেক কর্মজীবী মানুষকে শীতের কাপড় জড়িয়ে বসে থাকতে দেখা গেছে। খুব জরুরি প্রয়োজন ছাড়া কেউ ঘর থেকে বের হচ্ছেন না। সূর্যের দেখা না থাকায় কুয়াশায় যানবাহন চলাচল করছে ধীরগতিতে, ফলে দুর্ভোগ আরও বেড়েছে।

NEW21
NEW21

গোবিন্দগঞ্জ পৌরসভার খলসি গ্রামের কৃষক শাহীন মিয়া বলেন, প্রচণ্ড শীত আর উত্তরের বাতাসে মাঠে কাজ করা খুব কষ্টকর। তবুও সংসারের তাগিদে কাজে বের হতে হচ্ছে। কাজ না করলে পরিবার চলবে না।

কয়েকজন রিকশাচালক জানালেন, কুয়াশার কারণে শহরে লোকজন কম, যাত্রীও মিলছে না। শীতের জন্য রিকশায় কেউ উঠতে চায় না। তবুও জীবিকার তাগিদে প্রতিদিন ঘর ছেড়ে বের হতে হচ্ছে। এদিকে ফুটপাতের দোকানগুলোতে গরম কাপড়ের বেচাকেনা বেড়েছে।

আবহাওয়া অফিস সূত্র জানায়, মৃদু শৈত্যপ্রবাহের কারণে জেলায় রবি ফসল, বোরো ধানের বীজতলা এবং মৌ খামারিদের মধু সংগ্রহে বিরূপ প্রভাব পড়তে পারে। জেলার সাতটি উপজেলার মাঠে সরিষা, ভুট্টা, পেঁয়াজ, রসুনসহ বিভিন্ন মৌসুমি ফসল এবং বোরো ধানের বীজতলা রয়েছে।

রংপুর আবহাওয়াবিদ মো. মোস্তাফিজার রহমান জানান, আজ শনিবার সকালে জেলায় সর্বনিম্ন তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়েছে ১৩ দশমিক ৫ ডিগ্রি সেলসিয়াস। বাতাসের আর্দ্রতা ছিল ৯৫ শতাংশ। তিনি জানান, আগামী দিনে তাপমাত্রা আরও কমতে পারে।

জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক মো. আতিকুল ইসলাম বলেন, শীত ও ঘন কুয়াশার কারণে ফসলের ক্ষতির আশঙ্কা রয়েছে। কৃষিকাজ ব্যাহত হচ্ছে। এ পরিস্থিতিতে কৃষকদের ফসল সুরক্ষায় আগাম সতর্কতা ও করণীয় সম্পর্কে পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে। মাঠ পর্যায়ে কৃষি কর্মকর্তারা নিয়মিত ফসলের অবস্থা পর্যবেক্ষণ করছেন, যাতে কোনো ক্ষতি হলে দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়া যায়।

 

নিউজ২১ স্টাফ আকিব