ঢাকা ০২:০৫ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ১৮ জানুয়ারী ২০২৬, ৪ মাঘ ১৪৩২ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম ::
২৮ ঘণ্টারও বেশি সময় ফুটবল শূন্যে ভাসিয়ে গড়লো বিশ্ব রেকর্ড নারায়ণগঞ্জে দুর্ধর্ষ ডাকাতি, লুট ৭ লাখ টাকা ও স্বর্ণালঙ্কার চার খনি থেকে উত্তোলন হলো ২ লাখ ২১ হাজার কেজি স্বর্ণ সায়েন্সল্যাবে ‘অধ্যাদেশ মঞ্চ’: নতুন কর্মসূচির ঘোষণা আন্দোলনকারীদের বিয়ের কথা স্বীকার করেই সিনেমায় পা, পরে হয়ে ওঠেন মহানায়িকা ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে নাজমুলের পদত্যাগ নিশ্চিত হলেই মাঠে ফিরবেন ক্রিকেটাররা সিঙ্গাপুরে জুবিন গার্গ মৃত্যু ঘটনায় নতুন তথ্য সামনে এসেছে শীতের দাপট বাড়তে পারে আজ থেকেই সব বই পেতে শিক্ষার্থীদের আরও ১৫ দিনের ধৈর্য, ব্যর্থ এনসিটিবি পাখিপ্রেমীর উদ্যোগে পাবনার প্রকৃতিতে মুক্তি পেল আটটি পাতিসরালি

সংসদের ২৫৫ পদে একটিও না পাওয়া ছাত্রদল, জয়ী হয়েছে ছাত্রশিবির ২৩৪ পদে

  • NEWS21 Staff Musabbir
  • আপডেট সময় : ০৫:৫৬:৩৪ অপরাহ্ন, শনিবার, ১৮ অক্টোবর ২০২৫
  • ২৭৩ বার পড়া হয়েছে

সংসদের ২৫৫ পদে একটিও না পাওয়া ছাত্রদল, জয়ী হয়েছে ছাত্রশিবির ২৩৪ পদে

রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদের (রাকসু) পাশাপাশি হল সংসদ নির্বাচনেও নিরঙ্কুশ জয় পেয়েছে ইসলামী ছাত্রশিবির-সমর্থিত প্যানেল। প্রতিটি হল সংসদের ভিপি, জিএস, এজিএস পদে ছাত্রশিবির-সমর্থিত প্যানেলের প্রার্থীরা জয়ী হয়েছেন। পাঁচটি হলে পূর্ণাঙ্গ প্যানেলসহ সব হল মিলিয়ে ২৫৫টি পদের মধ্যে ২৩৪টিতে জয়ী হয়েছেন ছাত্রশিবিরের প্রার্থীরা।

অন্যদিকে কেন্দ্রীয় সংসদের চেয়ে হল সংসদে বড় ভরাডুবির মুখোমুখি হয়েছে ছাত্রদল-সমর্থিত প্যানেলের প্রার্থীরা। ১৭ হলের একটি পদেও ছাত্রদল-সমর্থিত কোনো প্রার্থী জিততে পারেননি। তবে কয়েকটি পদে ছাত্রশিবিরের প্রার্থীদের সঙ্গে ভোটে তাঁদের প্রতিদ্বন্দ্বিতা হয়েছে।

রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে ছাত্রদের ১১টি ও ছাত্রীদের ছয়টিসহ মোট ১৭টি হল আছে। প্রতিটি হল সংসদে পদ ১৫টি। হল সংসদ নির্বাচনে কোনো হলে পূর্ণাঙ্গ, আবার কোনো হলে আংশিক প্যানেল দিয়েছিল ছাত্রশিবির। এর মধ্যে ১৭টি সংসদের শীর্ষ ৫১ পদেই (ভিপি-জিএস-এজিএস) এই প্যানেলের প্রার্থীরা জয়ী হয়েছেন।

পাঁচ হলে শিবিরের সবাই জয়ী

পাঁচটি হল সংসদ নির্বাচনে ছাত্রশিবির-সমর্থিত প্যানেলের সবাই (৭৫ পদে) জয়ী হয়েছেন। হলগুলো হলো শহীদ হবিবুর রহমান হল, নবাব আব্দুল লতিফ হল, মাদার বখ্শ হল, সৈয়দ আমীর আলী হল ও মন্নুজান হল।

শহীদ হবিবুর রহমান হলে ভিপি, জিএস ও এজিএস পদে যথাক্রমে আহমদ আহসান উল্লাহ (ফারহান), আশিক শিকদার ও মো. শহীদুল ইসলাম (সুমন) জয়ী হয়েছেন। মাদার বখ্শ হলে ভিপি পদে মো. রুবেল আলী, জিএস পদে মো. ইব্রাহিম হোসাইন ও এজিএস পদে মো. আবু রায়হান; মন্নুজান হলে ভিপি পদে সুমাইয়া জাহান, জিএস পদে তাসমেরী জাহান (তন্নি) ও এজিএস পদে সাবিনা ইয়াসমিন; সৈয়দ আমীর আলী হলে ভিপি পদে মো. নাঈম ইসলাম, জিএস পদে মো. সাব্বির হোসাইন ও এজিএস পদে মুন্না ইসলাম এবং নবাব আব্দুল লতিফ হলে ভিপি পদে নেয়ামত উল্লাহ, জিএস পদে মো. নুরুল ইসলাম (শহীদ) ও এজিএস পদে রনি হাসান জয়লাভ করেছেন।

অন্য হলগুলোতেও বড় জয়

বিজয়-২৪ হলে সহকারী বিতর্ক ও সাহিত্য সম্পাদক পদ ছাড়া বাকি সব পদেই ছাত্রশিবির সমর্থিত প্যানেলের প্রার্থীরা জয় পেয়েছেন। এই হলে ভিপি পদে মো. রাছেল মিয়া, জিএস পদে ইমরুল হাসান (মিশকাত) ও এজিএস পদে মো. শাহাদাত হোসেন (সাকিব) জয়ী হয়েছেন। শহীদ জিয়াউর রহমান হল সংসদের ১৫টি পদের মধ্যে শিবির-সমর্থিত প্যানেল বিতর্ক ও সাহিত্য সম্পাদক, সহবিতর্ক ও সাহিত্য সম্পাদক, ক্রীড়া ও খেলাধুলা সম্পাদক ও নির্বাহী সদস্য ৪ পদ ছাড়া বাকি ১১টি পদে জয় পেয়েছে। ভিপি হয়েছেন মোজাম্মেল হক, জিএস আরিফুল ইসলাম ও এজিএস মো. ইসরাফিল হোসেন।

হোসেন শহীদ সোহরাওয়ার্দী হল সংসদের ১৫ পদের মধ্যে বিতর্ক ও সাহিত্য সম্পাদক ছাড়া বাকি সব পদে শিবির জয় পেয়েছে। এই হল সংসদে ভিপি হয়েছেন কাওসার হাবিব, জিএস মো. সাচ্ছু হোসেন ও এজিএস মো. ইমরুল হাসান। শহীদ শামসুজ্জোহা হল সংসদের ১৫ পদের মধ্যে নির্বাহী সদস্যের একটি পদ ছাড়া বাকি সব পদে তাঁরা জয়ী হয়েছেন। ভিপি হয়েছেন আশিকুর রহমান (সোহাগ), জিএস সোয়াইব হোসেন ও এজিএস মোস্তাফিজুর রহমান।

শাহ মখদুম হল সংসদে বিতর্ক ও সাহিত্য সম্পাদক ছাড়া বাকি ১৪টি পদে শিবির-সমর্থিত প্যানেল জয়লাভ করেছে। ভিপি, জিএস ও এজিএস হয়েছেন যথাক্রমে মো. শামিম আলাম (পাটোয়ারি), বায়জীদ ও মো. জাকারিয়া। তাপসী রাবেয়া হলে ছাত্রশিবিরের প্যানেলের ১৪ জনের মধ্যে ক্রীড়া ও খেলাধুলা সম্পাদক প্রার্থী ছাড়া সবাই জয় পেয়েছেন। ভিপি পদে মরিয়ম খাতুন, জিএস পদে তাওহীদা আখতার ও এজিএস পদে খাদিজা আক্তার জয় পেয়েছেন।

জুলাই-৩৬ হলে সাংস্কৃতিক সম্পাদক, বিতর্ক ও সাহিত্য সম্পাদক ছাড়া ১৩ জনের প্যানেলের ১১ জনই জয়ী হয়েছেন। ভিপি হয়েছেন সৈয়দা সমাপিকা আহমদ (সিমি), জিএস তাসফিয়া তাবাসসুম ও এজিএস তাওহিদা ইয়াসমিন (মাহমুদা)। বেগম রোকেয়া হলে ১৪ জনের প্যানেলের মধ্যে সাংস্কৃতিক সম্পাদক এবং বিতর্ক ও সাহিত্য সম্পাদক ছাড়া বাকি পদগুলোতে শিবির-সমর্থিত প্যানেলের প্রার্থীরা জয় পেয়েছেন। ভিপি, জিএস ও এজিএস হয়েছেন যথাক্রমে অর্পণা হক (মুগ্ধ), মোসা. লায়লা খাতুন ও মোছা. শাহনাজ পারভীন।

রহমতুন্নেসা হল সংসদে ছাত্রশিবির-সমর্থিত ১৪ জনের প্যানেলের ১৪ জনই বিজয়ী হয়েছেন। এর মধ্যে কোনো প্রার্থী না থাকায় ৯ জন বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় জয় পেয়েছেন। সাইফুন নাসিরা ভিপি, হাবিবা আক্তার (রিয়া) জিএস ও আফসানা মিমি এজিএস পদে নির্বাচিত হয়েছেন। বেগম খালেদা জিয়া হলেও ১৪ জনের প্যানেলের সবাই জয়ী হয়েছেন। এর মধ্যে এই প্যানেলের ১০ জন বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় জয় পেয়েছেন। ভিপি পদে সাবরিনা মারজান, জিএস জারিন তাসনিম রিফাহ ও এজিএস মোছা. পারভীন আরা নির্বাচিত হয়েছেন।

সব হলে ছাত্রদলের ভরাডুবি

রাকসু নির্বাচনের পাশাপাশি হল সংসদ নির্বাচনে ছাত্রদের ১১টি হলে আংশিক ও পূর্ণাঙ্গ প্যানেল দিয়েছিল ছাত্রদল। তবে প্রতিটি হল সংসদের ১৫টি পদের মধ্যে কোনো পদেই তাদের প্যানেলের প্রার্থীরা জয়ী হতে পারেননি। তবে কিছু কিছু হলে কয়েকটি পদে ছাত্রশিবির-সমর্থিত প্যানেলের প্রার্থীদের সঙ্গে ভালো প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেছেন ছাত্রদল-সমর্থিত প্যানেলের প্রার্থীরা।

এ বিষয়ে কথা বলতে বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রদলের সভাপতি সুলতান আহমেদ (রাহী) ও সাধারণ সম্পাদক সর্দার জহুরুল হকের মুঠোফোন নম্বরে একাধিকবার কল করা হলেও তাঁরা ধরেননি। পরে সাংগঠনিক সম্পাদক মাহমুদুল (মিঠু) প্রথম আলোকে বলেন, হল সংসদে তাঁদের প্যানেলের কেউ জিততে পারেননি। তবে কয়েকটি হলে শীর্ষ পদসহ কয়েকটি পদে ভালো লড়াই করেছেন প্রার্থীরা।

শাখা ছাত্রশিবিরের সেক্রেটারি মুজাহিদ ফয়সাল প্রথম আলোকে বলেন, এক বছর ধরে শিক্ষার্থীদের সঙ্গে তাঁরা যুক্ত থাকার চেষ্টা করেছেন। এ ক্ষেত্রে একধরনের সম্মিলিত প্রচেষ্টা ছিল। এতে সবাই কাজ করেছেন। এ ছাড়া নির্বাচনী প্রচারণায় প্রতিপক্ষ নিজেদের কাজে ‘ফোকাস’ না করে শিবিরের সমালোচনায় ব্যস্ত ছিল। এতে শিবিরেরই লাভ হয়েছে। সব মিলিয়ে ভোটে ইতিবাচক প্রভাব পড়েছে।

ট্যাগস :

এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি, অডিও, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার বেআইনি।

জনপ্রিয় সংবাদ

২৮ ঘণ্টারও বেশি সময় ফুটবল শূন্যে ভাসিয়ে গড়লো বিশ্ব রেকর্ড

সংসদের ২৫৫ পদে একটিও না পাওয়া ছাত্রদল, জয়ী হয়েছে ছাত্রশিবির ২৩৪ পদে

আপডেট সময় : ০৫:৫৬:৩৪ অপরাহ্ন, শনিবার, ১৮ অক্টোবর ২০২৫

রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদের (রাকসু) পাশাপাশি হল সংসদ নির্বাচনেও নিরঙ্কুশ জয় পেয়েছে ইসলামী ছাত্রশিবির-সমর্থিত প্যানেল। প্রতিটি হল সংসদের ভিপি, জিএস, এজিএস পদে ছাত্রশিবির-সমর্থিত প্যানেলের প্রার্থীরা জয়ী হয়েছেন। পাঁচটি হলে পূর্ণাঙ্গ প্যানেলসহ সব হল মিলিয়ে ২৫৫টি পদের মধ্যে ২৩৪টিতে জয়ী হয়েছেন ছাত্রশিবিরের প্রার্থীরা।

অন্যদিকে কেন্দ্রীয় সংসদের চেয়ে হল সংসদে বড় ভরাডুবির মুখোমুখি হয়েছে ছাত্রদল-সমর্থিত প্যানেলের প্রার্থীরা। ১৭ হলের একটি পদেও ছাত্রদল-সমর্থিত কোনো প্রার্থী জিততে পারেননি। তবে কয়েকটি পদে ছাত্রশিবিরের প্রার্থীদের সঙ্গে ভোটে তাঁদের প্রতিদ্বন্দ্বিতা হয়েছে।

রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে ছাত্রদের ১১টি ও ছাত্রীদের ছয়টিসহ মোট ১৭টি হল আছে। প্রতিটি হল সংসদে পদ ১৫টি। হল সংসদ নির্বাচনে কোনো হলে পূর্ণাঙ্গ, আবার কোনো হলে আংশিক প্যানেল দিয়েছিল ছাত্রশিবির। এর মধ্যে ১৭টি সংসদের শীর্ষ ৫১ পদেই (ভিপি-জিএস-এজিএস) এই প্যানেলের প্রার্থীরা জয়ী হয়েছেন।

পাঁচ হলে শিবিরের সবাই জয়ী

পাঁচটি হল সংসদ নির্বাচনে ছাত্রশিবির-সমর্থিত প্যানেলের সবাই (৭৫ পদে) জয়ী হয়েছেন। হলগুলো হলো শহীদ হবিবুর রহমান হল, নবাব আব্দুল লতিফ হল, মাদার বখ্শ হল, সৈয়দ আমীর আলী হল ও মন্নুজান হল।

শহীদ হবিবুর রহমান হলে ভিপি, জিএস ও এজিএস পদে যথাক্রমে আহমদ আহসান উল্লাহ (ফারহান), আশিক শিকদার ও মো. শহীদুল ইসলাম (সুমন) জয়ী হয়েছেন। মাদার বখ্শ হলে ভিপি পদে মো. রুবেল আলী, জিএস পদে মো. ইব্রাহিম হোসাইন ও এজিএস পদে মো. আবু রায়হান; মন্নুজান হলে ভিপি পদে সুমাইয়া জাহান, জিএস পদে তাসমেরী জাহান (তন্নি) ও এজিএস পদে সাবিনা ইয়াসমিন; সৈয়দ আমীর আলী হলে ভিপি পদে মো. নাঈম ইসলাম, জিএস পদে মো. সাব্বির হোসাইন ও এজিএস পদে মুন্না ইসলাম এবং নবাব আব্দুল লতিফ হলে ভিপি পদে নেয়ামত উল্লাহ, জিএস পদে মো. নুরুল ইসলাম (শহীদ) ও এজিএস পদে রনি হাসান জয়লাভ করেছেন।

অন্য হলগুলোতেও বড় জয়

বিজয়-২৪ হলে সহকারী বিতর্ক ও সাহিত্য সম্পাদক পদ ছাড়া বাকি সব পদেই ছাত্রশিবির সমর্থিত প্যানেলের প্রার্থীরা জয় পেয়েছেন। এই হলে ভিপি পদে মো. রাছেল মিয়া, জিএস পদে ইমরুল হাসান (মিশকাত) ও এজিএস পদে মো. শাহাদাত হোসেন (সাকিব) জয়ী হয়েছেন। শহীদ জিয়াউর রহমান হল সংসদের ১৫টি পদের মধ্যে শিবির-সমর্থিত প্যানেল বিতর্ক ও সাহিত্য সম্পাদক, সহবিতর্ক ও সাহিত্য সম্পাদক, ক্রীড়া ও খেলাধুলা সম্পাদক ও নির্বাহী সদস্য ৪ পদ ছাড়া বাকি ১১টি পদে জয় পেয়েছে। ভিপি হয়েছেন মোজাম্মেল হক, জিএস আরিফুল ইসলাম ও এজিএস মো. ইসরাফিল হোসেন।

হোসেন শহীদ সোহরাওয়ার্দী হল সংসদের ১৫ পদের মধ্যে বিতর্ক ও সাহিত্য সম্পাদক ছাড়া বাকি সব পদে শিবির জয় পেয়েছে। এই হল সংসদে ভিপি হয়েছেন কাওসার হাবিব, জিএস মো. সাচ্ছু হোসেন ও এজিএস মো. ইমরুল হাসান। শহীদ শামসুজ্জোহা হল সংসদের ১৫ পদের মধ্যে নির্বাহী সদস্যের একটি পদ ছাড়া বাকি সব পদে তাঁরা জয়ী হয়েছেন। ভিপি হয়েছেন আশিকুর রহমান (সোহাগ), জিএস সোয়াইব হোসেন ও এজিএস মোস্তাফিজুর রহমান।

শাহ মখদুম হল সংসদে বিতর্ক ও সাহিত্য সম্পাদক ছাড়া বাকি ১৪টি পদে শিবির-সমর্থিত প্যানেল জয়লাভ করেছে। ভিপি, জিএস ও এজিএস হয়েছেন যথাক্রমে মো. শামিম আলাম (পাটোয়ারি), বায়জীদ ও মো. জাকারিয়া। তাপসী রাবেয়া হলে ছাত্রশিবিরের প্যানেলের ১৪ জনের মধ্যে ক্রীড়া ও খেলাধুলা সম্পাদক প্রার্থী ছাড়া সবাই জয় পেয়েছেন। ভিপি পদে মরিয়ম খাতুন, জিএস পদে তাওহীদা আখতার ও এজিএস পদে খাদিজা আক্তার জয় পেয়েছেন।

জুলাই-৩৬ হলে সাংস্কৃতিক সম্পাদক, বিতর্ক ও সাহিত্য সম্পাদক ছাড়া ১৩ জনের প্যানেলের ১১ জনই জয়ী হয়েছেন। ভিপি হয়েছেন সৈয়দা সমাপিকা আহমদ (সিমি), জিএস তাসফিয়া তাবাসসুম ও এজিএস তাওহিদা ইয়াসমিন (মাহমুদা)। বেগম রোকেয়া হলে ১৪ জনের প্যানেলের মধ্যে সাংস্কৃতিক সম্পাদক এবং বিতর্ক ও সাহিত্য সম্পাদক ছাড়া বাকি পদগুলোতে শিবির-সমর্থিত প্যানেলের প্রার্থীরা জয় পেয়েছেন। ভিপি, জিএস ও এজিএস হয়েছেন যথাক্রমে অর্পণা হক (মুগ্ধ), মোসা. লায়লা খাতুন ও মোছা. শাহনাজ পারভীন।

রহমতুন্নেসা হল সংসদে ছাত্রশিবির-সমর্থিত ১৪ জনের প্যানেলের ১৪ জনই বিজয়ী হয়েছেন। এর মধ্যে কোনো প্রার্থী না থাকায় ৯ জন বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় জয় পেয়েছেন। সাইফুন নাসিরা ভিপি, হাবিবা আক্তার (রিয়া) জিএস ও আফসানা মিমি এজিএস পদে নির্বাচিত হয়েছেন। বেগম খালেদা জিয়া হলেও ১৪ জনের প্যানেলের সবাই জয়ী হয়েছেন। এর মধ্যে এই প্যানেলের ১০ জন বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় জয় পেয়েছেন। ভিপি পদে সাবরিনা মারজান, জিএস জারিন তাসনিম রিফাহ ও এজিএস মোছা. পারভীন আরা নির্বাচিত হয়েছেন।

সব হলে ছাত্রদলের ভরাডুবি

রাকসু নির্বাচনের পাশাপাশি হল সংসদ নির্বাচনে ছাত্রদের ১১টি হলে আংশিক ও পূর্ণাঙ্গ প্যানেল দিয়েছিল ছাত্রদল। তবে প্রতিটি হল সংসদের ১৫টি পদের মধ্যে কোনো পদেই তাদের প্যানেলের প্রার্থীরা জয়ী হতে পারেননি। তবে কিছু কিছু হলে কয়েকটি পদে ছাত্রশিবির-সমর্থিত প্যানেলের প্রার্থীদের সঙ্গে ভালো প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেছেন ছাত্রদল-সমর্থিত প্যানেলের প্রার্থীরা।

এ বিষয়ে কথা বলতে বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রদলের সভাপতি সুলতান আহমেদ (রাহী) ও সাধারণ সম্পাদক সর্দার জহুরুল হকের মুঠোফোন নম্বরে একাধিকবার কল করা হলেও তাঁরা ধরেননি। পরে সাংগঠনিক সম্পাদক মাহমুদুল (মিঠু) প্রথম আলোকে বলেন, হল সংসদে তাঁদের প্যানেলের কেউ জিততে পারেননি। তবে কয়েকটি হলে শীর্ষ পদসহ কয়েকটি পদে ভালো লড়াই করেছেন প্রার্থীরা।

শাখা ছাত্রশিবিরের সেক্রেটারি মুজাহিদ ফয়সাল প্রথম আলোকে বলেন, এক বছর ধরে শিক্ষার্থীদের সঙ্গে তাঁরা যুক্ত থাকার চেষ্টা করেছেন। এ ক্ষেত্রে একধরনের সম্মিলিত প্রচেষ্টা ছিল। এতে সবাই কাজ করেছেন। এ ছাড়া নির্বাচনী প্রচারণায় প্রতিপক্ষ নিজেদের কাজে ‘ফোকাস’ না করে শিবিরের সমালোচনায় ব্যস্ত ছিল। এতে শিবিরেরই লাভ হয়েছে। সব মিলিয়ে ভোটে ইতিবাচক প্রভাব পড়েছে।