ঢাকা ১১:১৪ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ১৩ মার্চ ২০২৬, ২৯ ফাল্গুন ১৪৩২ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম ::
উন্নত চিকিৎসার জন্য সিঙ্গাপুর নেওয়া হচ্ছে মির্জা আব্বাসকে নারায়ণগঞ্জের সিদ্ধিরগঞ্জ থানার ১ নং ওয়ার্ডের সিআইখোলা এলাকায় মাদক বিক্রি করতে নিষেধ ৪৪ বছর পর ‘দম’-এ ফিরে সেই স্মরণীয় গান গাইলেন সাবিনা ইয়াসমিন মার্কিন গোয়েন্দা তথ্য: ইরানের শাসনব্যবস্থায় ভাঙনের আশঙ্কা নেই অসুস্থ হয়ে হাসপাতালে ভর্তি মির্জা আব্বাস ব্যারিস্টার কায়সার কামাল হলেন নতুন ডেপুটি স্পিকার রানার ঝড়ো গতিতে সাজঘরে ফিরলেন পাকিস্তানের তিন টপ অর্ডার ব্যাটার আলুর বস্তাপ্রতি ২০ টাকা চাঁদা নেওয়ার অভিযোগ স্বেচ্ছাসেবক দল নেতাদের বিরুদ্ধে প্রথমবার বাংলাদেশের চলচ্চিত্রে দেখা যাবে বলিউডের নাতালিয়াকে দেশে আবারও বাড়ল স্বর্ণের দাম, ক্রেতাদের মধ্যে বাড়ছে উদ্বেগ

স্পাউস ভিসার মাধ্যমে নারীদের সঙ্গে ভয়াবহ প্রতারণা

  • NEWS21 Staff Musabbir
  • আপডেট সময় : ০৬:৫৪:০৬ অপরাহ্ন, বুধবার, ১৫ অক্টোবর ২০২৫
  • ১৩৬ বার পড়া হয়েছে

স্পাউস ভিসার মাধ্যমে নারীদের সঙ্গে ভয়াবহ প্রতারণা

স্পাউস ভিসার খপ্পরে পড়েছেন অসংখ্য বাংলাদেশি নারী। উচ্চ বেতনে চাকরির প্রলোভন দেখিয়ে অনেককে চীনে পাচার করা হয়েছে। এই ঘটনার সঙ্গে জড়িত চক্রের চারজনকে গ্রেপ্তার করেছে র‌্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়ন (র‌্যাব)।

বুধবার (১৫ অক্টোবর) সংবাদ সম্মেলনে র‌্যাব জানায়, দেশের বিভিন্ন অঞ্চলের নারীদের লক্ষ্য করে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বন্ধুত্ব গড়ে তোলে চক্রটির সদস্যরা। পরে চীনে উচ্চ বেতনের চাকরির প্রলোভন দেখিয়ে তাদের ঢাকায় আনা হয় এবং সেখানে বিভিন্ন চীনা নাগরিকের সঙ্গে ভুয়া বিয়ের আয়োজন করা হয়।

র‌্যাব আরও জানায়, এরপর জাল কাগজপত্র তৈরি করে ‘স্পাউস ভিসা’র মাধ্যমে তাদের পাঠানো হয় চীনে। কিন্তু সেখানে চাকরির বদলে তাদের বাধ্য করা হয় যৌন ব্যবসায়, আর কেউ রাজি না হলে সহ্য করতে হয় নির্মম নির্যাতন।

জানা গেছে, রাজধানীর উত্তরার বিভিন্ন রেস্টুরেন্টে চীনা নাগরিকদের সঙ্গে বাংলাদেশি তরুণীদের বিয়ের ভুয়া আয়োজন করত চক্রটি। আসল নথির আদলে তৈরি করা হতো জাল কাবিননামা, আর এর ভিত্তিতেই এক রাতের মধ্যে প্রস্তুত হয়ে যেত ‘স্পাউস ভিসা’। ইমিগ্রেশনের কোনো জটিলতা ছাড়াই নবদম্পতি পরিচয়ে তাদের পাঠানো হতো চীনে। পুরো প্রক্রিয়াটি পরিচালিত হতো একটি আন্তর্জাতিক সিন্ডিকেটের মাধ্যমে।

 

ভুক্তভোগী এক তরুণী জানিয়েছেন, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম টিকটকের মাধ্যমে চক্রের সদস্যরা তাকে উচ্চ বেতনের চাকরির প্রলোভন দেখায়। পরে তাকে ঢাকায় নিয়ে আসে তারা। ওই তরুণীর ভাষায়, শুধু তিনিই নন- প্রলোভনে পড়ে তার খালাতো বোনকেও একই পথে নিয়ে আসেন। কিন্তু চীনে পৌঁছেই বুঝতে পারেন, তারা একটি প্রতারক চক্রের ফাঁদে পড়েছেন। সেখানে তাদের জোর করে করানো হয় অসামাজিক কাজ, আর রাজি না হলে সহ্য করতে হয় অমানুষিক নির্যাতন। তিনি কোনোভাবে দেশে ফিরে এলেও তার খালাতো বোন এখনো চীনে আটকা রয়েছেন।

র‌্যাবের তথ্য অনুযায়ী, এই চক্রের সঙ্গে অ্যামবেসি, ইমিগ্রেশন ও কাজি অফিসের কিছু অসাধু কর্মকর্তাও জড়িত। তারা অভিযুক্ত ও ভুক্তভোগীদের সহায়তা করে ভুয়া পরিচয়ে এনআইডি ও পাসপোর্ট তৈরি করে দিতেন। অনেকে বিয়ের নাটকে অভিভাবকের ভূমিকায় অভিনয় করতেন। বর্তমানে আরও ৪ থেকে ৫টি চীনা চক্র নারী পাচার কার্যক্রমের সঙ্গে যুক্ত রয়েছে, যাদের গ্রেপ্তারে অভিযান অব্যাহত আছে।

ট্যাগস :

এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি, অডিও, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার বেআইনি।

জনপ্রিয় সংবাদ

উন্নত চিকিৎসার জন্য সিঙ্গাপুর নেওয়া হচ্ছে মির্জা আব্বাসকে

স্পাউস ভিসার মাধ্যমে নারীদের সঙ্গে ভয়াবহ প্রতারণা

আপডেট সময় : ০৬:৫৪:০৬ অপরাহ্ন, বুধবার, ১৫ অক্টোবর ২০২৫

স্পাউস ভিসার খপ্পরে পড়েছেন অসংখ্য বাংলাদেশি নারী। উচ্চ বেতনে চাকরির প্রলোভন দেখিয়ে অনেককে চীনে পাচার করা হয়েছে। এই ঘটনার সঙ্গে জড়িত চক্রের চারজনকে গ্রেপ্তার করেছে র‌্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়ন (র‌্যাব)।

বুধবার (১৫ অক্টোবর) সংবাদ সম্মেলনে র‌্যাব জানায়, দেশের বিভিন্ন অঞ্চলের নারীদের লক্ষ্য করে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বন্ধুত্ব গড়ে তোলে চক্রটির সদস্যরা। পরে চীনে উচ্চ বেতনের চাকরির প্রলোভন দেখিয়ে তাদের ঢাকায় আনা হয় এবং সেখানে বিভিন্ন চীনা নাগরিকের সঙ্গে ভুয়া বিয়ের আয়োজন করা হয়।

র‌্যাব আরও জানায়, এরপর জাল কাগজপত্র তৈরি করে ‘স্পাউস ভিসা’র মাধ্যমে তাদের পাঠানো হয় চীনে। কিন্তু সেখানে চাকরির বদলে তাদের বাধ্য করা হয় যৌন ব্যবসায়, আর কেউ রাজি না হলে সহ্য করতে হয় নির্মম নির্যাতন।

জানা গেছে, রাজধানীর উত্তরার বিভিন্ন রেস্টুরেন্টে চীনা নাগরিকদের সঙ্গে বাংলাদেশি তরুণীদের বিয়ের ভুয়া আয়োজন করত চক্রটি। আসল নথির আদলে তৈরি করা হতো জাল কাবিননামা, আর এর ভিত্তিতেই এক রাতের মধ্যে প্রস্তুত হয়ে যেত ‘স্পাউস ভিসা’। ইমিগ্রেশনের কোনো জটিলতা ছাড়াই নবদম্পতি পরিচয়ে তাদের পাঠানো হতো চীনে। পুরো প্রক্রিয়াটি পরিচালিত হতো একটি আন্তর্জাতিক সিন্ডিকেটের মাধ্যমে।

 

ভুক্তভোগী এক তরুণী জানিয়েছেন, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম টিকটকের মাধ্যমে চক্রের সদস্যরা তাকে উচ্চ বেতনের চাকরির প্রলোভন দেখায়। পরে তাকে ঢাকায় নিয়ে আসে তারা। ওই তরুণীর ভাষায়, শুধু তিনিই নন- প্রলোভনে পড়ে তার খালাতো বোনকেও একই পথে নিয়ে আসেন। কিন্তু চীনে পৌঁছেই বুঝতে পারেন, তারা একটি প্রতারক চক্রের ফাঁদে পড়েছেন। সেখানে তাদের জোর করে করানো হয় অসামাজিক কাজ, আর রাজি না হলে সহ্য করতে হয় অমানুষিক নির্যাতন। তিনি কোনোভাবে দেশে ফিরে এলেও তার খালাতো বোন এখনো চীনে আটকা রয়েছেন।

র‌্যাবের তথ্য অনুযায়ী, এই চক্রের সঙ্গে অ্যামবেসি, ইমিগ্রেশন ও কাজি অফিসের কিছু অসাধু কর্মকর্তাও জড়িত। তারা অভিযুক্ত ও ভুক্তভোগীদের সহায়তা করে ভুয়া পরিচয়ে এনআইডি ও পাসপোর্ট তৈরি করে দিতেন। অনেকে বিয়ের নাটকে অভিভাবকের ভূমিকায় অভিনয় করতেন। বর্তমানে আরও ৪ থেকে ৫টি চীনা চক্র নারী পাচার কার্যক্রমের সঙ্গে যুক্ত রয়েছে, যাদের গ্রেপ্তারে অভিযান অব্যাহত আছে।