নিউজ ২১ বাংলা টিভির অনলাইনে সংবাদ প্রকাশের পর গোপালগঞ্জের কোটালীপাড়া উপজেলায় সদ্য মা হওয়া পাগলীর পাশে দাড়ালেন উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ইউএনও) মোঃ মঈনুল হক।
আজ সোমবার সকালে উপজেলা নির্বাহী অফিসার মোঃ মঈনুল হক সদ্য মা হওয়া পাগলী মাহমুদা খানমের সিতাউকুন্ড গ্রামের বাড়িতে গিয়ে নবজাতক সন্তানের দেখতে যান।
ইউএনও মোঃ মঈনুল হক প্রসুতি পাগলী ও তার নবজাতক সন্তানকে খাদ্যসামগ্রী, ওষুধ, প্রসাধনী, বিভিন্ন প্রকার ফল, শিশুখাদ্য ও পোষক উপহার দেন।
এ সময় উপজেলা প্রকৌশলী শফিউল আজম, সমাজ সেবা অফিসার রাকিবুল হাসান শুভ, মহিলা বিষয়ক অফিসার শ্রীময়ী বাকচী, প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা আনছার আলী উপস্থিত ছিলেন।
এদিকে মানসিক ভারসাম্যহীন পাগলী ও তার নবজাতক সন্তানকে দেখতে যাওয়ায় সকলের প্রশংসায় ভাসছেন ইউএনও মঈনুল হক।
পাগলী মাহমুদা (৩৫)সিতাইকুন্ড গ্রামের মালেক মিয়ার মেয়ে। কয়েক বছর ধরে তিনি মানসিক ভারসাম্যহীন।
জানা যায়, গত শনিবার (১৯ এপ্রিল) বিকালে নিজ বাড়িতে একটি পুত্র সন্তানের জন্ম দেন মাহমুদা।
মাহমুদার মা জায়েদা বেগম বলেন, মাহামুদা খানম ১০ বছর আগে পরিবারেরঅভাবের তাড়নায় ঢাকায় গামের্ন্টেসে চাকুরি নেয়।সেখানে ভালবেসে এক ছেলেকে বিয়ে করেন। বিয়ের কিছুদিন পর ওই ছেলে মাহমুদাকে ছেড়ে চলে গেলে মানসিক ভারসাম্য হয়ে পড়েন। এরপর গ্রামের বাড়িতে চলে আসেন। বাড়িতে এসে স্থানীয় সিতাইকুন্ড বাজারসহ আশেপাশের এলাকায় ঘুরে বেড়াতে শুরু করেন। অনেক চেষ্টা করেও মাহামুদাকে বাড়িতে আটকে রাখতে পারি নাই।
কয়েকমাস আগে থেকে মাহামুদার শারীরিক পরিবর্তন লক্ষ্য করলেও আমরা আমলে নেই নাই। এভাবেই কয়েকমাস কেটে যায়। তবে কিছুদিন আগে বিষয়টি বুঝতে পেরে জানার চেষ্টা করলে মাহমুদা বাড়ি থেকে চলে যায়। কিছু বলতে গেলে সবাইকে অকথ্য ভাষায় গালাগালি এমনকি মারধোর করতে আসে।গত শনিবার বিকালে মাহামুদা পুত্র সন্তানের মা হয়।
তিনি আরো বলেন, আমরা নিজেরাই দু’বেলা ভাত ঠিক মত খেতে পারি না। এখন একদিকে যেমন অভাব অন্যদিকে সামাজিকভাবেও হেয় হচ্ছি। এমন অবস্থায় ইউএনও স্যার আমার মেয়ের জন্য যা করলেন তার ঋন শোধ করতে পারবো না।
কোটালীপাড়া কল্যাণ সংঘের সভাপতি সোহেল শেখ বলেন, পাগলী মা হওয়ার পর চরম বিপর্যয়ের মধ্যে রয়েছে। এমন অবস্থায় কোটালীপাড়ার ইউএনও মহোদয় পাগলীর পাশে দাড়িয়ে যে উদারতা দেখিয়েছেন তার জন্য কোটালীপাড়াবাসী কৃতজ্ঞ। তিনি মহানুভবতার পরিচয় দিয়েছেন।
ইউএনও মোঃ মঈনুল হক বলেন, স্থানীয় সংবাদমাধ্যম কর্মীদের মাধ্যমে আমি জানতে পারি কোটালীপাড়া উপজেলার সিতাইকুন্ড গ্রামের মানসিক ভারসাম্যহীন এক নারী মা হয়েছেন।আমি জানার পরে উপজেলা প্রশাসনের বিভিন্ন দপ্তরের কর্মকর্তাদের নিয়ে ওই নারী ও তার সন্তানকে দেখতে আসি। আমরা উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে ওই নারীকে ৩ মাসের খাদ্য, নবজাতক শিশুর জন্য শিশুখাদ্য, পোষাক, প্রসাধনী ও ওষুধ দিয়েছি।ওই নারীর বসতঘরটি জড়াজীর্ণ থাকায় খুব শীঘ্রই একটি নতুন ঘর ও স্বামী পরিত্যক্ত ভাতা করে দেওয়া হবে।
মনিরুজ্জামান শেখ জুয়েল, গোপালগঞ্জ 



















