হাইকোর্ট কারণ দর্শানোর আদেশ দেয়ার ৩ দিন পরই শিমরাইল ১ নম্বর ঘাটে লোড-আনলোড শুরু

89

সিদ্ধিরগঞ্জ (নারায়ণগঞ্জ) প্রতিনিধি : শীতলক্ষ্যা নদীর পশ্চিম পাশে বিআইডবিøউটিএ‘র অধিনস্থ সিদ্ধিরগঞ্জের শিমরাইল এক নম্বর শুল্ক ও লেবার হ্যান্ডলিং চার্জ আদায় কেন্দ্রে মালামাল লোড-আনলোড ও শুল্ক আদায় শুরু হয়েছে। গতকাল রোববার বেলা ১২ টার দিকে নারায়ণগঞ্জ নদী বন্দর কর্তৃপক্ষ আনুষ্ঠানিক ভাবে লোড-আনলোড উদ্বোধন করেন। সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের নিয়োজিত লেবার সর্দারের ভাড়া করা বহিরাগত শতাধিক সন্ত্রাসীদের উপস্থিতিতে শুরু হয়েছে কার্যক্রম।

এই ঘাট নিয়ে নারায়ণগঞ্জ নদী বন্দর কর্তৃপক্ষের অনিয়মের বিরুদ্ধে মেসার্স মাহমুদা ট্রেডার্স প্রতিষ্ঠান মালিক মো: ইউসুফ আলী ১৪ জনকে বিবাদী করে হাইকোর্ডে রিট করেন। শুনানি শেষে গত ৪ নভেম্বর বিবাদী পক্ষকে দুই সপ্তাহের মধ্যে কারণ দর্শানোর আদেশ দেন বিচারপতি মো: মজিবুর রহমান ও মহি উদ্দিন এর বেঞ্চ। পরে ৫ নভেম্বর ঘাটের গেইটে রিট সংক্রান্ত একটি সাইনবোর্ড লাগানো হয়। সাইনবোর্ডটি খোলে ফেলে লেবার সর্দার বিসমিল্লাহ ট্রেডাস এর মালিক মো: বাকের মিয়ার ভাড়া করা গুন্ডারা।
রিটে বিবাদী করা হয়, নৌ-পরিবহন মন্ত্রনালয়ের সচিব, বাংলাদেশ অভ্যন্তরীণ নৌ-পরিবহনের চেয়ারম্যান, পরিচালক, অতিরিক্ত পরিচালক, নারায়ণগঞ্জ নদী বন্দরের যুগ্ন পরিচালক শেখ মাসুদ কামাল, শুল্ক আদায়কারী কর্মকর্তা মো: রফিকুল ইসলাম, এস এম মাসুদ, শুল্ক প্রহরী মো: রবিউল আউয়াল, আক্তার হোসেন, ডেপুটি কমিশনার নারায়ণগঞ্জ, পুলিশ সুপার নারায়ণগঞ্জ, নারায়ণগঞ্জ সড়ক ও জনপথ বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী, উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও সিদ্ধিরগঞ্জ থানার ওসি।

রিটকারী ইউসুফ আলী অভিযোগ জানায়, এক কোটি টাকা ইজারা মূল্য নির্ধারণ করেও রহস্য জনক কারণে দরপত্র আহবান না করে নারায়ণগঞ্জ নদী বন্দর কর্তৃপক্ষ নিজেরাই শুল্ক আদায় করার সিদ্ধান্ত নেয়। অথচ একই এলাকায় শিমরাইলে দুই ও তিন নম্বর ঘাট ১ বছরের জন্য ৬৫ লাখ টাকা আর আটি ওয়াপদায় ল্যান্টিং স্টেশন ১ কোটি ৪৫ লাখ টাকায় ইজারা দিয়েছে। কিন্তু এক নম্বর ঘাটটি ইজারা না দেওয়ার আড়ালে রয়েছে কর্তৃপক্ষের পুকুর চুরি ও সরকারি রাজস্ব আতœসাত করার কৌশল। তার লাগানো সাইনবোর্ড সন্ত্রাসী কায়দায় খোলে ফেলায় মামলার প্রস্তুতি নিচ্ছেন বলে জানান ইউসুফ আলী।

রিট করা ঘাটে লোড-আনলোড উদ্বোধনে উপস্থিত থাকা নৌ-পরিবহন মন্ত্রনালয়ের এক্সিকিউটিভ ম্যাজিস্ট্রেট মাহবুব জামিল এর কাছে জানতে চাইলে তিনি জানান, এই ঘাটের মালিক বিআইডবিøউটি কর্তৃপক্ষ। তাই তারা ব্যতিত অন্য কেই সাইনবোর্ড লাগানোর কোন বৈধতা নেই।
অনিয়মের নাটের গুরু নারায়ণগঞ্জ নদী বন্দরের যুগ্ন পরিচালক শেখ মাসুদ কামাল এ ঘট বিষয়ে গণমাধ্যমে কোন মন্তব্য করতে রাজি হননি। সরকারি কর্মকর্তাদের গণমাধ্যমে বক্তব্য দেয়ায় বিধি নিষেধ রয়েছে বলে চলে যান।
লেবার সর্দার দাবিদার বাকের মিয়া দাপ্তরিক ভাবে দায়িত্ব প্রাপ্ত কোন কাগজ দেখাতে অনিহা প্রকাশ করেন। এত বহিরাগত লোকজন কেন জানতে চাইলে তিনি বলেন, একটি মহল কাজে বাধা বা হামলা করার পায়তারা করছে।

এর বেশি কিছু বলতে চাননি।