সিদ্ধিরগঞ্জে তুচ্ছ ঘটনাকে কেন্দ্র করে স্বামী-স্ত্রী মিলে বড় ভাই-ভাবীকে দা দিয়ে কুপিয়েছে মাদক ব্যবসায়ী

43

সিদ্ধিরগঞ্জ প্রতিনিধি : নারায়ণগঞ্জ মহানগরের সিদ্ধিরগঞ্জে তুচ্ছ ঘটনাকে কেন্দ্র করে স্বামী-স্ত্রী মিলে বড় ভাই-ভাবী ও ভাতিজাকে দা দিয়ে কুপিয়েছে মাদক ব্যবসায়ী শামসিন মোল্লা (৪৫) ও তার স্ত্রী সালমা (৩৫)। শুক্রবার (১৬ অক্টোবর) সকালে মহানগরের ৩নং ওয়ার্ডের মধ্য সানারপাড় এলাকায় আবেদ আলীর বাড়িতে এ ঘটনাটি ঘটেছে।
রক্তাক্ত জখম হয়ে বড় ভাই শাহিন মোল্লা (৫৫) চিকিৎসা নিলেও তার স্ত্রী মালা বেগম (৪৫) গুরুতর জখম নিয়ে আশঙ্কাজনক অবস্থায় ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছে। খবর পেয়ে সিদ্ধিরগঞ্জ থানার উপ-পরিদর্শক (এসআই) ফরিদ উদ্দিন সঙ্গীয় ফোর্স ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছেন।
আহত শাহীন মোল্লা ও হামলাকারী শামসিন মোল্লা সিদ্ধিরগঞ্জের মধ্য সানারপাড় এলাকার মৃত জনাব আলীর ছেলে। তারা উভয়েই এলাকার চিহ্নিত মাদক ব্যবসায়ী।
আহত শাহীন মোল্লা জানায়, গতকাল বিকালে আমার বাড়ীতে আমার খালাত ভাই রুবেল আসার পর আমি তাকে আমাদের বাড়িতে আসতে নিষেধ করি। কারণ আমার বাড়িতে বিভিন্ন লোকজন আসলে এলাকার মানুষ আমাকে গালমন্দ করে। এসময় আমার ছোট ভাইয়ের বউ সালমা এ কথা বলায় আমার উপর ক্ষিপ্ত হয়ে ক্রিকেট খেলার ব্যাট দিয়ে আমাকে মারধর করে। আজ সকাল ৯টার দিকে ঘুম থেকে উঠে লন্ডন মার্কেট এলাকায় যাই।

তখন হঠাৎ আমার ছোটভাই শামসিন ওইখানে গিয়ে প্রকাশ্যে লোকজনের সামনে আমাকে বেধরক মারধর করে দৌড়ে বাড়িতে আসে এবং তার স্ত্রী সালমা সহ আমার ঘর থেকে আমার স্ত্রী মালাকে টেনে হিচড়ে তার উঠানে নিয়ে এলোপাতারি ধারালো দা দিয়ে তাকে কুপিয়ে মারাত্বক রক্তক্ত জখম করে। এসময় আমি বাড়িতে এসে তাকে বাঁচাতে এগিয়ে গেলে আমাকেও কোপাতে থাকে এবং আমার ছেলে এগিয়ে এলে তারা তাকেও মারধর করে।

আমাদের আর্ত চিৎকারে আশপাশের লোকচজন এগিয়ে আসলে তারা স্বামী-স্ত্রী এলাকা থেকে পালিয়ে যায়। পরে আমার স্ত্রী নিয়ে নারায়ণগঞ্জ জেনারেল হাসপাতাল গেলে সেখানে আমাকে চিকিৎসা দিলেও আমার স্ত্রী মালাকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠিয়ে দেয়। বর্তমানে তার অবস্থা খুবই আশঙ্কাজনক। এলাকার গন্যমান্য লোকজনকে জানালেও তারা আমাদের পাশে দাড়ায়নি। আমার ছোটভাই প্রায় সময়ই আমার কাছ থেকে টাকা নিয়ে নেশা করতো। বিশেষ করে এই টাকা চাওয়াতেই আমাদের উপর ক্ষিপ্ত হয়ে এ হামলা চালিয়েছে।
এ ব্যাপারে সিদ্ধিরগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) কামরুল ফারুক জানায়, মারামারির খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে পুলিশ পাঠিয়েছি। আহতরা চিকিৎসাধীন রয়েছে। চিকিৎসা শেষে এসে অভিযোগ দিলে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেয়া হবে।