দেশের নারীদের ধর্ষণের ঘটনা নিছক কিনা খতিয়ে দেখা উচিত।-এড.নূর জাহান

51

সাম্প্রতিক দেশে হঠাৎ করে কি হচ্ছে? প্রশ্নটা ঘুরে ফিরেই মাথায় আসছে। চারদিক থেকে একটাই খবর আসছে ধর্ষণ ও নির্যাতনের এখানে নারী, ওখানে শিশু,অন্য জায়গায় ছেলে শিশুর। কোথাও ধর্ষণ, কোথাও বলাৎকার, কোথাও বিবস্ত্র নারীর আর্তনাদ।সিলেটের এমসি কলেজ ক্যাম্পাসে গৃহবধূ ধর্ষণ দিয়ে শুরু এ প্রান্তিক, কিন্ত তার আর থামতি নেই। চারপাশে বলাবলি, সামাজিক মাধ্যমে প্রতিবাদের আওয়াজ, রাজপথে শুরু হয়েছে প্রতিবাদ, বিক্ষোভ। সকলেরই জিজ্ঞাসা কি এমন হলো? পত্রিকার পাতা খুললেই কেবল ধর্ষণের খবর। ডজন ডজন ধর্ষণের খবরে সর্বত্র উদ্বেগ আর আতঙ্ক।

আর এই ধর্ষণ-নিপীড়নের প্রতিবাদে সোচ্চার দেশের মানুষ। এই প্রতিবাদে সামিল হয়েছেন দেশের গুনী ও বিজ্ঞা ব্যক্তিরাও। অনেকেই এই ঘৃণিত অপরাধের বিরুদ্ধে সরব হয়েছেন ফেসবুকে। প্রতিবাদী সব পোস্ট লিখে এসব অপরাধের প্রতিকার চেয়েছেন তারা।

সাম্প্রতিক ঘটে যাওয়া ধর্ষণের ঘটনায় নিয়ে নারায়ণগঞ্জ জেলা মহিলা আওয়ামী লীগের ভারপ্রাপ্ত সাধারন সম্পাদক ও নারায়ণগঞ্জ জজ কোর্ট সহকারী পাবলিক প্রসেকিউটর এড.নূর জাহান এর সাথে দৈনিক স্বাধীন বাংলাদেশ পত্রিকার আলাপচারিতায় তিনি জানান,দেশে যে পরিমানে অরাজকতা চলছে নারী নেত্রী হিসেবে আমি অতন্ত দুঃখিত ও বিচলিত।যেখানে করোনা মহামারির কারনে বিশ্ব হতাশাগ্রস্থ সেখানে ধর্ষণ নামে একটা মহামারি বিরাজ করছে আমাদের দেশে।এই করোনা থেকে আরো ভয়াবহ ও ভয়ংকর ধর্ষণ।সাম্প্রতিক ঘটে যাওয়া এই ধর্ষণের ঘটনায় আমি তীব্র নিন্দা জানাই।যদি এই ঘটনা সত্যিকারের হয়ে থাকে তাহলে এটা গোটা জাতির জন্য লজ্জার।যারা ধর্ষণ করে,ধর্ষণের সাথে জড়িত তারা কোন না কোন মা বোনের পিতা,স্বামী,সন্তান,ভাই।নারীর স্বামী,ভাই বা সন্তান এর সুবাদে পুরুষ একজন সুপুরুষ হিসেবে তার মা,বোন,স্ত্রী,কন্যার সম্ভ্রম ও ইজ্জত রক্ষা করা তার নৈতিক দায়িত্ব।এটা ফরজে আইন।সেটা না করে সেই মা,বোন, স্ত্রীকে বিবস্র করে ভিডিও করে ধর্ষণ করে ছড়িয়ে দিচ্ছে।

ধর্ষণ থেকে নারীদের প্রতিকার পেতে হলে কি করনীয়?এবং কিভাবে এর প্রতিরোধ করবে?

এই প্রশ্নের জবাবে এড.নূর জাহান বলেন,ধর্ষণ যে মহামারি আকার ধারন করেছে এর থেকে প্রতিকার পেতে হলে প্রথমে আমি অভিভাবকদের বলবো আপনার সন্তান যখনি দেখবেন বখাটে হয়ে যাচ্ছে তখনি তাকে আইনের মাধ্যমে বিচার করা উচিত।কারন- দুষ্ট গরু গোয়ালে থাকার চেয়ে শূন্য গোয়াল অনেক ভালো।তবে আপনার সন্তান কি কি করছে,কার সাথে মিশছে,কোথায় যাচ্ছে আগে থেকেই খুঁজ খবর রাখুন,আর প্রাপ্ত বয়স না হওয়া পর্যন্ত মোবাইল দেওয়া থেকে বিরত থাকুন তাহলেই ধর্ষণ থেকে আমাদের দেশের নারীরা প্রতিকার পাবে।তাছাড়া আমি নারীদের উদ্দেশ্যে বলবো এই দেশ যেহেতু মুসলিম দেশ তাই এই দেশের ধর্ম অনুযায়ী শালীন পোষাক পরিধান করে নিজেদের সম্ভ্রম রক্ষা করে চলা ফেলা করবে।

যখন একজন নারী একা একজনের মাধ্যমে ধর্ষণের শিকার হচ্ছে তখন থেকেই প্রতিরোধ করতে হবে। নারীদের আত্মরক্ষার জন্য প্রয়োজনীয় হাতিয়ার রাখতে হবে।একা কোথা অপরিচিত জায়গায় যাওয়া থেকে বিরত থাকতে হবে।কোথাও গিয়ে ধর্ষণের হবার আন্দাজ করলে অতিদ্রুত সেখান থেকে প্রস্থান করতে হবে।

নারীদের জন্য নারী শিশু নির্যাতন দমন আইন আছে কতটুকু যুক্তিযুক্ত ধর্ষণ মামলার ক্ষেত্রে? এছাড়া বিচার বিভাগের ক্ষেত্রে আইনের কোন সংশোধন বা সংযোজন প্রয়োজন কিনা?

প্রশ্নের উত্তরে তিনি বলেন,আমার মতে ধর্ষণের মামলা দ্রুত ট্রাইব্যুনালে দেওয়া উচিত।কারন অনেক সময় দেখা যায় মামলায় আইনজীবি, পুলিশ,বিচারক ও সাক্ষীদের বিলম্ব এর কারনে হাল ছেড়ে মামলায় আপোষে চলে যায় ধর্ষিতা নারী বা তার পরিবার।যার ফলে আসামী পুনরায় অপরাধ করার সুযোগ পেয়ে যায়।এই ক্ষেত্রে আইনে যদি আপোষের বিষয়টা উল্লেখ্য না থাকে এবং দ্রুত ট্রাইব্যুনালে আসামী দোষী সাবস্ত হলে অন্য দেশে সাথে তাল মিলিয়ে তাকে মৃত্যুদণ্ড দেওয়া হোক আইন কিছুটা সংশোধন করে।২০০০ সালের আগে এসিড নিক্ষেপ চর্চা হয়ে গেছিলো তখন সরকার এসিড নিক্ষেপের শাস্তি মৃত্যুদণ্ড করেছিলো তারপর এসিড নিক্ষেপ বন্ধ হয়ে গেছে সেই রকমই ধর্ষণের জন্যও আইনে মৃত্যুদণ্ড দেওয়া হোক তাহলে ধর্ষণও বন্ধ হয়ে যাবে।সরকার ও আমলাদের কাছে আমার দাবী ধর্ষণের শাস্তি মৃত্যুদণ্ড দেওয়া হোক তাহলেই সমাজ ও দেশে ভালো হয়ে যাবে।

এছাড়া গ্রাম্য সালিশি বিচারে ধর্ষণ,নারী নির্যাতন বিচারে নারীদের বেশি দোষারোপ করা হয় সেক্ষেত্রে নারী সঠিক বিচার পায় না তাই গ্রাম্য সালিশির মাধ্যমে কোন ধর্ষণের বিচার যাতে না করে তার ব্যবস্থা করা হোক।

বাংলাদেশ ১৯৭১ সালে স্বাধীনতা অর্জন করলেও বাংলাদেশের নারীরা কি আদৌ স্বাধীন?

প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, বাংলাদেশের নারীরা এখনো স্বাধীনতার স্বাদ পুরোপুরি ভাবে ভোগ করতে পারেনি।তবে আমাদের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা নারীদের উন্নয়নে এগিয়ে নিয়ে যাওয়ার জন্য নারী নীতি পাশ করিয়ে নারীদের বড় বড় পদে বসিয়েছেন।নারীরা অনেক অগ্রগামী হয়েছে।ডিজিটাল এই বাংলাদেশে নারীরা পরাধীনতার শিকল ভেঙে অতিদ্রুত অগ্রগামী হবে।আর সেই দেশে নারীদের ধর্ষণ আসলে ঘটনাটা নিছক নাকি খতিয়ে দেখা উচিত।

দেশের বর্তমান ধর্ষণ ঘটনা বৃদ্ধির জন্য সরকার দায়ী নাকি অন্য কোন ষড়যন্ত্র চলছে এই প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন,এই দেশের ধর্ষণকারীকে আমাদের প্রধানমন্ত্রী কখনো ক্ষমা করবে না সে যেই দলেরই হোক না কেনো তাদের বিচারের আওতায় এনে কঠোর শাস্তি দেওয়া হবে বলে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী।তবে দেশে যে পরিমান ধর্ষণের ঘটনা ঘটছে আমার মনে হয় এর পিছনে ষড়যন্ত্র আছে কিনা তা খতিয়ে দেখা উচিত।দেশকে ভিন্ন খাতে প্রবাহিত করে সরকাররের ভাবমূর্তি নষ্ট করার জন্য ও বিপদে ফেলার জন্য এটা কোন ষড়যন্ত্র না তো?

বর্তমান ধর্ষণের ঘটনায় এবং ধর্ষণ মিমাংসায় জনপ্রতিনিধিরা জড়িয়ে পড়ছে এর ফলে অনেক ধর্ষক বিনা শাস্তিতে পার পেয়ে যাচ্ছে এই বিষয়টা আপনে কিভাবে দেখছেন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন,আজকে দেশ যে অবস্থায় গিয়ে দাঁড়িয়েছে প্রতিদিন আমরা পত্রিকা খুললেই দেখতে পাই ধর্ষণ, ধর্ষণ আর ধর্ষণের নিউজ।এটা কিন্তু আগে ছিলো না।কিছু বছর আগেও মা তার সন্তানের গায়ে তেল ঢেলে দিয়ে আগুন জ্বালিয়ে দিতো আবার সন্তানকে নিয়ে মা ট্রেনের নিচে ঝাপিয়ে পড়তো,ডায়রিয়া মতো মহামারি ছিলো।ধর্ষণ কি আবার এই রকম মহামারি আকার ধারন করলো নাকি।তবে পত্রিকার ভাষ্য অনুযায়ী আমি দেখলাম নোয়াখালী ঘটনায় একজন ইউপি সদস্য জড়িত ছিলো এবং একজন বয়স্ক বৃদ্ধাকে ধর্ষণ ঘটনাটি ৬০ হাজার টাকা দিয়ে একজন নারী কাউন্সিলর মিমাংসা করছে।এই যদি হয় জনপ্রতিনিধিদের ধর্ষণের বিচার তাহলে এর প্রতিরোধ করে কি পাবে প্রতিকার।আমি একজন জনপ্রতিনিধি হিসেবে এর তীব্র নিন্দা জানাই।