লকডাউন শিথিল মানে এই নয়, অপ্রয়োজনে ঘোরাঘুরি করবো: তথ্যমন্ত্রী

139

আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ও তথ্যমন্ত্রী ড. হাছান মাহমুদ জনগণকে যতদূর সম্ভব ঘরে থাকার অনুরোধ জানিয়ে বলেছেন, অদৃশ্য একটি ভাইরাসের বিরুদ্ধে আমরা যুদ্ধ করছি। আমার সুরক্ষা আমার কাছে। এটি যদি অনুধাবন করতে না পারি আরেকজনের তো জোর করে সুরক্ষা দেওয়া কঠিন। লকডাউন শিথিল করা মানে এই নয়, অপ্রয়োজনে ঘোরাঘুরি করবো, অকারণে বের হবো, জনসমাগম করবো।
বুধবার (২৭ মে) বিকেলে চট্টগ্রাম সার্কিট হাউজে করোনাভাইরাস (কোভিড-১৯) মোকাবিলায় জেলা প্রশাসন আয়োজিত সমন্বয় সভা শেষে ব্রিফিংয়ে তিনি এসব কথা বলেন।
তথ্যমন্ত্রী বলেন, অহেতুক ঘর থেকে বের হয়ে ঘোরাঘুরি করায় করোনা রোগীর সংখ্যা ইতোমধ্যে বেড়েছে। সবাইকে চিন্তা করতে হবে আমরা একটি উন্নয়নশীল দেশ। এখানে জীবন জীবিকা দুটিই রক্ষা করতে হবে। পৃথিবীর উন্নত দেশগুলো যেখানে এখনো ডজন ডজন মানুষ প্রতিদিন মৃত্যুবরণ করছে সেখানেও অনেক জায়গায় লকডাউন শিথিল করা হয়েছে। আমার সুরক্ষা যদি আমি না নিই তাহলে কাউকেতো জোর করে নেওয়ানো সম্ভব নয়। তবে অহেতুক ঘোরাঘুরি করা কোনভাবেই সমীচিন নয়।
তিনি বলেন, পৃথিবীর কোন দেশ করোনাভাইরাসের হাত থেকে মুক্ত থাকেনি। পৃথিবীর উন্নত দেশগুলো করোনা ভাইরাসের কারণে পর্যুদস্ত অবস্থা। অনেক বেশি সংখ্যক মানুষ মৃত্যুবরণ করছে। যুক্তরাষ্ট্রে যেখানে স্বাস্থ্য ব্যবস্থা এবং অর্থনৈতিক ব্যবস্থা ও ব্যবস্থাপনা আমাদের চেয়ে অনেক উন্নত সেখানে শনাক্তরোগীর ৬ ভাগ মৃত্যুবরণ করছে, যুক্তরাজ্য যেখানে মেডিকেল সায়েন্স অনেক উন্নত সেখানেও শনাক্ত রোগীর ১৪ পার্সেন্ট, বেলজিয়ামে শনাক্ত রোগীর ১৫ পার্সেন্ট, পার্শ্ববর্তী দেশ ভারতে ৩.২ পার্সেন্ট, পাকিস্তানে ২ শতাংশের বেশি। বাংলাদেশে শনাক্ত রোগীদের মধ্যে মৃত্যুর হার এখন ১ পয়েন্ট ৪ ভাগ। সরকার শুরু থেকে নানা ব্যবস্থা গ্রহণ করার কারণে মৃত্যুর হার এখনো অনেক দেশের তুলনায় কম। এটি একটি বৈশ্বিক দূর্যোগ, সবার সহযোগিতা নিয়েই আমরা এই পরিস্থিতির মোকাবেলা করতে চাই।
ড. হাছান মাহমুদ বলেন, প্রধানমন্ত্রী জননেত্রী শেখ হাসিনা সার্বক্ষণিক সমস্ত পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করছেন, যেকারণে বাংলাদেশের স্বাস্থ্য ব্যবস্থা অনেক দেশের মত ভেঙ্গে পড়েনি। অনেক দেশে স্বাস্থ্য ব্যবস্থা ভেঙ্গে পড়েছিল। পাকিস্তানেও স্বাস্থ্য ব্যবস্থাপনা ভেঙ্গে পড়েছিল। সেখোনে ডাক্তারদেরকে এরেস্ট করতে হয়েছে হাসপাতাল চালু রাখার জন্য। বাংলাদেশে সেরকম পরিস্থিতি হয়নি।
বাংলাদেশের অনেক ডাক্তার সাহসিকতার সাথে এই পরিস্থিতিতে করোনা আক্রান্তদের সেবা দিয়ে যাচ্ছেন, তাদের ধন্যবাদ ও অভিনন্দন জানান তথ্যমন্ত্রী
তিনি বলেন, মানুষের স্বাস্থ্য সুরক্ষা ও জীবন রক্ষার জন্য প্রধানমন্ত্রী যেভাবে পরিস্থিতি মোকাবেলা করছেন, একই সাথে বাংলাদেশের মতো ১৭ কোটি মানুষের একটি উন্নয়নশীল দেশে দু’মাসের বেশি সময় সারাদেশের সমস্ত কার্যক্রম প্রায় বন্ধ। দুমাস ধরে খাদ্য সহায়তা দিয়ে আসছে। এখনো একজন মানুষও অনাহারে মৃত্যুবরণ করেনি। দেশে প্রায় সাতকোটি মানুষ নানাভাবে সরকারের সহায়তার আওতায় এসেছে। এজন্য বঙ্গবন্ধু কন্যা প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ধন্যবাদ পাবার অধিকার রাখেন।
তথ্যমন্ত্রী সাংবাদিকদের অভিনন্দন জানিয়ে বলেন, করোনা ভাইরাসের মধ্যে সাংবাদিকরা সম্মুখযোদ্ধা হিসেবে সমস্ত প্রতিকুলতার মধ্যে কাজ করছে। ইতোমধ্যে দেড়শতাধিক সাংবাদিক করোনায় আক্রান্ত হয়েছে, তিনজনের বেশি সাংবাদিক মৃত্যুবরণ করেছে।
করোনা ভাইরাস মোকাবেলায় চট্টগ্রামের দায়িত্বপ্রাপ্ত স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সচিব মোস্তফা কামাল উদ্দিনের সঞ্চালনায় সভায় আরও বক্তব্য রাখেন ভুমি মন্ত্রী সাইফুজ্জামান চৌধুরী জাবেদ, আওয়ামী লীগের প্রেসিডিয়াম সদস্য ইঞ্জিনিয়ার মোশাররফ হোসেন, ওয়াসিকা আয়েশা খানম এমপি, জেলা পরিষদ চেয়ারম্যান এম এ সালাম, বিভাগীয় কমিশনার এবিএম আজাদ, জেলা প্রশাসক ইলিয়াস হোসেন, চট্টগ্রাম রেঞ্জের ডিআইজি খন্দকার গোলাম ফারুক, সিএমপি কমিশনার মাহাবুবুর রহমান, বিভাগীয় স্বাস্থ্য পরিচালক হাসান শাহরিয়ার কবির, সিভিল সার্জন সেখ ফজলে রাব্বী। এতে সিভিল প্রশাসন, স্বাস্থ্য বিভাগ, পুলিশের উর্দ্ধতন কর্মকর্তা, সেনাবাহিনীর প্রতিনিধিসহ সরকারি বিভিন্ন বিভাগের প্রতিনিধিরা অংশ নেন।