সবজির বাজার চড়া, মাছ-মাংস অপরিবর্তিত

264

শীতকাল না হলেও বর্তমান রাজধানীর বাজারগুলোতে রয়েছে পর্যাপ্ত সবজির সরবরাহ। বাঁধাকপি, ফুলকপি, গাজর, শসা, টমেটো, বেগুনসহ আরো নানান সবজি দেদারসে বিক্রি হলেও দাম কমছে না মোটেও। প্রতিদিন বেড়েই চলছে এসবের দাম। অভিযোগ, বিক্রেতারা সরবরাহ কম থাকার অজুহাত দিয়ে দাম বেশি নিচ্ছে। অন্যদিকে ঈদের পর থেকেই অপরিবর্তিত রয়েছে চাল, ডাল, ভোজ্যতেল ও ডিমের দাম।

শিমের দামের পাশাপাশি বরবটি, করলা, বেগুনসহ বেশিরভাগ সবজির দাম বেড়েছে। তবে অপরিবর্তিত রয়েছে মাছ-মাংস ও বয়লার মুরগির দাম। শুক্রবার (৩০ আগস্ট) রাজধানীর কারওয়ান বাজার, রামপুরা, মালিবাগ হাজীপাড়া, খিলগাঁও, শান্তিনগর, মিরপুর ও কচুক্ষেত বাজার ঘুরে এ তথ্য পাওয়া গেছে।

খুচরা বিক্রেতারা বলছেন, সাম্প্রতিক সময়ে উত্তরাঞ্চলে বন্যার কারণে পাইকারি বাজারে নিত্যপ্রয়োজনীয় সবজিসহ কাঁচা মালামালের সরবরাহ কমেছে। তাই দামও বেশি। অপরদিকে কয়েকসপ্তাহ ধরেই বেশ চড়া দামেই বিক্রি হচ্ছে আদা, রসুন ও পেঁয়াজ। তবে কিছুটা অপরিবর্তিত রয়েছে মাংসের বাজার। অপরিবর্তিত রয়েছে চাল, ডাল, ভোজ্যতেল ও ডিমের দাম।
বাজারভেদে শিমের কেজি বিক্রি হচ্ছে ১২০- ১৪০ টাকা, টমেটো ১০০ থেকে ১৪০ টাকা ও গাজর ৯০ থেকে ১২০ টাকা কেজি দরে বিক্রি করতে দেখা গেছে।

এছাড়া প্রতিকেজি পটল ৫০ থেকে ৬০ টাকা, ঝিঙা ৭০ থেকে ৮০ টাকা, উস্তা ৬০ থেকে ৮০ টাকা, করলা ৫০ থেকে ৬০ টাকা, কাঁকরোল ৬০ থেকে ৮০ টাকা, বেগুন ৬০ থেকে ১০০ টাকা, ঢেঁড়স ৪০ থেকে ৬০ টাকা, শসা ৭০ থেকে ১২০ টাকা, কচুরছড়া ৬০ টাকা, কচুরলতি ৬০ থেকে ৮০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে। তাছাড়া প্রতি পিস বাঁধাকপি ও ফুলকপি ৫০ থেকে ৬০ টাকা, কলা ২৫ থেকে ৪০ টাকা হালি, লাউ প্রতিপিস ৫০ থেকে ৮০ টাকা, জালিকুমড়া প্রতিপিস ৪০ থেকে ৬০ টাকায় বিক্রি করতে দেখা গেছে।

বাড়তি দামে বিক্রি হচ্ছে সব ধরনের শাক। প্রতি আঁটি লালশাক ১০ থেকে ১৫ টাকা, মুলাশাক ১৫ থেকে ২০ টাকা, লাউশাক ৩০ থেকে ৪০ টাকা, কুমড়ার শাক ২৫ থেকে ৩৫ টাকা, পুঁইশাক ২০ থেকে ৩০ টাকা ও কলমিশাক ১০ থেকে ১৫ টাকা বিক্রি করতে দেখা যায়। তবে বাজারে কিছুটা কম দামে বিক্রি হচ্ছে পেঁপে ও মিষ্টি কুমড়া। পেঁপের কেজি পাওয়া যাচ্ছে ২০-২৫ টাকায়, যা গত সপ্তাহে ছিল ৩০- ৩৫ টাকা। মিষ্টি কুমড়ার ফালি বিক্রি হচ্ছে ১৫-২০ টাকা।

এদিকে ২৫০ গ্রাম কাঁচা মরিচ বিক্রি হচ্ছে ২০-২৫ টাকায়। দেশি পেঁয়াজ বিক্রি হচ্ছে ৪৫- ৫০ টাকায়। আর আমদানি করা পেঁয়াজ বিক্রি হচ্ছে ৩৫-৪০ টাকা কেজি। ডিমের ডজন গত সপ্তাহের মতো বিক্রি হচ্ছে ১০০-১১০ টাকায়। আর সাদা বয়লার মুরগির কেজি বিক্রি হচ্ছে ১২০-১২৫ টাকায়, যা গত সপ্তাহে ছিল ১৪০-১৫০ টাকায়। তবে লাল লেয়ার মুরগি আগের মতো ২০০-২১০ টাকা কেজি বিক্রি হচ্ছে।

মাংসের দাম কিছুটা অপরিবর্তিত রয়েছে। গরুর মাংস ঈদের আগে ৬০০ টাকায় বিক্রি হলেও এখন তা ৫৫০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। একই দামে বিক্রি হতে দেখা গেছে মহিষের মাংস। খাসির মাংস বিক্রি হচ্ছে ৭০০ থেকে ৭৫০ টাকা কেজি দরে। দেশি মুরগি ৫০০ গ্রাম ওজনের প্রতি পিস ২৩০ টাকা, সোনালি মুরগি ৫০০ গ্রাম প্রতি হালি ৬০০ থেকে ৭০০ টাকা, বয়লার প্রতিকেজি ১২০ থেকে ১৩০ টাকা কেজি দরে বিক্রি করা হচ্ছে।