ভৌত অবকাঠামোর উন্নয়ন ও আইন মানার সংস্কৃতিই পারে সড়কের শৃংখলা ফেরাতে- ডিএমপি কমিশনার

325

ঢাকা মহানগরীর সড়কে শৃঙ্খলা ফেরাতে ভৌত অবকাঠামো উন্নয়নের পাশাপাশি আইন মানার সংস্কৃতির প্রয়োজন। যে পথচারী যত্রতত্র রাস্তা পারাপার হবে তাকে দুই ঘন্টা মটিভেট করতে ট্রাফিক বিভাগের প্রতি অনুরোধ জানিয়েছেন ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশ কমিশনার মোঃ আছাদুজ্জামান মিয়া বিপিএম (বার), পিপিএম।

শনিবার (৩১ আগস্ট) সকাল ১১টায় রাজারবাগ পুলিশ লাইনস অডিটোরিয়ামে ডিএমপি ট্রাফিক বিভাগ আয়োজিত ‘ঢাকা মহানগরীর বাস ব্যবস্থাপনার উন্নয়নে করনীয়’ শীর্ষক আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

ডিএমপি কমিশনার বলেন, ডিএমপি কমিশনার হিসেবে আমি গত পৌনে পাঁচ বছরে বাস মালিক-শ্রমিকদের সঙ্গে বার বার বসেছি। বেশকিছু সমস্যা চিহ্নিত করে আমরা সেগুলো থেকে উত্তরণের উপায় খুঁজেছি। কিন্তু কাঙ্খিত ফলাফল পাইনি।

তিনি বলেন, সড়কগুলোতে ভৌত অবকাঠামের উন্নয়ন হলে অনেক পরিবর্তন চলে আসবে। ঢাকা আরিচা মহাসড়কে বিভিন্ন এলাকা খুবই দূর্ঘটনাপ্রবণ ছিলো। রোড ইঞ্জিনিয়ারিংয়ের মাধ্যমে বেশ কিছু রাস্তার বাঁক সোজা করে দেওয়া হয়েছে, যার ফলে ওই সড়কে ৯৫ ভাগ দূর্ঘটনা কমে গেছে। আমাদের মহানগরীর উপর দিয়ে দূরপাল্লার গাড়িগুলো যাতায়াত করে। কয়েকটা বাইপাস হওয়ার পর কিছুটা কমেছে। ঢাকার বাস টার্মিনালগুলো বাস ডিপোতে পরিণত হয়েছে। নিয়ম অনুযায়ী বাস ডিপো নগরীর বাইরে থাকার কথা। সায়েদাবাদ ও মহাখালী বাস টর্মিনাল ঢাকা শহরের প্রাণকেন্দ্রে হওয়া সময় এসেছে শহরের বাহিরে টার্মিনাল গুলো সরিয়ে নেয়া।

সড়কে বাস বে নেই উল্লেখ করে তিনি আরো বলেন, বাস বে না থাকার কারণে গাড়িগুলো রাস্তায় দাঁড়িয়েই যাত্রী উঠানামা করছে। এ ক্ষেত্রে হাজারো জরিমানা করে পরিবর্তন আনা সম্ভব নয়। ডিএমপি ট্রাফিক বিভাগ ১৬৭ টা বাসস্ট্যান্ড চিহ্নিত করেছে। ফুটপাত দিয়ে যেন মোটরসাইকেল চলাচল করতে না পারে সেজন্য মেটাল পিলার স্থাপন করেছে ডিএমপি’র ট্রাফিক বিভাগ।

অধিকাংশ মানুষের আইন না মানার প্রবনতার কারণে পুলিশের দ্বারা আইন প্রয়োগ সম্ভব হচ্ছে না বলে মন্তব্য করে তিনি বলেন, মোবাইলে কথা বলে কিভাবে একজন সভ্য নাগরিক গাড়ি চালায়? রাস্তা পারাপারে ফুটপাথ, ওভারব্রীজ, আন্ডারপাস ও জেব্রা ক্রসিং ব্যবহার না করে পথচারীরা ঝুঁকি নিয়ে গাড়ির সামনে লাফ দিয়ে রাস্তা পারাপারে দূর্ঘটনা হলে এতে কোন ড্রাইভার দায়ী নয়। তাই আমাদের সকলের মধ্যেই আইন মানার সংস্কৃতি চালু করতে হবে।

ট্রাফিক প্রসিকিউশন ও জরিমানা আদায় সম্পূর্ণ ডিজিটাল করা হয়েছে জানিয়ে কমিশনার বলেন, আমরা বিনা কারণে হাইড্রোলিক হর্ণ ব্যবহার ও সিগন্যাল অমান্য করছি কেন? রাস্তায় শৃংখলা ফেরাতে বিভিন্ন অপরাধে গাড়ি চালকদের প্রসিকিউশন দিয়ে প্রচুর পরিমাণে জরিমানা করছি। ডিএমপি ট্রাফিক বিভাগ যেন রাজস্ব আদায়ের প্রতিষ্ঠানে পরিণত হয়েছে। কিন্তু এটি ঠিক নয়। গাড়ির মালিক-শ্রমিকদের মনে রাখতে হবে এটা শুধু ব্যবসা নয়, সেবা। পরিবহন ব্যবসায়ীদের সুনাম ফিরিয়ে আনতে কাজ করতে হবে। যত্রতত্র গাড়ি না থামানো, গাড়ির দরজা বন্ধ রাখা, বিনা কারণে হর্ন না বাজানো, শুধু আন্তরিক হলেই এসব মেনে চলা যায়। আমরা সহযোগিতা করব কিন্তু মূল উদ্যোগটা মালিক-শ্রমিকদেরই নিতে হবে। কোন দূর্ঘটনা ঘটলে ফুটেজ দেখে যদি পথচারীর গাফিলতি পাওয়া যায়, তাহলে চালকের পাশাপাশি সেই দায় পথচারীকেও নিতে হবে বলেও মন্তব্য করেন তিনি।

এ সময় আরো বক্তব্য দেন ডিএমপি ট্রাফিক বিভাগের অতিরিক্ত কমিশনার মফিজ উদ্দিন আহমেদ পিপিএম, বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন মালিক সমিতির মহাসচিব খন্দকার এনায়েত উল্লাহ প্রমুখ। আলোচনা সভায় ডিএমপির ঊর্দ্ধতন কর্মকর্তাসহ বাস মালিক-শ্রমিকরা ও নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।