পাক-ভারতকে সংযত হতে জাতিসংঘের আহ্বান

215

চলমান কাশ্মীর সঙ্কট নিরসনে প্রতিবেশী ভারত ও পাকিস্তানকে উভয়ের প্রতি সর্বোচ্চ সংযম প্রদর্শনের আহ্বান জানিয়েছে জাতিসংঘ। সীমান্তে ক্রমবর্ধমান উত্তেজনা এবং ভারত নিয়ন্ত্রিত জম্মু ও কাশ্মীরে অতিরিক্ত সেনা মোতায়েনের মধ্যেই গত রবিবার (৪ আগস্ট) সংস্থাটি এ আহ্বান জানায়।

কর্তৃপক্ষের বরাতে পাক গণমাধ্যম ‘দ্য ডন’ জানায়, পাকিস্তানের ই-মেইলে পাঠানো এক প্রশ্নের জবাবে বিষয়টি নিয়ে মন্তব্য করেছেন জাতিসংঘের মহাসচিবের মুখপাত্র স্টিফেন ডুজারিক। তার মতে, ‘বেশ কিছুদিন যাবত ভারত ও পাকিস্তান মধ্যকার নিয়ন্ত্রণ রেখায় সামরিক তৎপরতা বৃদ্ধির ঘটনা ঘটছে; এবার যা জাতিসংঘ সামরিক পর্যবেক্ষক দলের নজরে এসেছে। কোনোমতেই পরিস্থিতি যেন আরও অবনতি দিকে না যায়; সে জন্য উভয় পক্ষের প্রতি সর্বোচ্চ সংযম প্রদর্শনের আহ্বান জানাচ্ছে জাতিসংঘ।’

এ দিকে সোমবার (৫ আগস্ট) ভারত নিয়ন্ত্রিত কাশ্মীরের বাসিন্দাদের বিশেষ সাংবিধানিক অধিকার বাতিলের সিদ্ধান্ত নিয়েছে মোদী সরকার। এবার যা রাষ্ট্রপতির অনুমোদনের অপেক্ষায় আছে। যার অংশ হিসেবে এরই মধ্যে রাজ্যের বহু স্থানে অনির্দিষ্টকালের জন্য বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে মোবাইল ইন্টারনেট ও নিষিদ্ধ করা হয়েছে সব ধরনের সভা-সমাবেশ।

অপর দিকে গত রবিবার রাত থেকে সাবেক মুখ্যমন্ত্রী মেহবুবা মুফতি ও ওমর আবদুল্লাহকে গৃহবন্দি অবস্থায় রেখেছে ভারতীয় কর্তৃপক্ষ। একই কারণে নিজ বাড়িতেই প্রশাসনিক নজরদারির মধ্যে রয়েছেন স্থানীয় আরেক গুরুত্বপূর্ণ রাজনীতিবিদ ও পিপলস কনফারেন্স পার্টির চেয়ারম্যান সাজাদ লোন।

কাশ্মীরে উত্তেজনা

 কাশ্মীরের সড়কে অভিযান পরিচালনা করছেন নিরাপত্তা বাহিনীর সদস্যরা। (ছবিসূত্র : স্ক্রোল ইন)

এর আগে গত শনিবার (৩ আগস্ট) সরকারি তথ্য প্রকাশের অভিযোগে গ্রেফতার করা হয়েছে উপত্যকার এক খ্যাতনামা সাংবাদিককে। কাজি শিবলি নামে এ সংবাদকর্মী স্থানীয় এক অনলাইন পোর্টালের বার্তা সম্পাদক। তাছাড়া কাশ্মীরের সকল পর্যটকসহ আগত হাজার হাজার তীর্থযাত্রীকে এরই মধ্যে উপত্যকা ছাড়তে নির্দেশ দিয়েছে প্রশাসন। যে কারণে সকল বহিরাগতরা দ্রুত অঞ্চলটি ত্যাগ করে অন্যত্র যেতে শুরু করেছেন।

বড় ধরনের ‘সন্ত্রাসী হামলা’র আশঙ্কার কথা উল্লেখ করে রাজ্য সচিবালয়, পুলিশের সদর দপ্তর, বিমানবন্দর, বিভিন্ন কেন্দ্রীয় সরকারি দপ্তরসহ কাশ্মীরের সকল সংবেদনশীল এলাকায় কঠোর বিধি-নিষেধ আরোপ করা হয়েছে। যার অংশ হিসেবে রবিবার মধ্যরাত থেকে রাজ্যের শ্রীনগর জেলায় জারি করা হয়েছে ১৪৪ ধারা।

রাত থেকে শহরের বিভিন্ন সড়কে টহল দিতে দেখা গেছে সশস্ত্র বাহিনীদের। ব্যারিকেড দিয়ে তল্লাশি চালানো হচ্ছে শ্রীনগরের প্রবেশ ও বের হওয়ার পথে। এর আগে যেসব এলাকায় আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ করতে গিয়ে প্রশাসনকে জনগণের বাধার মুখে পড়তে হয়েছিল, এবার সেসব অঞ্চলের প্রতি বিশেষ নজর দিচ্ছে প্রশাসন।