দুর্নীতির কারণে মশা মারার ওষুধে কাজ করছে না: ফখরুল

332

দুর্নীতির কারণে মশা মারার জন্য আনা ওষুধ কাজ করছে না বলে অভিযোগ করেছেন বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর।

আজ রবিবার (৪ আগস্ট) দুপুরে জাতীয় প্রেসক্লাবে ডক্টরস অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ (ড্যাব) এর ৩০তম প্রতিষ্ঠা বার্ষিকী উপলক্ষে আয়োজিত আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন।

এ সময় মির্জা ফখরুল বলেন, স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলেছেন কতজন ডেঙ্গুতে মারা গেছে উনি বলতে পারবেন না। আবার আগে উনি বলেছেন এডিস মশা নাকি রোহিঙ্গাদের মতো। কত বড় অমানবিক হলে আমরা একজন মন্ত্রীর মুখ দিয়ে এমন কথা শুনতে পাই। আগের মশার ওষুধ আনতে তারা দুর্নীতি করেছে। এখন আবার নতুন করে আনতে দুর্নীতি করবে।

মির্জা ফখরুল আরও বলেন, সময় শেষ হওয়ার আগেই এই পার্লামেন্ট বাতিল করে একটি নিরপেক্ষ নির্বাচনের ব্যবস্থা করুন। অন্যথায় এই দেশের জনগণ জানে কিভাবে এই সরকারে পরাজিত করতে হয়।

বিএনপির মহাসচিব বলেন, আমরা অত্যন্ত কঠিন একটি সময় পার করছি। এত বড় কঠিন সময় হয়তো বাংলাদেশে কখনোই আসেনি।

বিএনপির মহাসচিব আরও বলেন, আমার কাছে মনে হয় ১৯৭১ সালে যখন মুক্তিযুদ্ধ শুরু হয় তার আগের মুহূর্তেও আমারা এতো অসহায় বোধ করেনি। তখন সামনে স্বপ্ন ছিলো, আমাদের একটা শক্তি ছিলো, জনগণের মধ্যে এবং রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যে একটি ঐক্য ছিলো। এখন মনে হচ্ছে সমস্ত কিছু ভেঙে তছনছ করে দেওয়া হয়েছে। ১৯৭১ সালে স্বাধীনতা যুদ্ধে আমাদের যা কিছু অর্জন এবং আমরা যে স্বাধীন সার্বভৌমত্ব ও গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রের স্বপ্ন দেখেছিলাম সেই স্বপ্ন গুলোকে ভেঙে ধূলিসাৎ করে দেয়া হয়েছে।

মির্জা ফখরুল বলেন, ১৯৯০ সালে আমরা হারিয়ে যাওয়া গণতন্ত্রকে সংগ্রাম করে ফিরিয়ে নিয়ে আসছিলাম সেই ফিরিয়ে আনা গণতন্ত্রকেও কিন্তু আমাদের কাছ থেকে কেড়ে নেয়া হয়েছে। এখন যে একটি ভয়াবহ পরিস্থিতি বিরাজ করছে একটি দানবীয় শক্তি যারা গণতন্ত্র বিশ্বাস করো না, জনগণের মৌলিক অধিকারে বিশ্বাস করে না, যারা জনগণের স্বাধীনতা বিশ্বাস করে না এবং আমাদের বাংলাদেশ যে স্বাধীন সার্বভৌমত্ব দেশ সেটা সম্পূর্ণ ভাবে বিপন্ন করে ফেলেছে। এরকম একটি কঠিন অবস্থা আমাদের মাঝে বিরাজ করছে।

তিনি আরও বলেন, ১৯৭২ সালে এদেশের মানুষ যে সংবিধান তৈরী করেছিলো সেই সংবিধানের প্রতিটি অংশকে কেটে ছিন্নবিচ্ছিন্ন করে দেয়া হয়েছে। আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় দীর্ঘদিন টিকে থাকার জন্য তাদের নিজেদের স্বার্থে সেই সংবিধানকে জলাঞ্জলি দিয়ে তাদের মতো করে সংবিধান তৈরী করেছে।

মির্জা ফখরুল বলেন, আমরা কিন্তু ভুলে যাইনি ১৯৭২ সালেই এ দলটি একদলীয় শাসন ব্যবস্থা কায়েম করেছিলো। আমরা ভুলে যাইনি ১৯৭৫ সালে এই দলটিই মাত্র চারটি পত্রিকা রেখে সকল পত্রপত্রিকা বন্ধ করে দিয়েছিলো। তখন সব রাজনৈতিক দলকে নিষিদ্ধ করা হয়েছিলো। জনগনের সকল মৌলিক অধিকার কেড়ে নেয়া হয়েছিলো। আজকে ভিন্ন আঙ্গিকে গণতন্ত্রকে একটি লেবাস পরিয়ে দিয়ে আবার তারা একদলীয় শাসন ব্যবস্থাই চালু করেছে। এরকম পরিস্থিতিতে যখন আমাদের সকল অর্জনগুলো ধ্বংস হয়ে যাচ্ছে, যখন আমাদের সকল পথ বন্ধ হয়ে যাচ্ছে তখন আমরা বাংলাদেশের মানুষ যারা গণতন্ত্রে বিশ্বাস করে তাদেরকে স্তব্ধ করে দেয়া হচ্ছে তখন আমরা কি করতে পারি? আমরা যেটা করতে পারি সেটা হলো আমরা জনগনকে ঐক্যবদ্ধ করার চেষ্টা করছি। কারণ জনগনই একমাত্র পারেন এই অবস্থা থেকে দেশকে, রাষ্ট্রকে, জাতীকে মুক্তি দিতে।