February 2, 2023, 12:44 am

চেয়ারম্যানের অনিয়মের প্রতিবাদে ইউপি কার্যালয় ঘেরাও

নিজস্ব প্রতিনিধি
  • আপডেট সময় Sunday, September 18, 2022
  • 150 বার পড়া হয়েছে

 

 

ব্রাহ্মণবাড়িয়ার সরাইল উপজেলার পাকশিমুল ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যানের বিরুদ্ধে অনিয়মের অভিযোগ তুলে ইউনিয়ন পরিষদ কার্যালয় ঘেরাও করে বিক্ষোভ করেছে এলাকাবাসী। রোববার (১৮ সেপ্টেম্বর) দুপুরে তারা এ কর্মসূচি পালন করেন। এসময় ইউনিয়ন পরিষদের সব সদস্যরা তাদের সমর্থন দেন।
রোববার দুপুরে পাকশিমুল বাজার থেকে বিক্ষোভকারীরা ইউনিয়ন পরিষদের দিকে মিছিল নিয়ে এগিয়ে যান। ইউনিয়ন পরিষদের সামনে তারা মানববন্ধন করতে চাইলে পুলিশ বাধা দেয়। ওই সময় পুলিশ বিক্ষোভকারীদের হাতে থাকা ব্যানার ছিনিয়ে নেয়। পরে পুলিশি বাধা পেড়িয়ে তারা ইউপি কার্যালয়ের সামনে বসে অবস্থান কর্মসূচি পালন করেন। এতে প্রায় পাঁচ শতাধিক লোকজন অংশ নেন।
জয়দরকান্দি গ্রামের মাহবুবুর রহমান, পরমানন্দপুরের কাশেম মিয়া, পাকশিমুল গ্রামের সাবেক মেম্বার আব্দুল মোতালেব ও হাফিজ উদ্দিন দাবি করেন, নির্বাচিত হওয়ার আগে চেয়ারম্যান অনেক ওয়াদা করেছিলেন। কিন্তু এখন তিনি টাকা ছাড়া কোনো কাজ করেন না। কোনো কাজের জন্য গেলে গালিগালাজ করে বের করে দেন।

৭, ৮ ও ৯ নম্বর ওয়ার্ডের সংরক্ষিত নারী সদস্য জুর বানু বেগম বলেন, ইউপি চেয়ারম্যান কাউসারের অনিয়ম চরম পর্যায়ে পৌঁছেছে। তার অনিয়ম থেকে রক্ষা পায় না ইউপি সদস্যরাও। তিনি টাকা ছাড়া কোনো সনদ দেন না। আমার বোনের ছেলের নাগরিকত্ব সনদপত্রে জন্য ৩০ হাজার টাকা চেয়ারম্যানকে দিতে হয়েছে। আমাদের জনগণ ভোট দিয়ে জনপ্রতিনিধি বানিয়েছে। তাদের কাছে আমরা মুখ দেখাতে পারি না।

৭, নম্বর ওয়ার্ড সদস্য শরীফ উদ্দিন বলেন, আমার ছেলের জন্ম নিবন্ধন পেয়েছি পাঁচ মাসে, ভাতিজা পেয়েছে ছয় মাস পর। বিষয়টি ইউএনও সাহেবকে বলার পর একদিন পরই পেয়ে যাই। চেয়ারম্যান কাউসার হোসেন বিনা রশিদে বিভিন্ন সুবিধাভোগীদের কাছ থেকে অতিরিক্ত অর্থ আদায় করেন।

তিনি বলেন, টিউবওয়েল বিতরণে অতিরিক্ত অর্থ নেন। বিভিন্ন বিষয়ে ইউপি সদস্যদের সঙ্গে কোনো পরামর্শ করেন না। এছাড়া তিনি বিভিন্ন প্রকল্পের অর্থ আত্মসাৎ করেছেন। বিষয়গুলো উল্লেখ করে আমরা ইউএনও বরাবর অভিযোগ দিয়েছি।

মিছিলে বাধা দেওয়ার বিষয়ে জানতে চাইলে সরাইল থানার উপ-পরিদর্শক (এসআই) মো. বাবুল বলেন, মিছিল বা কোনো ধরনের কর্মসূচি পালনের অনুমতি নেই। তাই ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তার নির্দেশে মিছিল করতে দেওয়া হয়নি।

এ বিষয়ে অভিযুক্ত ইউপি চেয়ারম্যান কাউসার হোসেনের বক্তব্য জানতে চাইলে তিনি কোনো মন্তব্য করেননি।

সরাইল উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) আরিফুল মৃদুল বলেন, আমরা ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যানের বিরুদ্ধে একটি অভিযোগ পেয়েছি। বিষয়টি তদন্ত করে দেখছি। দোষী প্রমাণিত হলে তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

এর আগে গত ১১ সেপ্টেম্বর ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান কাউসার হোসেনের বিরুদ্ধে অনাস্থা দেন তার পরিষদের ১২ সদস্য (মেম্বার)। উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার (ইউএনও) কাছে এ বিষয়ে লিখিতভাবে জানিয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে দাবি তুলেছেন মেম্বাররা।

মোঃ মনির হোসেন
ব্রাহ্মণবাড়িয়া প্রতিনিধিঃ

নিউজটি শেয়ার করুন

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এ জাতীয় আরো খবর